Main Menu

সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক বন্ধ, যাত্রী দূর্ভোগ চরমে

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট–ঢাকা মহাসড়কের ব্রাক্ষনবাড়িয়ার শাহবাজপুর সেতুর রেলিং ভেঙে যাওয়ায় গত ৬দিন ধরে সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সিলেট থেকে রাজধানী ঢাকায় যেতে হচ্ছে বিকল্প গ্রামীণ সরু রাস্তা দিয়ে। এতে কর্মঘন্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পথে পথে দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। এ কারণে বাস ছেড়ে ট্রেনে ঝুকছেন ঢাকাগামী যাত্রীরা। ফলে যাত্রীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সিলেট রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

গত মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকালে সেতুর রেলিং ভেঙে পড়ে। এরপরই সিলেট-ঢাকা সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে ছোট অটোরিকশা চলাচল করছে।

রোববার দুপুরে সিলেট রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার যাত্রী ঢাকায় যেতে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে অনেকে টিকিট নিতে পারছেন, অনেকে পারছেন না। অনেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন।’

সকালে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া কালনি এক্সপ্রেস, জয়ন্তিকা ও দুপুরে পারাবতে যাত্রীদের চরম ভিড়ছিল। স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে অনেক যাত্রীকে ট্রেনে ওঠতে দেখা গেছে। আবার জীবনের ঝুঁকি নিয়েও অনেকে ট্রেনের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে ছুটতে দেখা গেছে।

সাইদুর রহমান নামের এক যাত্রী বলেন, ‘এমনিতেই টিকিট পাওয়া খুব কষ্টকর। তার ওপর মহাসড়কে ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় ট্রেনে চাপ বেড়েছে। সকাল ৭টায় এসে ঢাকায় ছেড়ে যাওয়া পারাবত ট্রেনের টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু কাউন্টারের সামনে আসলে বলা হয় টিকিট নেই। পরে বাধ্য হয়ে স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে ঢাকায় ফিরছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে দ্বিগুণ দামে দালালের কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহ করেন। আমিও কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এক দালাল আমাকে টিকিট দেবে বলে পরে আর দেয়নি।’

সিলেট রেল স্টেশনের সহকারী মাস্টার রাসেল আহমদ বলেন, ‘মহাসড়কের সেতু ভেঙে যাওয়ায় সাধারণযাত্রী থেকে শুরু করে ভিআইপিরাও ট্রেনে করে গন্তব্যে যেতে স্টেশনে ভিড় করছেন। কিন্তু সবাইকে টিকিট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই অনেকে টিকিট না পেলে স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন।’

এদিকে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর থাকা জরাজীর্ণ সেতুর একাংশ ভেঙে যাওয়ার ৬দিন পরও সেতুটির মেরামত কাজ শেষ হয়নি।

সিলেটের সঙ্গে ঢাকার বাস, ট্রাক সরাসরি চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলাসহ জেলায় প্রায় শতাধিক নামীদামী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য ডেলিভারি যেমন বন্ধ রয়েছে, তেমনি কাঁচামালও সময় মতো পৌঁছাচ্ছে না।

এ কারণে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন অনেক কমে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণ সামগ্রী বালু, রড, সিমেন্ট না পৌঁছানোয় নির্মাণ কাজ আটকে রয়েছে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সূত্রে জানা গেছে, এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে কয়েক কোটি টাকা।

ভুক্তভোগী অনেকে বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এটিকে সেভাবে গুরুত্ব দিলে এতটা সময় লাগার কথা ছিল না। উন্নত দেশ হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সমাধান হয়ে যেত।

তারা বলেন, যদি প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন তাহলে দেখা যাবে রাতারাতি ভালোভাবে সমাধান হয়ে যাচ্ছে। এটিই হল কঠিন বাস্তবতা।

মাধবপুর উপজেলার একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার সঙ্গে সিলেটের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় গত চার দিন কাঁচামাল নিয়ে কোনো গাড়ি কারখানায় প্রবেশ করতে পারেনি। এছাড়া নির্মাণ সামগ্রী বালু, রড ও সিমেন্ট না আসাতে কোনো কোনো ফ্যাক্টরির নির্মাণ কাজও আটকে আছে। ফ্যাক্টরির কাজের বালু আশুগঞ্জ থেকে আনতে হয়। শাহবাজপুর এলাকার সেতুর রেলিং ভাঙার কারণে বালুবাহী অনেকগুলো ট্রাক রাস্তায় আটকা পড়েছে।

একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার জানান, কয়েকজন বিদেশি বিশেষজ্ঞ তাদের কারখানা পরিদর্শনে আসার কথা ছিল। কিন্তু সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তারাও আসতে পারেনি। মাঝপথ থেকে ফিরে গেছেন। এতে করে কোম্পানির কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরাসরি ঢাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এলসির বিপরীতে ডেলিভারি দেয়া যাচ্ছে না। ডেলিভারি সময় মতো না হওয়াতে বায়াররা ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে অনেক কোম্পানির এলসির মালামাল আটকা পড়েছে। এগুলো সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত আনা সম্ভব হবে না।

অপরদিকে মাধবপুর থেকে চান্দুরা ও শাহবাজপুর নৌ যোগাযোগ চালু হয়েছে। অনেক যাত্রী মাধবপুর সদর থেকে সোনাই নদী দিয়ে নৌপথে শাহবাজপুর সেতু পার হয়ে ঢাকার গাড়িতে উঠছেন। বিকল্প পথ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর-সরাইল ও হবিগঞ্জের লাখাই-হবিগঞ্জ সড়ক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের চান্দুরা-আখাউড়া সড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। এতে যানবাহনে থাকা যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

সেতুটি মেরামত কাজও হচ্ছে ধীরগতিতে। এতে ক্ষুব্ধ এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। পাশাপাশি আটকে আছে শত শত পণ্যবাহী গাড়ী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছতে পারছে না এই সব পণ্যবাহী গাড়ি।

গাড়ির চালক সূত্রে জানা যায়, সেতুর মেরামত কাজ করা হচ্ছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। যেতে দেয়া হচ্ছে শুধু হালকা যানবাহনকে। এদিকে সরু ও আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে মহাসড়কের প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর-সরাইল ও হবিগঞ্জে লাখাই-হবিগঞ্জ সড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিশ্বরোড থেকে নাসিরনগরের ধরন্তিঘাট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের চান্দুরা-আখাউড়া আঞ্চলিক সড়কের বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা থেকে হবিগঞ্জের মাধবপুর পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। উভয়সড়কেই অত্যন্ত ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন জানান, সেতুটি মেরামতের কাজ চলছে। আশা করি ১০-১১ দিনের মধ্যে মেরামত কাজ শেষ হবে।

সিলেটের সঙ্গে ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকার সুযোগে যেসব যাত্রী অতি জরুরি কাজে বিকল্প পথে ঢাকা যাচ্ছেন কিংবা ঢাকা থেকে সিলেটে আসছেন তাদের কাছে থেকে পরিবহন শ্রমিকদের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খাটিহাতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হোসেন সরকার জানান, সীমিত আকারে ছোট যানগুলো সেতু দিয়ে চলাচল করছে। গত মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর থাকা পুরনো ও জরাজীর্ণ সেতুটির পূর্ব দিকের রেলিং ভেঙে সেতুর একাংশসহ নদীতে পড়ে যায়। এরপর থেকে সেতুটির উপর দিয়ে ভারি এবং মাঝারি আকারের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

0Shares





Related News

Comments are Closed