Main Menu

সিলেটের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ২২ সুপারিশ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ২২টি সুপারিশ উল্লেখ করেছেন এ খাতের এক বিশেষজ্ঞ। সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএমসিসিআই) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এই সুপারিশগুলো তুলে ধরেন তিনি।

সোমবার দুপুরে নগরীর জেলরোডস্থ আনন্দ টাওয়ারে এসএমসিসিআই-এর হলরুমে ‘সিলেট বিভাগের অর্থনৈতিক উন্নয়ন রোডম্যাপ: সম্ভাবনা ও চাহিদা’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির ১ম সহসভাপতি শফিউল আলম নাদেলের সভাপতিত্বে বৈঠকে কি-নোট পেপার (মূল প্রবন্ধ) উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোছাদ্দেক আহমদ চৌধুরী।

অধ্যাপক মোছাদ্দেক সিলেট বিভাগের চারটি জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কতোগুলো সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন। শুধুমাত্র সিলেট জেলার জন্য ২২টি সুপারিশ রয়েছে তাঁর উপস্থাপিত কি-নোট পেপারে।

এ সুপারিশগুলো হলো- প্রবাসীদের রেমিটেন্স শিল্পোন্নয়নে কাজে লাগানো, জাকাতের টাকার সঠিক ব্যবস্থাপনা, ভারতের সেভেন সিস্টার্সের সাথে বাণিজ্য জোরদার, পর্যটনে গুরুত্ব, শিল্প কারখানা স্থাপন, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা, পোল্ট্রি ফাম, ফিশারি ও পশুপালনে গুরুত্ব, ক্লাস্টার ভিত্তিক ব্যবসা সম্প্রসারণ, ইকোপার্ক এবং চিড়িখানা ও সাফারি পার্কে গুরুত্ব, বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, কল সেন্টার গড়ে তোলা, তথ্য প্রযুক্তি খাতে গুরুত্ব, শুঁটকি শিল্পের বিকাশ, এসএমই ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকতা, সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সড়ক প্রশস্থকরণ, নিরাপদ খাবার পানির অপ্রতুলতা দূরীকরণ, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার এবং নদীপথ সংস্কার করা।

এসব সুপারিশমালার মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের মোট রেমিটেন্সের একটি বড় অংশ আসে সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের মাধ্যমে। এ রেমিটেন্স সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে শিল্পোন্নয়নে কাজে লাগাতে পারলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন গতিশীল হবে বলে মনে করছেন তারা।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৭টি রাজ্য হচ্ছে আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম, মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল। ভৌগোলিক কারণে এ রাজ্যগুলোর সাথে ভারতের মূল ভূখ-ের যোগাযোগব্যবস্থা কঠিন। বিপরীতে সিলেটের সাথে এসব রাজ্যের যোগাযোগব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে সহজ। সিলেটের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে এসব রাজ্যে বেশকিছু পণ্য রফতানি করা হয়। সিলেটে স্পেশাল ইকোনোমিক জোন দ্রুত স্থাপন করে এসব রাজ্যে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার আরো সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সিলেট। বেশকিছু আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে সিলেটে। পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রদান, পরিবেশ দূষণ রোধ, উন্নতমানের হোটেল নির্মাণ, যানজট দূর করা সম্ভব হলে সিলেটের পর্যটন থেকে আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব।

বিসিকের দুটি শিল্প এলাকা রয়েছে সিলেটে। এ শিল্প এলাকাগুলোর সমস্যা দূর করা গেলে সিলেটের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়া ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে ঘিরে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ খাতকে পুনরুজ্জীবিত করে এ অঞ্চলের কর্মসংস্থান ও জীবনমানের উন্নয়ন করা সম্ভব।

অধ্যাপক মোছাদ্দেক আহমদ চৌধুরীর প্রস্তাবিত সুপারিশে বলা হয়েছে, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে নির্মাণাধীন হাইটেক পার্কের কাজ শেষ হলে এখানে ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যা এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এখনও পিছিয়ে আছে সিলেট। সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত হয়নি এখনও। এছাড়া এ অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থাও উন্নত নয়। সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে সিলেট।

গোলটেবিল বৈঠকে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী, গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলী, সচেতন নাগরিক কমিটি সিলেটের সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তাপস দাশ পুরকায়স্থ, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আল আজাদ, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেট শাখার সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী, আটাব সিলেট জোনের সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল, সময় টিভির বিশেষ প্রতিনিধি ইকরামুল কবির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Share





Related News

Comments are Closed