Main Menu

ছাত্রদলনেতা রাজু হত্যাকারীদের বহিষ্কার ও বিচারের দাবি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটে ছাত্রদলনেতা রাজু হত্যার সাথে জড়িতদের দল থেকে বহিষ্কার, খুনিদের দ্রæত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছে রাজুর সহযোদ্ধা ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ। খুনের এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত খুনিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। উল্টো খুনের প্রতিবাদকারী তিন জন সহকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রশাসনের এহেন কার্যকলাপে আমরা হতভম্ব। রোববার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে রাজু হত্যাকারীদের দল থেকে বহিস্কার ও বিচার দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন এমসি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল আজাদ রানা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাজু হত্যার সাথে জড়িত খুনীদের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নমনীয় আচরণ করলে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে। সিলেট ছাত্রদলের গৌরবময় ইতিহাসকে অক্ষুন্ন রাখতে এরকম সন্ত্রাসীদেরকে সংগঠন থেকে বের করে দেওয়া একান্ত জরুরী।
গত ১১ আগষ্ট নগরীর কুমারপাড়া এলাকায় ছাত্রদল নামধারী কতিপয় সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হন আমাদের মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক ফয়জুল হক রাজু। এ সময় সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়েছেন জাকির হোসেন উজ্জল ও সালাউদ্দিন লিটন। জাকির হোসেন উজ্জলের অবস্থা এখনও আশংকাজনক ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খুনের এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত খুনিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি।
রাজুর উপর হামলার নৃশংসতা দেখে যে কোন মানুষের গাঁ শিওরে উঠলেও ন্যুনতম ঘৃণাবোধ জন্মেনি খুনিদের মনে। তাঁরা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে প্রতিহিংসা হিসেবে বিবেচনা করেই পরিকল্পিতভাবে এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বদরুল আজাদ রানা বলেন, গত ১৩ জুন সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। নবগঠিত কমিটিকে ভারসাম্যহীন আখ্যায়িত করে কমিটি বাতিলের দাবিতে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পরিচালনা করে আসছিলাম। আমরা কমিটি বাতিলের দাবিতে মিছিল-মিটিং, স্মারক লিপি, সংবাদ সম্মেলন করেছি।
কমিটি বিরোধী আন্দোলনে থাকাবস্থায় সিলেট বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, সিলেট বিএনপির সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রাপ্ত, বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য সাবেক মন্ত্রী আমির খছরু মাহমুদ চৌধুরী ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের নেতৃবৃন্দ পৃথকভাবে আমাদের সাথে আলোচনা করে আমাদেরকে আশ্বস্থ করেছিলেন যে, সিসিক নির্বাচনের পরপর কমিটির বিষয়ে আমাদের সাথে আলোচনা করে সুষ্ট সমাধান করা হবে। নেতৃবৃন্দের কথায় আশ্বস্থ হয়ে কমিটি বিরোধী আন্দোলন স্থগিত করে সিসিক নির্বাাচনে ধানের শীষের পক্ষে সক্রিয়ভাবে দিন-রাত পরিশ্রম করে বিজয় নিশ্চিত করেছি যা সিলেট বিএনপির সর্বস্থরের নেতৃবৃন্দ অবগত রয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিজয় মিছিলের সাথে সাথে আমাদের কাঁধে দেওয়া হল আমাদের সহকর্মী রাজুর লাশ। অথচ এই রাজু স্থগিত হওয়া দুই কেন্দ্রে ভোট ডাকাতি রুখতে সকাল ৭টা থেকে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় দায়িত্ব পালন করেছিল।
ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের কাছে জোড় দাবি জানাচ্ছি যে, অনতিবিলম্বে এজাহার নামিয় খুনিদের সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদবী থেকে অব্যাহতি দিয়ে দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা পালন করুন। খুনিদের হাতে কোন সংগঠন নিরাপদ নয়।
তাছাড়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাজী দিলোয়ার হোসেন দিনার একজন অল্প শিক্ষিত, তিনি এসএসসি পাস করতে পারেননি। যার ছাত্র রাজনীতির নেই কোন অভিজ্ঞতা। এমন মানুষের কাছে উচ্চ শিক্ষিত ছাত্রদলের এককর্মীর জীবনের কিবা মূল্য থাকতে পারে।
রাজু ছিল উচ্চ শিক্ষিত সিলেট ল-কলেজের নিয়মিত মেধাবী ছাত্র। কমিটিকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধে সম্মুখভাগে অংশ নেওয়া ও কমিটি বিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণেই রাজু পরিকল্পিতভাবে হত্যার শিকার হয়। এ নিয়ে কারো কোন সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই। কমিটিকে রক্ষা করতেই রাজুকে হত্যা করা হয় বলে আমরা বিশ্বাস করি।
ছাত্রদল নামধারী রকিব একজন সন্ত্রাসী এবং ছিনতাইকারীর গডফাদার। ছিনতাইয়ের অভিযোগে রকিব একবার গ্রেফতার হয়েছিলেন র‌্যাবের হাতে। তার রয়েছে বিশাল সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী বাহিনী। এমন জঘন্য কর্মকান্ডের কারণে তার সাথে ভালো ভালো কর্মীরা তার সঙ্গ ত্যাগ করেছে। খুনি মুস্তাফিজ, এনামুল, নয়ন, ফরহাদ সহ এজাহার নামীয় আসামীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসীসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে যা প্রশাসন অবগত রয়েছে।
আমরা অবিলম্বে এই নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত রকিব, দিনারগণদের ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃতুদন্ডের দাবি জানাচ্ছি এবং অসুস্থ উজ্জল ও লিটনের সুস্থতা কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা ছাত্রদলে সিনিয়র সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম, (পদত্যাগী), জেলা সহ সভাপতি মাশরুর রাসেল (পদত্যাগী), মহানগর ছাত্রদলের সহ সভাপতি সুহেল রানা (পদত্যাগী), জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সুহেল ইবনে রাজা (পদত্যাগী), জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রাজু (পদত্যাগী) , মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক শাকিলুর রহমান শাকিল (পদত্যাগী), মহানগর ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, পদাবঞ্চিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন রুবেল, সাবেক জেলা সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরুল হোসেন হিমেল, সাহিত্য প্রকাশনা সম্পাদক কামরান আহমদ, আব্দুল আহাদ সুমন, রাহাত আহমদ টিপু, সেলিম মিয়া, এনামুল হক জুম্মন, রুবেল আহমদ রানা, মিছবাউল আম্বিয়া, এমসি কলেজ ছাত্রদলে সদস্য সচিব দেলওয়ার হোসেন, ল-কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক আবু ইয়ামিন চৌধুরী, মইনুল ইসলাম, জেলা সদস্য মিজানুর রহমান, এ ইউ রানা শাহ, শাহাজান আহমদ, রাসেল আহমদ, আজমাল হোসেন অপু, মিজান আহমদ চৌধুরী, রাহেল আহমদ চৌধুরী, ইমাম মো. জহির প্রমুখ।

Share





Related News

Comments are Closed