Main Menu

লাইফ সাপোর্টে এটিএম শামসুজ্জামান

বিনোদন ডেস্ক: বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার, পরিচালক এটিএম শামসুজ্জামান গুরুতর অসুস্থ। বর্তমানে তিনি রাজধানীর গেন্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে এই অভিনেতাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন এটিএম শামসুজ্জামানের ছোটো ভাই সালেহ জামান সেলিম।

তিনি জানান, গত শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এটিএম শামসুজ্জামান। তাঁর প্রস্রাব-পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ওইদিন রাত ১১টার দিকে তাঁকে আজগর আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

তিনি আরও জানান, এটিএম শামসুজ্জামানকে শনিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে প্রায় তিন ঘণ্টার অপারেশন শেষে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সোমবার (২৯ এপ্রিল) চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে কেবিন থেকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার বিকেলের দিকে তাঁকে একই হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

সালেহ জামান সেলিম তার বড় ভাইয়ের জন্য দেশবাসী ও এটিএম শামসুজ্জামানের ভক্ত অনুরাগীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

গুণী এই অভিনেতা ১৯৪১ সালের ১০ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬১ সালে উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করে চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার শুরু করেন। চিত্রনাট্যকার হিসেবে তিনি ‘জলছবি’ সিনেমায় প্রথম কাজ করেছেন। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনী লিখেছেন বর্ষীয়ান এ অভিনেতা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-‘জলছবি’, ‘জীবন তৃষ্ণা’,‘স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা’,‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘মাটির ঘর’,‘মাটির কসম’, ‘চিৎকার’ ও ‘লাল কাজল’ ইত্যাদি।

১৯৬৫ সালে অভিনেতা হিসেবে এটিএম শামসুজ্জামানের সিনেমায় অভিষেক ঘটে। ১৯৭৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ সিনেমায় খলনায়ক হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। সিনেমার পাশাপাশি অসংখ্য খণ্ড নাটক ও ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ ছবি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর ‘আলফা’। ২৬ এপ্রিল ছবিটি দেশের চারটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য এ অভিনেতার একমাত্র পরিচালিত সিনেমা ‘এবাদত’। এখন পর্যন্ত পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন এ কিংবদন্তি অভিনেতা। কাজী হায়াতের ‘দায়ী কে’ সিনেমার জন্য দুটি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান তিনি। এরপর ‘চুড়িওয়ালা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ এবং ‘চোরাবালি’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য একই পুরস্কার লাভ করেন এটিএম শামসুজ্জামান।

Share





Related News

Comments are Closed