Main Menu

জৈন্তাপুরে পাহাড় টিলা কেটে পাথর উত্তোলন, প্রানহানির আশংঙ্কা

রেজওয়ান কবির সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি : সিলেটের জৈন্তাপুরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নতুন করে বাড়ীঘর নির্মান, পাহাড় ও টিলা কর্তন করে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নোটিশ টানিয়ে দায়িত্ব শেষ, যেন দেখার কেউ নেই। এতে পাহাড় ধস, প্রাণহানি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ভূমি খেকো চক্রের সদস্যরা বাড়ী ঘর নির্মানের নামে গুয়াবাড়ী সরকারী পাহাড় হতে দিন রাত পাথর উত্তোলন করে যাচ্ছে। গত বছর পার্বত্য চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে প্রাণ হানির ঘটনায় সরকারী ভাবে পাহাড় কর্তনের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়। তবে জৈন্তাপুর উপজেলায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্র পাহাড় ও টিলা রকম ভূমি কর্তন করে বাড়ী ঘর নির্মানের নামে গুয়াবাড়ীর টিলা ও পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। বিগত ৪ বছর ধরে গুয়াবাড়ী এলাকার পাহাড় ও টিলা কর্তনের উপর সরকারী ভাবে নিষেধাজ্ঞা জারী করে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু প্রভাবশালীরা প্রশাসনকে বৃদ্ধাআঙ্গুলী দেখিয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাহাড় ও টিলার বুক চিরে বাড়ীঘর নির্মান ও পাহাড়ের পাথর সংগ্রহ করছে। ফলে পাহাড়ের একাধিক অংশের মাটি বৃষ্টির পানির সাথে গড়িয়ে স্থানীয় ফসলী জমি ভরাট হচ্ছে। এছাড়া পাহাড়ের পদদেশে বসবাসকারী পরিবার গুলো জীবনের ঝুকি নিয়ে বসবাস করছে। টানা বৃষ্টির ফলে পাহাড় ধসে পড়ার আশংঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের লোকজন বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করে রয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্ধাদের অভিযোগ। ২০১৭ সনে স্থানীয় সংসদ সদস্য বর্তমান সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি সরেজমিন পরিদর্শন করে গুয়াবাড়ীসহ জৈন্তাপুরের পাহাড় ও টিলা শ্রেনীর ভূমি হতে কোন রূপ পাথর উত্তোলন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্ত এমপির নির্দেশের পর প্রশাসনের তৎপরতায় কিছুদিন থেমে ছিল পাহাড় কর্তন ও পাথর উত্তোলনের কাজ।

সম্প্রতি এই চক্রটি বাড়ী ঘর নির্মানের নামে কোন প্রকার অনুমতি না নিয়ে পাহাড় কেটে বাড়ী ঘর নির্মান ও পাথর উত্তোলন শুরু করে। বাড়ী নির্মানকারী জৈন্তাপুর প্লাজা মার্কেটের ব্যবসায়ী কফিল উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, জায়গা করে বাড়ী নির্মান করছেন। কিছু দিনের মধ্যে তিনি অফিসের সহায়তায় বরাদ্ধ নিবেন এ জন্য আগে দখল দেখাতে হবে। তবে পাহাড় কেটে বাড়ী নির্মানে তিনি প্রশাসন কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তর হতে কোন প্রকার অনুমতি নেননি বলে জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান জৈন্তাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও জৈন্তাপুর উপজেলা ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে আতাত করে ভুমি খেকো চক্র সরকারী পাহাড় শ্রেনীর ভূমি ক্রয়-বিক্রয় এবং ভূমি বন্দোবস্থ পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

উপজেলা ভূমি অফিসের এক কর্মচারী ইতোপূর্বে সরকারী আদর্শগ্রামের ভূমি ক্রয় এবং সরকারী ভূমি দখল করে পাহাড় কেটে বাড়ী নির্মান করেছেন।

এবিষয়ে জানতে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌরীন করিমের সাথে যোগাযোগের চেস্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

পরবর্তীতে জৈন্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনতাসির হাসান পলাশ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জরুরী প্রয়োজনে কর্মস্থলের বাহিরে অবস্থান করছেন বলে জানান।

তবে তিনি বলেন, কর্মস্থলে ফিরেই উপজেলার গুয়াবাড়ী এলাকা পরিদর্শন করে পাহাড় কর্তনের সাথে কিংবা ভূমি দখলের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। তবে ভূমি অফিসের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed