Main Menu

চিরনিদ্রায় শায়িত আল মাহমুদ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা কবি আল মাহমুদ। রবিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৌড়াইল গ্রামের কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

এর আগে, বেলা সোয়া ১১টার দিকে তার মরদেহ রাখা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাদ জোহর বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এরপর দক্ষিণ মৌড়াইল কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয় বলে জানিয়েছেন কবির মামা হাফিজুর রহমান মোল্লা।

গতকাল শনিবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে কবির মরদেহ ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দক্ষিণ মৌড়াইল মোল্লাবাড়িতে এসে পৌঁছে।

১৫ ফেব্রয়ারী শুক্রবার রাত ১১টার পর বার্ধক্যজনিত কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কবি আল মাহমুদ। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

পর দিন শনিবার দুপুরে কবির মরদেহ বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নেয়া হয় শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। সেখানে একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী কবির মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এর পর কবির মরদেহ নেয়া হয় জাতীয় প্রেসক্লাবে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আল মাহমুদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি না পাওয়ায় আল মাহমুদের মরদেহ শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হয়নি।

তবে কবির পরিবারের পক্ষ থেকে আল মাহমুদকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে, আর সেটি সম্ভব না হলে তাঁকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে দাফন করাতে চেয়েছিল।

এর আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কবি আল মাহমুদকে ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তিনি অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল হাইয়ের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। অবস্থা আরও গুরুতর হলে শুক্রবার তাকে ‘লাইফ সাপোর্ট’ দেয়া হয়। পরে রাত ১১টা ৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

কবি আল মাহমুদের পুরো নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মীর আবদুর রব ও মাতার নাম রওশন আরা মীর। তার দাদা আবদুল ওহাব মোল্লা হবিগঞ্জ জেলায় জমিদার ছিলেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরে আল মাহমুদ দৈনিক গণকণ্ঠ পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। সম্পাদক থাকাকালে সরকারের বিরুদ্ধে লেখার কারণে এক বছরের জন্য কারাবরণ করেন তিনি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক হিসেবে চাকরি দেন। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর তিনি বিভাগটির পরিচালক হন। পরিচালক হিসেবে ১৯৯৩ সালে সেখান থেকে তিনি অবসরে যান।

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি আল মাহমুদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘লোক লোকান্তর’, ‘কালের কলস’, ‘সোনালি কাবিন’, ‘মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো’, ‘আরব্য রজনীর রাজহাঁস’, ‘অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না’, ‘দিনযাপন, দ্বিতীয় ভাঙন’, ‘নদীর ভেতরের নদী’।

সাহিত্যে অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, শিশু একাডেমি (অগ্রণী ব্যাংক) পুরস্কার, ফররুখ স্মৃতি পুরস্কার, জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই কবি। লোক লোকান্তর (১৯৬৩), কালের কলস (১৯৬৬), সোনালী কাবিন (১৯৬৬) ইত্যাদি আল মাহমুদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

Share





Related News

Comments are Closed