ক্যাপসিকাম চাষে ভাগ্য ফিরাতে চান হাবিজুর
মোঃ রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় উন্নত হাইব্রীড জাতের ক্যাপসিকামের ভাল ফলন হয়েছে। তবে বাজার না পাওয়ায় হতাশায় কৃষকরা।
জৈন্তাপুরে উন্নত হাইব্রীড জাতের ক্যাপসিকামের (মরিচ জাতীয় সবজি/ বেলপিপার/ শিমলা) ভাল ফলন হয়েছে। তবে এ বছর দাম ভালো না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। গেল বৎসর ভাল ফলন ও লাভ দেখে অনেকে ক্যাপসিকাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠলে সফল হননি তারা। ক্যাপসীকাম চাষে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর কৃষকের মাঝে উপযুক্ত প্রশিক্ষন দিয়ে ভাল বীজ সরবরাহ করলে হয়তবা এলাকার অনেক কৃষক উপকৃত হতে পারত। ফলে একদিকে যেমন বেকারত্ব দূর হত, অন্যদিকে আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারে কৃষকরা। অন্য ফসলের তুলনায় কম ব্যয়ে বেশি লাভ ক্যাপসীকাম চাষে। কিন্তু উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর এ বিষয়ে কোন ভূমিকা গ্রহন করছে না। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ক্যাপসিকাম কম হয়েছে।
কৃষক মোঃ হাবিজুর রহমান শুকুর বলেন- উপজেলা কৃষি অফিসের অনাগ্রহ, মাঠ পর্যায় কৃষি কর্মকর্তা কিংবা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা পরিদর্শন না করা, রোগের অাক্রমন এবং প্রতিকার না পাওয়া, কৃষি অফিসের পরামর্শ না পাওয়ায় এবছর তিনি সফল নন। তার পরও নিজ চেষ্টায় এক বিঘা জমিতে ক্যাপসীকাম চাষ করেছেন। ১বিঘা বা ৩৩ শতাংশ জমিতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। স্থানীয় বাজারে তেমন বিক্রয় হয় না এই সবজি। সিলেট শহরে নিয়ে বিক্রয় করতে হয়। গত বৎসরের তুলনায় এবার দাম কম পাচ্ছেন বলে জানান তিনি। এবৎসর লাভ কম হবে, তবে বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া যাবে বলে অাশাবাদি কৃষক।
তিনি অারও জানান- শুনেছি সরকার কৃষকদের ভর্তুকির মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রান্তিক কৃষকদের বিনা মূল্যে সার বীজ কিটনাশক দেওয়া হয় কিন্তু অামরা (প্রকৃত) কৃষকরা তা পাই না। গত বৎসর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিনে অামার মাঠের ফলন দেখেন, তখন মনে করেছিলাম এবার হয়ত সরকারের তরফ হতে সাহায্য সহযোগিতা পাব। কিন্তু অামার অাশা অাশাই থেকে গেল কোন লাভ হল না।

কৃষকরা অাশ্বিন মাসে ক্যাপসিকাম আবাদ শুরু করে বর্তমানে ফলন পাচ্ছেন। মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ফসল তোলা শেষ হবে। কৃষকরা জানান বাজারে প্রতি কেজি ক্যাপসিকাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় হচ্ছে। চাষাবাদ পদ্ধতি অন্যান্য জাতের মরিচের মতোই। সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে ক্যাপসিকাম’র কদর বাড়ছে দিন দিন। তবে সরকারি কৃষি অফিসের রোগ প্রতিরোধ ভাল বীজ সম্পর্কে সহযোগিতা পেলে অনেক কৃষক তাদের পরিত্যক্ত বা অনাবাদি জমিতে ফসলটি চাষ করতে অাগ্রহ প্রকাশ করেন।
এবিষয়ে জানতে জৈন্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
Related News
পরিত্যক্ত জমিতে লাউ চাষে সাফল্য, বিষমুক্ত সবজিতে হাসি ফুটেছে কৃষক ফারুকের মুখে
Manual2 Ad Code আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে বাড়ির সামনে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্তRead More
নড়াইলের পাট চাষিরা দাম নিয়ে দুঃচিন্তায়
Manual3 Ad Code নড়াইল সংবাদদাতা: নড়াইলের গ্রামীণ জনপদে পাট কাটা,পচানো এবং ধোঁয়ায় ব্যস্ত সময় পারRead More



Comments are Closed