Main Menu

পরকীয়ায় সর্বশান্ত হয়ে দোকানির আত্মহত্যা

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পরকীয়া সম্পর্কে প্রেমিকার পিছনে টাকা খরচ করে সর্বশান্ত হয়ে রমিজ উদ্দিন (৫০) নামে এক মুদি দোকানদার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

আত্মহত্যার পূর্বে প্রেমিকার ছবিসহ একটি চিরকুট লিখে গেছেন রমিজ। সেই চিরকুটে সর্বশান্তর বিষয়টি তিনি উল্লেখ করে তার মৃত্যুর জন্য প্রেমিকা ও প্রেমিকার মাকে দায়ী করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ আগষ্ট) বিকেলে ফতুল্লার সস্তাপুর গাবতলা এলাকায় নুরুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রমিজ উদ্দিন জামালপুর জেলার মেলান্দ থানার টগেরচর গ্রামের মৃত আবেদ আলীর ছেলে।

পুলিশ বিকেলে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে রমিজ উদ্দিনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

চিরকুটে উল্লেখ রয়েছে, মেরীনা আক্তার (১৯) নামে এক মেয়ের সঙ্গে চার বছর ধরে রমিজ উদ্দিন প্রেমের সম্পর্ক। মুদি দোকানে বাকিতে খাওয়ায় রমিজের সঙ্গে মেরিনার পরকীয়ার সম্পর্ক হয়।

এতে বিভিন্ন সময় মেরিনার সঙ্গে ঘুরাঘুরি করে তিন লাখ টাকা খরচ করেছেন। এরমধ্যে মেরিনা তার মুদি দোকান থেকে ১৫ হাজার টাকা ও মেরিনার মা কল্পনা ২৬ হাজার টাকা বাকিতে নানা পণ্য নিয়ে তা পরিশোধ করেননি।

গত ১০ আগস্ট ৮ হাজার টাকা দিয়ে মেরিনাকে শহরের কালিরবাজার থেকে একটি আংটি কিনে দেন রমিজ। এসব বিষয় মেরিনার মা কল্পনা বেগম জানতেন। আর এই আংটি কিনে দেয়ার পরই রমিজের সঙ্গে মেরিনাকে তার মা কল্পনা বেগম চলাফেরা করতে নিষেধ করেন। এতে মেরিনাও রমিজকে তার সাথে কথা বলতে নিষেধ করেন।

এ ক্ষোভেই রমিজ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে চিরকুটে দাবি করা হয়েছে। আর এ মৃত্যুর জন্য মেরিনা ও তার মা কল্পনা বেগমকে দায়ী করেছেন রমিজ।

রমিজ উদ্দিনের পাশের বাড়িরই এক ভাড়াটিয়ার স্ত্রী মেরিনা আক্তার। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানায় বলে জানা গেছে।

রমিজ উদ্দিনের স্ত্রী মরিয়ম বেগম জানান, ‘আমার এক মেয়ে বিয়ে দিয়েছি। আরেক ছেলে আছে লেখাপড়া করে। প্রতারণা করে আমার স্বামীর সর্বস্ব লুটে নিয়েছে মেরিনা ও তার মা কল্পনা বেগম। এরপর তারাই আমার স্বামীকে আত্মহত্যায় প্ররোচণা দিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

মেরিনা আক্তার জানান, ‘রমিজ উদ্দিনকে আমি চাচা বলে ডাকতাম। তার সঙ্গে আমার কোন প্রেমের সম্পর্ক ছিলো না। তার দোকানে বাকিতে মুদি পণ্য কিনতাম। তিনি আমার ও আমার মায়ের কাছে দোকানের বাকির টাকা পাবেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ছড়াচ্ছে রমিজ উদ্দিনের স্ত্রী মরিয়ম বেগম।’

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি শাহ মোহাম্মদ মঞ্জুর কাদের জানান, ‘লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। লাশের পাশ থেকে পাওয়া চিরকুটের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করতে মেরিনাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।’

Share





Related News

Comments are Closed