কৃষকের গলার কাঁটা জমাটবাঁধা ইউরিয়া!
তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে বিসিআইসির অনুমোদিত সার ডিলারদের বিরুদ্ধে অনিময় ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অধিক মুনাফার আশায় তারা জমাট বাঁধা ও গুনগতমাণ (নস্ট) কমে যাওয়া ইউরিয়া সার বিক্রি করে কৃষকের সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলেও কৃষকদের অভিযোগ। কৃষকরা এসব সার কিনে প্রতারিত হচ্ছেন।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাঘাবাড়ী নৌবন্দর ও রাজশাহী বাফার গুদামে দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নীচে পড়ে থাকা এসব ইউরিয়া সার জমাট বেঁধে যাওয়ায় সারের গুনাগুনের স্থায়িত্ব কমে গেছে। কিন্ত বিসিআইসির এসব ডিলার বিভিন্ন কৌশলে কৃষকদের এসব সার কিনতে বাধ্য করছে। আনুঃপাতিক হারে এসব ইউরিয়া সার না কিনলে অন্যান্য সার কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে না বলেও কৃষকরা অভিযোগ করেছেন। ফলে এসব ইউরিয়া সার গুনগত মানসম্পন্ন নয় জেনেও কৃষকরা বাধ্য হয়ে কিনছেন।
এবার বোরো মৌসুমে ডিলারদের কাছ থেকে এসব জমাটবাঁধা ইউরিয়া সার কিনে জমিতে প্রয়োগ করার পর কোন কাজেই লাগেনি।
তানোরের চান্দুড়িয়া ইউপির চান্দুড়িয়া উপরপাড়ার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, তারা মেসার্স জামান ট্রেডার্স থেকে ডিএপি ও পটাশ সার কিনতে গেলে এসব সারের সঙ্গে তাদের আনুঃপাতিক হারে জমাট বাঁধা এসব ইউরিয়া সার কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। অথচ এসব ইউরিয়া সার ফসলের জমিতে প্রয়োগ করে কোনো উপকারে আসেনি।
তানোরের পাঁচন্দর এলাকার কৃষক হাবিবুর রহমান (৪৫) অভিযোগ করে বলেন, তানোর পৌর এলাকার মেসার্স সুমন ট্রেডার্স থেকে তিনি এসব ইউরিয়া (জমাটবাঁধা) কিনে ফসলের জমিতে প্রয়োগ করে ফসলের কোনো কাজে লাগেনি। তিনি কড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মূখে পড়েছেন। তিনি বলেন, একদিকে জমাটবাধা ইউরিয়া অন্যদিকে নিম্নমাণের বালাইনাশক দুই মিলে বোরো মৌসুম জুড়েই কৃষকরা চরম বিপাকে পড়ে আছে।
তানোরের কামারগাঁ ইউপির বাতাসপুর, মালশিরা, বিহারইল ও জমশেদপুর গ্রামের একাধিক কৃষক বলেন, তারা কামারগাঁ বাজারের ডিলার বিকাশ কুমারের কাছে থেকে জমাটবাঁধা ইউরিয়া সার কিনে প্রতারিত হয়েছেন। কিন্ত প্রতিবাদ করতে পারছেন না প্রতিবাদ করলেই তাদের কাছে আর সার বিক্রি করা হবে না এই ভয়ে। তারা আরো বলেন, বিকাশ কুমার সভাপতি হবার পর থেকেই জমাটবাঁধা ইউরিয়া সার বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে।
তবে ডিলার বিকাশ কুমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কৃষকদের এগুলো মনগড়া কথা যার কোনো ভিত্তি নাই।
কৃষক সুত্র জানায়, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী নৌবন্দর ও রাজশাহী বাফার গুদামের বাইরে দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নীচে পড়ে থাকায় এসব সার জমাট বেঁধে যাওয়ায় এসব সারের গুনাগুনের স্থায়িত্ব কমে গেছে। যে কারণে এসব সার কৃষকের কোন উপকারেই আসছে না।
বিসিআইসির এক ডিলার বলেন, বাফার এসব জমাট বাধা ইউরিয়া সার উত্তোলন করে আমরা নিজেরাও গ্রাহকদের কাছে লজ্জিত। নিম্নমানের ও গুণগতমাণ কমে যাওয়ায় এসব সার কৃষকরা সহজে নিতে চাচ্ছে না। আবার নিলেও পরক্ষনেই এসে নানা প্রশ্নবানে জর্জরিত করছে। তিনি বলেন, বাফার লেবার, গুদাম ও বিসিআইসির একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারির সমন্বয়ে গঠিত সক্রিয় একটি সিন্ডিকেট চক্র বস্তাপ্রতি আনুঃপাতিক হারে উৎকোচ না পেলে বিভিন্ন কৌশলে তারা ডিলারদের জমাট বাঁধা সার নিতে বাধ্য করছে। রাজশাহী বাফার গুদামের জমাটবাধা এসব ইউরিয়া সার জমাট ভেঙে আবার নতুন ব্যাগে রিপ্যাক করে ডিলারদের গছানো হচ্ছে।
তানোরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিআইসির এক ডিলার বলেন, জমাট বাঁধা সারগুলোর সত্যই গুণগতমাণ কম, অনেকদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় এসব সারের গুনাগুন কমে গেছে। তিনি বলেন, আমরা নিজেরাও এসব জমাট বাধা সার তুলতে চাই না। কিন্ত লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েই আমাদের এসব সার উত্তোলন করতে হচ্ছে।
এব্যাপারে তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ইউরিয়া সারের বিষয়ে সুনিদ্রিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, এসব সারের বিষয়ে কৃষকের কাছে থেকে তিনি এখানো কোনো অভিযোগ পাননি।
এব্যাপারে রাজশাহী বাফার গোডাউন ইনচার্জ বলেন, সর্বশেষ মাস ছয়েক আগে এগুলোর মাণ পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতেই প্রমাণিত এগুলো এখানো ব্যবহার উপযোগী আছে। এ সারগুলো বস্তায় ভরে কিছু কিছু করে ডিলারদের দেয়া হচ্ছে।
Related News
পত্নীতলায় ৮১৭ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দম্পতি আটক
Manual2 Ad Code মহসিনা ফেরদৌস, পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: পত্নীতলায় পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে শনিবার (২৯Read More
নদীতে গোসল করতে নেমে পাঁচ শিশুর মৃত্যু
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরচাকলা গ্রামে শুক্রবারের দুপুরটা অন্য দিনেরRead More



Comments are Closed