Main Menu

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা আজ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আজ শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক মহামতি গৌতম বুদ্ধের জন্মদিন আজ। এই একই দিনে তিনি সিদ্ধিলাভ আর মহাপ্রয়াণ লাভ করেছিলেন।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পবিত্রতম উৎসব। বৈশাখের পূর্ণিমা তিথিতে এই পুণ্যোত্সবে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরা স্নান করেন, শুচিবস্ত্র পরিধান করে মন্দিরে মন্দিরে বুদ্ধের বন্দনায় রত থাকেন। অর্চনার পাশাপাশি তারা পঞ্চশীল, অষ্টশীল, সূত্রপাঠ, সূত্রশ্রবণ, সমবেত প্রার্থনা করেন।

সারাবিশ্বের বুদ্ধ অনুসারী কোটিকোটি ভক্ত আজ বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভক্তিতে পালন করবে দিনটি। বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যে উদযাপন করবে পবিত্র দিবসটি।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উপলক্ষে দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন। আজ সরকারি ছুটি।

বাণীতে তারা ‘‘শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মৈত্রীময় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, মহামতি বুদ্ধ একটি সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় আজীবন সাম্য ও মৈত্রীর বাণী প্রচার করে গেছেন। ‘অহিংস পরম ধর্ম’ বুদ্ধের এই অমিয় বাণী আজও সমাজে শান্তির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে এ দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় গৌতম বুদ্ধের আদর্শ ধারণ করে জ্ঞান, মেধা, কর্মদক্ষতা ও কৃতিত্বে নিজেদের আরও ঊর্ধ্বে তুলে ধরবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বৌদ্ধ ধর্মমতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের কপিলাবস্তু নগরীর রাজা শুদ্ধধন এর ছেলে ছিলেন সিদ্ধার্থ(গৌতম বুদ্ধ)। খ্রিস্টের জন্মের ৫৬৩ বছর আগে এক শুভ বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে লুম্বিনি কাননে (নেপাল) জন্ম নেন সিদ্ধার্থ(গৌতম বুদ্ধ)। তার জন্মের ৭ দিন পর মা রানি মহামায়া মারা যান।

সে সময় জনৈক কপিল নামক সন্ন্যাসী কপিলাবস্তু নগরীতে আসেন। তিনি সিদ্ধার্থকে দেখে ভবিষ্যৎবাণী করেন যে, সিদ্ধার্থ ভবিষ্যতে হয় চারদিকজয়ী রাজা হবেন। নয়তো একজন মহামানব হবেন। মা মারা যাবার পর সৎ মা মহাপ্রজাপতি গৌতমী তাকে লালন-পালন করেন। তাই তার অপর নাম হয় গৌতম। ছোটবেলা থেকেই সিদ্ধার্থ সব বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। কিন্তু সিদ্ধার্থ সংসারের প্রতি উদাসীন ছিলেন বলে তাকে সংসারী করানোর জন্য ১৬ বছর বয়সে রাজা শুদ্ধধন যশোধরা মতান্তরে যশোদা বা গোপা দেবী নামক এক সুন্দরী রাজকন্যার সঙ্গে বিয়ে দেন। সেই ঘরে তার রাহুল নামে একটি ছেলে হয়।

মানুষের জীবনের দুঃখের কারণ খুঁজতে গিয়ে ২৯ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করেন বুদ্ধ। দীর্ঘ ৬ বছর কঠোর সাধনার পর তিনি বুদ্ধগয়া নামক স্থানে একটি বোধিবৃক্ষের নিচে বোধিজ্ঞান লাভ করেন। সবার আগে বুদ্ধ তার ধর্ম প্রচার করেন পঞ্চ বর্গীয় শিষ্যের কাছে। তারা হলেন কৌন্ডিন্য, বপ্প, ভদ্দিয়, মহানাম ও অশ্বজিত। এরপর দীর্ঘ ৪৫ বছর বুদ্ধ ভারতের বিভিন্ন স্থানে তার বৌদ্ধ ধর্মের বাণী প্রচার করেন। এবং তার প্রচারিত বাণী ভারত ছাড়াও অন্যান্য দেশে ও দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে খ্রিস্টের জন্মের ৪৮৩ বছর আগে কুশীনগর নামক স্থানে ৮০ বছর বয়সে মহামতি বুদ্ধ মৃত্যু বরণ করেন।

গৌতম বুদ্ধের প্রচারিত বানীর মূল অর্থ হলো অহিংসা। বুদ্ধের দর্শনের প্রধান অংশ হচ্ছে দুঃখের কারণ ও তা নিরসনের উপায়। বাসনা হলো সব দুঃখের মূল। বৌদ্ধমতে সবরকম বন্ধন থেকে মুক্তিই হচ্ছে প্রধান লক্ষ্য। এটাকে নির্বাণ বলা হয়। নির্বাণ শব্দের আক্ষরিক অর্থ নিভে যাওয়া। কিন্তু বৌদ্ধ মতে নির্বাণ হলো সবরকম দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ।

0Shares





Related News

Comments are Closed