বিয়ে পাগল ইসমাইল পুলিশের খাঁচায়
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: একে একে চারটি বিয়ে এবং যথারীতি একে একে চার স্ত্রীকে তালাক। পঞ্চম বিয়ের প্রস্তুতি, বিয়ের আয়োজনও প্রায় সম্পন্ন, তাও আবার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোর করে ধরে এনে।
খবর পেয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে সময়মতো হাজির বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম রওশন কবীর। এরপর সাক্ষ্য প্রমান শেষে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ৭ ধারা মোতাবেক বর ইসমাইল হোসেনের ৬ মাসের কারাদণ্ড।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ১২ নং রাজারামপুর ইউনিয়নের হাসিলা গ্রামে। সাজাপ্রাপ্ত ইসমাইল হোসেন (৩৩) ওই গ্রামের মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ৩৩ বছর বয়সী ইসমাইল হোসেন ইতিমধ্যেই চারটি বিয়ে করে চার স্ত্রীকেই তালাক দিয়েছেন। সবশেষ দুদিন আগে গত বুধবার ইসমাইল তালাক দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে বাবার বাড়িতে রেখে এসেছে তার চতুর্থ স্ত্রীকে। সঙ্গে নিয়ে আসেন চতুর্থ স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেয়া ১৪ মাস বয়সী এক শিশু কন্যাকে। এখনও মায়ের জন্য কান্না থামেনি ১৪ মাস বয়সের সেই শিশুটির।
সেই শিশুটির কান্না না থামতেই গত বৃহস্পতিবার ইসমাইল হোসেন ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ১নং গেদুয়া ইউনিয়নের পিপলডাঙ্গী গ্রাম থেকে জোর করে ধরে নিয়ে আসে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে। শুক্রবার দুপুরে সেই কিশোরীকে জোরপুর্বক বিয়ের আয়োজন চলছিল দিনাজপুরের বিরল উপজেলার হাসিলা গ্রামে ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে।
দুপুরে জুমআর নামাজের পর যেই মুহুর্তে কলমা পড়ে জোরপুর্বক বিয়ে করা হবে ওই কিশোরীকে। গোপন সুত্রে খবর পেয়ে ঠিক সেই মুহুর্তে বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম রওশন কবীর। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে সেখানেই ভ্রাম্যমান আদালত বসান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম রওশন কবীর।
এরপর সাক্ষ্যপ্রমান শেষে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ এর ৭ ধারা মতে বর ইসমাইল হোসেনকে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিরল উপজেলার ১২ নং রাজারামপর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মোঃ মোকাররম হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিরল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম রওশন কবীর জানান, বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ২০১৭ সালের ৭ ধারাটি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিচারকাজ সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি ২০১৭ সালে পাস হলেও এটি প্রয়োগের নির্দেশনা এসেছে গত এক সপ্তাহ আগে। আর দিনাজপুরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এই আইনের ধারায় এটিই প্রথম রায় বলে জানান ইউএনও।
তিনি জানান, ভ্রাম্যমান আদালতে এই আইনটি প্রয়োগ করার সুযোগ পাওয়ায় সমাজ থেকে অনেকটাই বাল্য বিবাহ নিরোধ করা সম্ভব হবে। এই আইনটি প্রয়োগ করার সুযোগ দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
Related News
পঞ্চগড়ের আকাশে মায়াবী কাঞ্চনজঙ্ঘা, মেঘ সরতেই ধরা দিল হিমালয়ের রূপালি মুকুট
সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: অপেক্ষার প্রহর শেষে মেঘের আড়াল ভেদ করে উত্তরের আকাশেRead More
রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, তিনজনের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে বাসের ধাক্কায়Read More



Comments are Closed