Main Menu

সিলেটে প্রবাসীর বাড়িতে তত্ত্বাবধায়ক মহিলা খুন

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানাধীন হরগৌরী গ্রামে আমেরিকা প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতিরকালে তত্ত্বাবধায়ক মহিলা খুন হয়েছেন। তিনি ঐ বাড়িতে গত তিনবছর থেকে তত্ত্বাবধায়ক হেসেবে দুই ছেলে নিয়ে থাকতেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যার দিকে এ খুন ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গ্রামের আবু বকর ও হেলাল আহমদ দুই ভাই পরিবার নিয়ে আমেরিকায় থাকেন। বাড়িটি গ্রামের একপাশে হওয়ায় অন্যান্য বাড়ি থেকে এ বাড়ির দূরত্ব রয়েছে। নির্জন এ বাড়িতে আফিয়া বেগম (৩৫) তার দুই সন্তান সুমন আহমদ(১২) ও ইমন আহমদ(১৫) নিয়ে কেয়ারটেকার হিসেবে বসবাস করে আসছেন। এর মধ্যে ইমন আহমদ(১৫) সিলেট নগরীতে একটি দোকানে কাজ করে।

নিহতের ছেলে সুমন আহমদ(১২) জানায়- তার ভাই নগরীতে থাকায় সে (সুমন) এবং তার মা বাড়িতে ছিলেন। গতকাল সন্ধার পর ৪/৫ জন লোক তাদের ঘরে প্রবেশ করে। তারা প্রবেশ করেই ঘরের এক কক্ষে নিয়ে সুমনের হাত ও মুখ বেঁধে ফেলে। এবং অপর কক্ষে তার মাকে বেঁধে ফেলে। তারা তার মাকে বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করতে সে শুনেছে। এসময় তার মার শব্দও শুনেছে। অনেকক্ষণ পর কোনো সাড়া শব্দ না পেলে সুমন হাত ও পায়ের বাঁধ ছুটিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে কোনো ভাবে বের হতে সক্ষম হয়। এরপর আশপাশের মানুষদের কাছে গিয়ে কান্না করে ঘটনা বলতে থাকে। পরে প্রতিবেশিরা এসে দেখেন ঘরের একটি কক্ষে খাটের উপরে আফিয়া বেগমের নিথর দেহ।
বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আছিয়া বেগমের মুখে বালিশ ও কাঁথা দিয়ে চাপা দেয়া। হাত বাঁধা এবং পা কাপড় দিয়ে খাটের খুঁটির সাথে বাঁধা। ঘরের সকল আসবাব পত্র তছনছ করা। সুমন জানায়- ঘরে ৪/৫ হাজার টাকা ছিলো। টাকাসহ মুল্যবান জিনিসপত্র ডাকাতরা নিয়ে গেছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম জানান, প্রায় ৩ বছর ধরে স্বামী-সন্তান নিয়ে বাড়িটির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন আফিয়া। বাড়ির লোকজন স্বপরিবারে যুক্তরাষ্ট্র থাকেন। রাত ৮টার দিকে কয়েকজন যুবক ঘরে ঢুকে তাকে হত্যা করে চলে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।

তিনি বলেন, প্রাথমিক সুরতহালে মনে হচ্ছে হত্যাকারীরা প্রহারের পর ওই নারীকে খুন করে চলে যায়। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। খুনিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।

খবর পেয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এছাড়া, রাতে পিবিআই-এর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আলামত সংগ্রহ করেন।

গ্রামবাসি জানান- নিহত আফিয়া বেগম প্রথমে জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল গ্রামের একজনকে বিয়ে করেছিলেন। দুটি সন্তান রেখে স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি দক্ষিণ সুরমার সিলাম গ্রামের মাখন মিয়াকে বিয়ে করেন। মাখন মিয়া বর্তমানে ওমান প্রবাসী। স্বামীর সাথে তার সবসময় যোগাযোগ রয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed