তাহিরপুরে প্রতিপক্ষের হামালায় মহিলার মৃত্যু!
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ থাকার পর চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে গোলচেরা বেগম নামের এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট বাদারগড় গ্রামের মৃত গোলাম মোস্তাফার স্ত্রী।
এ ঘটনায় শুক্রবার সন্ধায় ১০ জনকে অভিযুক্ত করে নিহতের মেয়ে সুফিয়া বেগম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় জসিম উদ্দিন নামক এক আসামীকে পুলিশ শুক্রবার রাতে গ্রেফতার করেছে। সে উপজেলার বাদারগড় গ্রামের আবদুল আউয়ালের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাদরগড় গ্রামের জসিম ও একই গ্রামের সুফিয়া বেগমের পরিবারের লোকজনের মধ্যে পুর্ব বিরোধের জের ধরে প্রথম দফায় বুধবার রাতে দুই পরিবারের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে ফের ওই রাতের সংঘর্ষের জের ধরে উভয় পরিবারের লোকজনের মধ্যে দ্বিতীয়দফা সংযর্ষ হলে উভয় পরিবারের অন্যান্য কয়েকজন আহতদের মধ্যে প্রতিপক্ষের ছোঁড়া পাথরের ঢিল সুফিয়া বেগমের বিধবা মা গোলচেরা বেগমের মাথা ও চোখের ওপর পড়লে তিনিও আহত হন।
সংঘর্ষে আহতরা অন্যদের মধ্যে খুকি মনি, আনোয়ার হোসেন, সুফিয়া বেগম কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। কিন্তু প্রতিপক্ষের বাঁধার মুখে আহত গোলচেরা বেগম নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় স্থানীয়ভাবে কিংবা বাইরে গিয়ে কোন রকম চিকিৎসা নিতে না পারায় বৃহস্পতিবার সন্ধায় তিনি নিজ বাড়িতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
মামলার বাদী সুফিয়া বেগম শুক্রবার সন্ধায় অভিযোগ করে বলেন, বাড়িতে থাকা আমার মা সহ অন্যান্যদের বৃহস্পতিবার সকালের পর বাড়ি থেকেই বের হতে দেয়নি, যে কারনে আমার আহত মা পাথরের ঢিলের আঘাতে মাথায় দিনভর প্রচন্ড ব্যথায় ভুগছিলেন অন্যদিকে একটি চোখে পাথরের ঢিল লাগায় চোখটি ব্যাথায় ফুলে গিয়েছিলো, কিন্তু প্রতিপক্ষের বাঁধারমুখে চিকিৎসা বঞ্চিত হয়েই ওই দিন সন্ধায় আমার মা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
তিনি তার মায়ের এ হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেন।
উপজেলার বাদারগড় গ্রামের আবদুল আউয়াল সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শুক্রবার সন্ধায় বলেন, গোলচেরা বেগম বাড়িতে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন কিন্তু তার পরিবারের লোকজন আমার পরিবারের লোকজনকে হয়রানী করতে মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে।
তাহিরপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার শুক্রবার রাতে জানান, মহিলার লাশ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার রাতে মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে ১০ জনকে চিহ্নিত করে এবং আরো ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে থানায় মামলা করেছেন।
Related News
৫ বছরেও শেষ হয়নি সুনামগঞ্জে সোমেশ্বরী সেতুর কাজ
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বাসিন্দাদের স্বপ্নের সেতু এখন দুঃস্বপ্নে পরিণতRead More
সুনামগঞ্জ সীমান্তে বাংলাদেশি যুবক নিহত
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার চারাগাঁও সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশRead More



Comments are Closed