Main Menu

ঢাকা-দশমিনা নৌ-রুটে চলছে জুয়া-চুরির হিড়িক

দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা: পটুয়াখালীর দশমিনা-বাউফলের কালাইয়া-ঢাকা নৌরুটে একই সাথে জুয়া ও চুরির হিড়িক পড়েছে। সর্বশান্ত হচ্ছেন যাত্রীরা। প্রায় প্রতিদিনই এ ঘটনা ঘটছে বলে ভূক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে। সর্বশেষ ঢাকা-দশমিনা নৌরুটের এমভি জামাল-৪ লঞ্চে একই সাথে দুটি বড় চুরি ও জুয়ার মাধ্যমে অর্ধ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ৪ নং কেশাবপুর ইউনিয়নের কেশাবপুর গ্রামের রফিকসহ তার একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে দশমিনা-কালাইয়া-ঢাকা রুটে এ ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবারের ঘটনার দিন ঢাকার সদর ঘাট থেকে দশমিনার উদ্দেশ্যে এম ভি জামাল-৪ লঞ্চটি ছেড়ে আসে। ঢাকা থেকে চাঁদপুর এসে পৌছালে চক্রটি লঞ্চে উঠে। পরে সকাল ৬ টার দিকে লঞ্চের ছাদে হ্যারিকেনের ফিতা দিয়ে জুয়া খেলার জন্য যাত্রীদের আকৃষ্ট করে। এতে জুয়া খেলার নেশায় ৮ জন যাত্রীর অর্ধ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়ে যায় রফিক চক্র। এ ঘটনার সময় লঞ্চের যাত্রী হিসেবে থাকা এ প্রতিনিধি জুয়া খেলার ছবি তুলতে গেলে চক্রটি তাকে লাঞ্চিত করে এবং অনেক হুমকি ধামকি দেয়। কাসেম নামে এক যাত্রীও জুয়ার দৃশ্য ভিডিও করতে গেলে তার দশ হাজার টাকা দামের স্যামসাং মোবাইলটি হাত থেকে নিয়ে পানিতে ফেলে দেয় চক্রের মূল হোতা রফিক।

এদিকে জুয়া খেলার দৃশ্য দেখতে যাত্রীরা কেবিনে ও ডেকে তাদের মালামল রেখে লঞ্চের ছাদে গেলে চক্রটি দশমিনার চরহোসনাবাদ গ্রামের মো. কবিরের ৭৬ হাজার টাকা দামের স্যামসাং এক্স নাইন প্লাস মোবাইল, নগদ পাঁচ হাজার টাকা, ক্রেডিট কার্ড, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মূল্যবান মালামাল ও রাঙ্গাবালি উপজেলার মৌসুমী আক্তার নামে এক যাত্রীর দশ হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকাসহ প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে যায় চক্রটি।

ঢাকা-দশমিনা-কালাইয়া নৌ-রুটের নিয়মিত কয়েকজন যাত্রী জানান প্রায় অধিকংশ দিনেই রফিক চক্র এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে থাকে। প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন ও লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা এদের সাথে জড়িত রয়েছে।

এ ঘটনায় এমভি জামাল-৪ লঞ্চের ইনচার্জ মো. মিলন বলেন, আমার কিছু করার নেই। এরা অনেক প্রভাবশালী। অনেক বড় বড় নেতারা এই চক্রের সাথে জড়িত। বাধা দিলে লঞ্চ ঘাটে ঢুকতে দেয়না এরা। প্রশাসনও কিছু বলেনা।

Share





Related News

Comments are Closed