সামান্য বৃষ্টিতেই সিলেট নগরীতে জলাবদ্ধতা
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার দুপুরে কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতেই সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।
বৃষ্টির পানিতে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের লন্ডনি রোড থেকে মদীনা মার্কেট এলাকা একেবারে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও সিলেট নগরীর নয়াসড়ক, ছড়ারপাড়, পুরানলেন, শেখঘাট, ঘাসিটুলা, কলাপাড়া, ভাতালিয়া, উপশহরসহ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃষ্টি হলেই সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের নগরীর ভেতরের এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। মূলত এই সড়কের পাশের ড্রেন ছোট হওয়ার কারণে পানি নামতে সময় লাগে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এই জলাবদ্ধতা নিরশনে গত বছর সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ছয় কোটি টাকার টেন্ডার করা হয় ড্রেনের কাজ করানোর জন্য। বর্তমান ড্রেনের চেয়ে আকারে বড় করে লন্ডনীরোডের মুখ থেকে মদিনা মার্কেট হয়ে ধোপাচড়া পর্যন্ত নেওয়ার কথা।
তবে ৬ মাস আগে এই ড্রেনের কাজ শুরু হলেও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই কাজের। ঈদুল ফিতরের আগে কিছু কাজ করা হলেও ঈদের পর এই কাজে আর হাত দেওয়া হয়নি।
সিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে এক ঠিকাদার দিয়ে ৩ টি প্রকল্পের কাজ করানো হচ্ছে তাই ধীর গতিতে কাজ হচ্ছে। এই কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরো ৯ মাস সময় আছে। তাছাড়া বৃষ্টি শুরু হয়ে যাওয়ায় এখন কাজ করা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার বিকালে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কে লন্ডনীরোড এলাকায় জলাবদ্ধতার ফলে সুবিদবাজার থেকে মদিনা মার্কেট পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এসময় সড়কের উভয় পাশে প্রায় দুশতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। বৃষ্টিতে লন্ডনীরোডে জলাবদ্ধতায় পরে ইঞ্জিনে পানি ডুকে গাড়ি, সিএনজি অটোরিক্সা, মটরবাইক পথিমধ্যে বিকল হয়ে পড়ে। এসব দেখে অনেক চালক সিএনজি অটোরিক্সা নষ্ট হবার ভয়ে লাভলী রোড মোড়ে এসে গাড়ি ঘুরিয়ে নেয়। এসব কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। এসময় অনেক যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে বিকল সিএনজি অটোরিক্সাকে ধাক্কা দিয়ে চালকদের সাহায্য করেন।
সিএনজি চালক মো. রহমত আলী বলেন, প্রায় ১০ বছর যাবত সিএনজি চালাই। প্রতি বছরই বৃষ্টির সময় এই রাস্তায় জলাবদ্ধতা। সারা শহরের কোথাও জলাবদ্ধতা না থাকলেও এখনে থাকে। বৃষ্টির দিনে এই রোডটা আমাদের জন্য ভয়ানক হয়ে উঠে। কারণ সিএনজি নিয়ে গেলেই ইঞ্জিনে পানি ডুকে নষ্ট হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইলিয়াছুর রহমান বলেন, এই রাস্তার পাশের ড্রেন ছোট হওয়ার কারণে পানি নামতে সময় লাগে। ইতোমধ্যে ড্রেন বড় করার জন্য কাজ শুরু হয়েছে। এখন বৃষ্টির সময় তাই কাজ বন্ধ আছে। আশা করি এই ড্রেন বড় হলে আর এই জলাবদ্ধতা থাকবে না।

এদিকে, সিলেট নগরীর ১৫নং ওয়ার্ডের জিন্দাবাজারের পুরানলেনের গলিতে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে রাস্তা সহ পাশের বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে অসহনীয় অবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় জনদূর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মহানগর এলাকায় জনসাধারণের সুবিধার্থে বক্স ড্রেন নির্মাণ করা হলেও দূর্ভোগ আগের চেয়ে আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তিন তারা বিপনীর নিচে ঘন ঘন পাকা পিলার থাকার ফলে পানি নিস্কাশন না হওয়ায় দূর্ভোগ পোহাচ্ছে এখন সাধারণ মানুষ। অপরিকল্পিতভাবে বক্স কার্লভার্ট নির্মাণের ফলে ময়লা আবর্জনা জমে পানি নিস্কাশনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে বার বার অবহিত করার পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
বুধবার দুপুরে পাঠানটুলা-মদিনা মার্কেট এলাকার জলাবদ্ধতা পরিদর্শনে যান সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ওই এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
Related News
সিলেট আলিয়া মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ ২৫ জুলাই
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রঘোষিত কর্মসুচীর অংশ হিসেবে আগামী ২৫ জুলাই বেলা ২টায়Read More
টিলাগড় ক্লাবের উদ্বোধন
Manual2 Ad Code ডেস্ক রিপোর্ট: সিলেটের ঐতিহ্যবাহী টিলাগড় ক্লাবের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং সামাজিকRead More



Comments are Closed