Main Menu

পাটলাই নদীতে সোয়া ৪ লাখ টাকার কয়লা লুট

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে নৌপথে এক আমদানীকারকের প্রায় সোয়া চার লাখ টাকার কয়লা ডাকাতি করে নিয়ে গেছে একদল দুর্বৃক্ত।

সোমবার (১১ ফেব্রয়ারী) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের সুলেমানপুরের পাটলাই নদীর কানামুইয়া জলমহাল সংলগ্ন নৌ পথে ইঞ্জিন চালিত (বড় ট্রলার) নৌকা থেকে সোয়া চার লাখ টাকা মুল্যের ২২ মেট্রিকটন কয়লা ডাকাতি করে নিয়ে যায় দুর্বৃক্তরা।

ডাকাতি হওয়া নৌকায় থাকা চলনদার উপজেলার টেকেরঘাটের বাসিন্দা হাসিম মিয়া জানান, বড়ছড়া শুল্ক ষ্টেশনের কয়লা আমদানিকারক রিয়াজ উদ্দিনের ডিপো থেকে এলসিকৃত ১০৮ মেট্রিক টন কয়লা বোঝাই করে নৌকাটি বালিয়াঘাট পাটলাই নদী থেকে সুনামগঞ্জের ব্রাম্মণগাঁও ইট খলার উদ্দেশে রবিবার ছেড়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, নৌ পথ শুকিয়ে যাওয়ায় পরদিন সোমবার রাতে নৌকাটি সুলেমানপুরের পাটলাই নদীর কানাম্ইুয়া জলমহাল এলাকা সংলগ্ন নৌ পথে নোঙ্গর করে রাখা হয়। এরপর একদল ডাকাত মধ্যরাতে অপর একটি ট্রলারে করে এসে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়লা বোঝাই নৌকায় উঠে আমাকে, নৌকার মাঝি ও সুকানী সহ চারজনকে রামদা’র মুখে জিম্মি করে নৌকার ক্যাবিনের ভেতর তালাবদ্ধ করে রেখে প্রায় দু’ঘন্টায় ২২ মেট্রিক টন কয়লা লুটে নিয়ে যায়।

মঙ্গলবার সন্ধায় কয়লা আমদানিকারক উপজেলার পুটিয়া গ্রামের রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ডাকাতি হওয়া কয়লার মুল্য প্রায় সোয়া চার লাখ টাকা। তিনি আরো বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি থানায় অভিযোগ করতে গেলে এলাকার কয়েকজন বিশিষ্ট লোক এ ঘটনা নিষ্পক্তির আশ্বাস দেন।

উপজেলার বড়ছড়ার অপর কয়লা আমদানিকারক জয়নাল আবেদীন বলেন, গত ৭ ফ্রেব্রয়ারী রাতে পাটলাই নদী থেকে একই কায়দায় একদল ডাকাত আমার কয়লা বোঝাই নৌকা থেকেও প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা মুল্যের ২০ মেট্রিক টন কয়লা ডাকাতি করে নিয়ে যায়।

এছাড়া চারাগাঁও শুল্ক ষ্টেশনের অপর কয়লা আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম বলেন গত ৩০ জানুয়ারী রাতে তার নৌকা থেকেও ২ লাখ ৮৯ হাজার ৭৭০ টাকার সমপরিমাণ ১৫ মেট্রিকটন কয়লা একদল ডাকাত রাতের আধারে লুটে নিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কয়লা ব্যবসায়ী জানান, উপজেলার সুলোমানপুর ও এর আশে পাশের এলাকায় দুর্বৃক্তদের কয়েকটি দল গঠন হয়েছে। ওরা কেবল গত কয়েকমাস ধরেই একের পর এক কয়লা চুরি ও ডাকাতি করে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আরো জানান, এসব ডাকাতি হওয়া কয়লা ভুয়া মিনিপাস চালানপত্র দিয়ে ছোট ছোট ট্রলারে করে পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনার কলমাকান্দা, মিঠামইন, ইটনা, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিয়ে গিয়ে বিক্রয় করা হয়। আর এসবের পেছনে পর্দার আড়ালে থেকে স্থনীয় কয়েকটি প্রভাবশালী চক্র একদিকে যেমন কয়লা চুরি-ডাকাতি করাচ্ছে তেমনি এসব চুরি-ডাকাতির কয়লা অল্প দামে কিনে দেদারছে কয়লা ব্যবসায়ী সেজে কয়লার ব্যবসা করে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা আরো জানান, শুধু এ চক্রই নয় এভাবে নৌ পথে কয়লা চুরি-ডাকাতির কাজে জড়িয়ে পড়েছে ওই নৌ পথ কেন্দ্রীক সুলেমানপুর সহ আশে পাশের কয়েক গ্রামের কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০টি গ্রপ।

তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর মঙ্গলবার সন্ধায় জানান, কয়লা ডাকাতি বা চুরির বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share





Related News

Comments are Closed