Main Menu

বরিশালে বাস-মাহেন্দ্র সংঘর্ষে ছাত্রীসহ নিহত ৬

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ব‌রিশাল নগরীর কাছে গড়িয়ারপাড়ের তেঁতুলতলা নামক স্থানে দুর্জয় পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ও একটি মাহেন্দ্রর (থ্রি-হুইলার আলফা) মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ কলেজছাত্রীসহ ছয়জন নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছে। শুক্রবার (২২ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে হতাহতদের সবাই মাহেন্দ্র যাত্রী।

নিহতরা হলেন- নগরীর কাশীপুর এলাকার মো. খোকন (৩০) ও গণপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাহেন্দ্র চালক মো. সোহেল (২৫), বরিশাল বিএম কলেজের গনিত বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী শিলা হালদার (২৪), মাধবপাশা দূর্গাসাগর এলাকার পারভীন বেগম (৩০), বাকেরগঞ্জের মানিক সিকদার (৪০) এবং অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী (৫০)।

বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান মুকুল জানান, বানারীপাড়া থেকে বরিশালগামী দুর্জয় পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মাহেন্দ্রর মুখোমুখি সংষর্ষ হয়। এরপর বাসটি সেখানে না থামিয়ে চালক মাহেন্দ্রটিকে চাপা দিয়ে বাস নিয়ে পালিয়ে যায়। প্রথমে স্থানীয় জনগণ ও পরে বিমানবন্দর থানা পুলিশ এসে হতাহতদের উদ্ধার করে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের মধ্যে নিহত পারভীন বেগমের শিশুসন্তান কাইউম (৭), তন্নী আক্তার (১৭), বিএম কলেজ ছাত্র মো. সুমন (২৫), দুলাল হাওলাদার (৩০) এবং অজ্ঞাতপরিচয় এক শিশুকে (৭) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. ইউনুস আলী জানান, বাস-মাহেন্দ্রর সংঘর্ষে মাহিন্দ্রটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কলেজছাত্রী শীলার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যান। এ সময় জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা মানিক ও খোকনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এছাড়া বাকি তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ঘটনায় বরিশাল-বানারীপাড়া-স্বরূপকাঠি সড়কে আধাঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিলো। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় বাসটি উদ্ধার করা হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে শেবাচিম হাসপাতারে হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে ছুটে যান। ক্ষুব্ধ স্বজনদের অভিযোগ, বাসের চালকের বেপরোয়া গতির কারণেই প্রাণ গেছে ৬ যাত্রীর। মুখোমুখি সংঘর্ষের পরও বাসটি সেখানে না থামিয়ে চালক মাহেন্দ্রটি চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়েছে।

ওসি আব্দুর রহমান মুকুল বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসটি পালিয়ে যাওয়ায় চালককে প্রাথমিকভাবে আটক করা যায়নি। তবে বাসটি সনাক্ত করে চালক আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share





Related News

Comments are Closed