সিলেটে নতুন কারাগারের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কারাগারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
এদিকে উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সিলেট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এখানে সিলেট জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। তারা সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সাত বছর পর উদ্বোধন হল নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার। দুই হাজার বন্দি ধারণ ক্ষমতায় সক্ষম কারাগারটি।
সিলেট জেলা সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ, সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ কয়েছ, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মো. কামরুল আহসান, জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুনেছা হক, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আবদুল জলিল প্রমুখ।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আবদুল জলিল জানান, নতুন কারাগার উদ্বোধন করা হলেও পুরনোটি এখনও বহাল থাকবে। ডিসেম্বর নাগাদ নতুন কারাগারে কিছু বন্দিদের স্থানান্তর করা হবে। তবে নতুন কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের স্থানান্তর করা হবে।
২০১০ সালে সিলেটের নতুন কারাগার নির্মাণ ও স্থানান্তরের প্রকল্প একনেকে পাস হয়েছিল।
সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র মতে, বাদাঘাট এলাকায় অভ্যন্তরে ১৬ একর ও বাইরে ১৪ একর জমি নিয়ে মোট ৩০ একর জায়গার ওপর নির্মিত নতুন কারাগার। যেখানে স্থাপনা করা হয়েছে ৫৯টি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৭ কোটি টাকা প্রক্কলন ব্যয় ধরে কারাগার নির্মাণের কাজ শুরু হলেও কাজ শেষ করতে ব্যয় দাঁড়ায় ২৭০ কোটি টাকায়। প্রায় ২ হাজার বন্দি ধারণ ক্ষমতার এই কারাগারে মোট ৬৪টি ভবন রয়েছে। ৩০ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত কারাগারে পুরুষ বন্দিদের জন্য ৪টি এবং নারী বন্দিদের জন্য রয়েছে ৩টি ভবন। পুরুষ বন্দিদের ৪টি ভবনই ৬ তলাবিশিষ্ট আর নারী বন্দিদের জন্য নির্ধারিত ভবনের মধ্যে একটি ৪ তলা এবং দুটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে রান্নার কাজের জন্য রয়েছে ৫টি ভবন, যার সবগুলোই ১ তলা। খাবার মজুদ রাখার জন্য রয়েছে ৪টি ভবন, দোতলা একটি রেস্ট হাউসও আছে এই কারাগারে। রয়েছে ৪ তলাবিশিষ্ট একটি ডে কেয়ার সেন্টার, মসজিদ, স্কুল ও লাইব্রেরি। এছাড়া থাকছে ক্যান্টিন, বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকার রুম, প্রশাসনিক কার্যালয়, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, একশ শয্যার পাঁচতলা বিশিষ্ট চারটি হাসপাতাল, স্কুল ও লাইব্রেরি ভবন ছাড়াও রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মকর্তাদের জন্য একশ ৩০টি ফ্ল্যাট।
সূত্র জানায়, কারাগারটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৫ সালের জুন মাসে। নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ শেষ করতে না পারায় তিন দফা মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করা হলো নবনির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার।
ভিডিও কনফারেন্স শুরু হয় কাল ১০টায়। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল নিপীড়িত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা। এই লক্ষ্যেই তিনি দেশকে স্বাধীন করার লড়াই করেছেন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমি সারা বাংলাদেশ ঘুরেছি। মানুষের ভাগ্য কীভাবে পরিবর্তন করা যায় তা ভেবেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার চেতনা কীভাবে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া যায় তা ভেবেছি। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমান এই প্রজন্মের জীবনটা যেন সুন্দর হয়, বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যেন তারা টিকতে পারে, যেখানেই যাবে মাথা উঁচু করে চলবে সেটাই আমরা চাই।’
Related News
জকিগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জকিগঞ্জে প্রবাসী হোসেন আহমদের বাড়িতে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতRead More
গোয়াইনঘাটে যৌথ অভিযানে ৮ ড্রেজার মেশিন ধ্বংস
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোয়াইনঘাটে ইজারাবহির্ভূত স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনাRead More



Comments are Closed