বিশ্বনাথে খুন হওয়া কিশোরীর পরিচয় মিলেছে, ঘাতক আটক
বিশ্বনাথ প্রতিনিধি: সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশায় গত ১০ সেপ্টেম্বর উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত তরুণীর লাশের পরিচয় পাওয়া গেছে। একই সাথে খুনের সাথে জড়িত ঘাতক শফিক মিয়াকে (৩২) মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার নাছির গ্লাস ফ্যাক্টরী থেকে আটক করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত ধর্ষক শফিক মিয়া (৩২) সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত ওয়াব উল্লাহ’র ছেলে।বর্তমানে সে মির্জাপুরে নাসির গ্লাস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করে।
গ্রেপ্তারকৃত শফিক মিয়া পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে জানায়, ধর্ষণ শেষে কিশোরী রুমি আক্তারকে একটি খালের পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে লাশ রাস্তার পাশে ফেলে দেয়।
বুধবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেট জেলা পুলিশ সুপারে কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্বনাথের রামপাশায় এক অজ্ঞাত তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। লাশের গলায় পেচানো ওড়নার দুই পাশের দুই মাথায় পলিথিন দ্বারা মোড়ানো সাদা কাগজে লেখা দুইটি একই নম্বরের মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। মোবাইল ফোন নাম্বারের সূত্র ধরে এ হত্যা রহস্য উদঘাটন করা হয়।
তিনি জানান, নিহত তরুণীর নাম রুমী আক্তার (১৬)। সে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার আউতপাড়া নগরভাত গ্রামের মো. আতাউর রহমানের মেয়ে। সে গত ৯ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি ছিল। তার পাশের বেডে ভর্তি ছিল ঘাতক শফিক মিয়ার শ্বাশুড়ী। এভাবে তাদের পরিচয় হয়। পরে শফিক মিয়া প্রেমের অভিনয় করে রুমী আক্তারকে সিলেট নিয়ে আসে। এক পর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর আবারো টাঙ্গাইল ফিরে যায় শফিক।
মোবাইল নম্বর পর্যালোচনা করে দেখা যায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বনাথের ইমরান আহমদের সাথে দফায় দফায় যোগাযোগ করে শফিক মিয়া। ইমরানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে শফিক মিয়ার পরিচয় জানতে পারে পুলিশ। শফিক মিয়া টাঙ্গাইলে চাকরি করে বলেও জানান ইমরান। ওখানে এক মহিলার সাথেও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে শফিক। ওই মহিলার সাহায্যে মঙ্গলবার ভোরে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, শফিক মিয়ার চার স্ত্রী আছে। সে বিভিন্ন এলাকার মেয়েদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে ধর্ষণ করতো। তিনি জানান, গ্রেপ্তার শফিক টাঙ্গাইলের নাছির গ্লাস ফ্যাক্টরিতে কাজ করে। ওই ফ্যাক্টরি থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশ্বনাথ থানায় দায়েরকৃত গণধর্ষণ মামলারও পলাতক আসামি শফিক। বৃহস্পতিবার শফিককে আদালতে তুলে রিমান্ড চাওয়া হবে।

এদিকে শফিক মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান।
তিনি জানান- রুমী আক্তার হত্যাকাণ্ডে শফিক মিয়া ও ইমরানসহ তাদেরকে বিভিন্নভাবে সহায়তাকারী হিসেবে মোট ১৪ জনকে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ১০ সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ৯টায় বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের পাঠাকইন গ্রামের তবারক আলীর বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে অজ্ঞাতনামা হিসেবে রুমীর লাশ দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানার পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিনের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
প্রসঙ্গত, ১৭ মাস আগে (২০১৭ সালে ২২ এপ্রিল) একই জায়গায় (প্রায় ৫০ গজের দূরত্ব) আনুমানিক ২৮ বছর বয়সী অজ্ঞাতনামা এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
Related News
সিলেটের তামাবিল হাইওয়ে পুলিশের চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে চোরাচালানবিরোধী অভিযানে পর্যটকদের হয়রানি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সিলেট হাইওয়েRead More
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে হবে : এমপি লুনা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেছেন, একটি শিক্ষিত ওRead More



Comments are Closed