Main Menu

জন্মভিটায় চিরনিদ্রায় শায়িত নুসরাত

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আগুনে পুড়িয়ে হত্যার শিকার ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির (১৮) দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে সোনাগাজী মো. সাবের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন হয়।

নামাজে জানাজা পড়ান নুসরাতের বাবা মাওলানা মুসা। এসময় আওয়ামী লীগ নেতা ও ফেনী ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি আলাউদ্দিন নাসিম, জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এনামুল করিম, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল ফারভেজ ছাড়াও হাজার হাজার লোক জানাজায় অংশ নেন।

এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নুসরাতের মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স বিকেল ৫টার দিকে সোনাগাজী পৌর এলাকার উত্তর চর চান্দিয়া এলাকার মেজো মৌলভী বাড়িতে পৌঁছায়। এসময় তার বাবা-মা-ভাইয়েরা সঙ্গে ছিলেন।

গ্রামের বাড়িতে নুসরাতকে দেখতে সর্বস্তরের মানুষ ভিড় করে। বাড়িটিতে শোকের মাতম আর কান্নার রোল পড়ে যায়।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতলের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে প্রায় ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা যান নুসরাত। রাতেই তার মরদেহ ঢামেকের হিমঘরে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাদতন্ত সম্পন্ন হয়। সেখানে কিছু আলাতম ও তার ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়।

এদিকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি, সোহাগী জাহান তনুসহ অন্যান্য হত্যা মামলার মতো ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির (১৮) হত্যা মামলা যেন ঢাকা পড়ে না যায় কিংবা মামলা যেন ভিন্ন পথে মোড় নিতে না পারে সেদিকে সর্বদা নজর রাখার কথা জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) নুসরাত হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ কথা জানান।

উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে (১৮) গত ৬ এপ্রিল মাদরাসার ছাদে মুখোশধারী ৪ জন আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে। ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড সার্জারি বিভাগে লাইফসাপোর্টে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় যৌন নিপীড়নকারী মাদরাসাটির অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে ৭ দিন ও তার দুই সহযোগী মাদরাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক নূরুল আফসার উদ্দিন ও ছাত্র আরিফুল ইসলামকে ৫ দিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছে সোনাগাজী উপজেলা আমলি আদালত। গত ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমদুল হাসান নোমানের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed