Main Menu

জাবিতে গভীর রাতে ছাত্রলীগের তাণ্ডব

জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর রাতে এক শিক্ষার্থীর হলের কক্ষে ঢুকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জাবি শাখা ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মীর বিরুদ্ধে। গত রাতে মওলানা ভাসানী হলের ৩৩২ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা হলেন- আইন ও বিচার বিভাগের রুমি আল মেহেদী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মেহেদী জয়, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের ইমরান হাসান, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ইহসান নাঈম এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মেহেদী হাসান। এরা প্রত্যেকেই মওলানা ভাসানী হলের ৪৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সফিয়ান চঞ্চলের অনুসারী।

এ ঘটনায় বিচার চেয়ে বুধবার বিকেলে গণিত বিভাগের ৪৪ তম আবর্তনের ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী আহসান হাবিব বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে রুমি আল মেহেদী ফোন দিয়ে হাবিবকে তার ব্যক্তিগত মোটর সাইকেলের চাবি হলের গেটে দিয়ে আসার নির্দেশ দেয়। কিন্তু হাবিব চাবি দিতে অসম্মতি জানানোয় পরে চাবি নেয়ার জন্য মেহেদী একজন জুনিয়র শিক্ষার্থীকে কক্ষে পাঠায়। তাকে পাঠিয়েও চাবি না পাওয়ায় মেহেদী সহ অভিযুক্তরা হাবিবের কক্ষে (৩৩২ নম্বর) গিয়ে দরজায় লাথি দিতে থাকে। দরজা খোলামাত্র তারা হাবিবকে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তারা তাকে হলের বাইরে বের করে দেয়। এসময় সেখানে উপস্থিত বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করতে গেলে হামলাকারীরা তাদের দিকেও মারমুখীভাবে তেড়ে যায়।

মারধরের বিষয়টি সম্পূর্ন অস্বীকার করে মেহেদী আল রুমী বলেন, ‘আমরা কয়েকজন হাবিবের রুমে কথা বলতে গেলে তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ধাক্কা-ধাক্কি হয়।’
মধ্যরাতে ওই রুমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে আর তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মেহেদী জয়ও মারধরের কথা অস্বীকার করেন। ঘটনা সম্পর্কে আলোকপাত করতে বললে তিনি সাক্ষাতে কথা বলবেন বলে জানান।

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারী রাত ১১ টার দিকে নিজ কক্ষের দরজার সামনে হাবিবের পরিচয় জানতে চান প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ৪২ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী হৃদয়, আইন ও বিচার বিভাগের ৪৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান রাফি সহ কয়েকজন। পরিচয় দিলে কার মাধ্যমে হলে উঠেছে তা জানতে চান তারা। এর কিছুক্ষণ পরে হৃদয় ও রাফি ৩২২ নম্বর কক্ষে ডেকে পাঠায় এবং ১৮ ফেব্রয়ারী রাতের মধ্যে হল ছাড়তে বলে। সেখান থেকে বের হওয়ার পরই ওই হলের এক জুনিয়র শিক্ষার্থী হাবিবকে মারধর করে। পরদিন থেকে হলে থাকার শর্ত জুড়ে দেয়। যার মধ্য অন্যতম, ‘মোটর সাইকেলের চাবি ছাত্রলীগ কর্মীদের কাছে দিয়ে রাখতে হবে, তবে প্রয়োজনে তিনি (হাবিব) ব্যবহার করতে পারবেন।’ এই শর্ত মানলে হলে থাকতে পারবেন অন্যথায় নয় বলে জানান রাফি সহ সাধারণ সম্পাদকের অনুসারী হলের জেষ্ঠ্য ছাত্রলীগ নেতারা।

ওইদিন সন্ধ্যায় বিষয়টি হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদারের গোচরে আনা হলে রাত ১০টার দিকে রাফি সহ কয়েকজন জুনিয়র কর্মী হাবিব ও সাবিবরকে তাৎক্ষণিক ৩৩২ নম্বর কক্ষ ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়। তারা দুজন যেতে অসম্মতি দেখালে জোর করে তাদের মালপত্র বের করে ১২৩ নম্বর কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিষয়টি নিয়ে হল প্রাধ্যক্ষ সহ সকল আবাসিক শিক্ষক আলোচনায় বসেন। সেখানেই সমস্যার সমাধান হয়েছিল বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সফিয়ান চঞ্চল বলেন, ‘ঝামেলা না করে আমি তাদেরকে বিষয়টি সমাধান করতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা তা করেনি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে মিমাংসার ব্যবস্থা করব।’

এ বিষয়ে মওলানা ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার বলেন, সমাধান করার বিষয় নিয়ে গভীর রাতে হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এখন অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি হলের অভ্যন্তরীন। হল প্রাধ্যক্ষ আমাদের কাছে অভিযোগ পাঠালে তখন আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারব।’

Share





Related News

Comments are Closed