Main Menu

মোবাইলে প্রতারণা, শিক্ষিকা খোয়ালেন ৫২,৫৫৫ টাকা

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে রোকশনা বেগম নামের স্কুলের এক প্রধান শিক্ষিকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রতারকচক্রের খপ্পরে পড়ে তিনি হারিয়েছেন ৫২ হাজার ৫শত ৫৫ টাকা।

প্রতারণার শিকার ওই শিক্ষিকার বাড়ি উপজেলার দোহালীয়া ইউনিয়নের চৌমোহনা গ্রামে। তিনি পার্শ্ববর্তী গ্রামের রজনি সুগন্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, গতকাল বুধবার সকাল থেকে ওই শিক্ষিকা একের পর এক অপরিচিত মোবাইল নাম্বারে দোকানে দোকানে গিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাচ্ছেন। প্রতারক চক্রের নির্দেশনা মোতাবেক তিনি এক দোকান থেকে টাকা না পাঠিয়ে বিকাশের মাধ্যমে পাঁচটি রবি নাম্বারে মোট ৫২ হাজার ৫ শত ৫৫ টাকা পাঠান। টাকা পাঠানোর সময় যাতে কারও সাথে কথা না বলেন তার জন্য শিক্ষিকা রোকশনা বেগমের মোবাইল ফোনে অনবরত কথা বলতে থাকে প্রতারক চক্রের ঐ সদস্য।

এ অবস্থায় ৫২,৫৫৫ টাকা পাঠানোর পর আরো ১৫ হাজার টাকা পাঠানোর জন্য একটি বিকাশের দোকানে গেলে স্থানীয় একজন সাংবাদিক এত টাকা কার কাছে পাঠাচ্ছেন জানতে চান। শিক্ষিকা তখনো কথা বলছিলেন এবং সাংবাদিকের সাথে কথা বলতে পারবেন না বলে জানান। এরই মধ্যে শিক্ষিকার কানে লাগানো মোবাইল ফোনের অপর প্রান্তে থাকা প্রতারক চক্রের কানে সাংবাদিকের কথার আওয়াজ গেলে সে শিক্ষিকাকে জিজ্ঞাসা করে কে কথা বলছে। উত্তরে শিক্ষিকা যখন সাংবাদিকের পরিচয় বলেন তখনই ফোন কল কেটে দিয়ে ফোনের সুইচ অফ করে দেয় ওই প্রতারক। পরে বারবার ওই নাম্বারসহ টাকা পাঠানো সব নাম্বারে কল দিয়ে সবকটা নাম্বারই বন্ধ পাওয়া যায়।

দোয়ারা বাজারের বিকাশের দোকানে উৎসুক জনতার সামনে প্রধান শিক্ষিকা রোকশানা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ‘আমার মোবাইল ফোনে প্রথমে ৮১৮১ থেকে একটি মেসেজ আসছে আমার মোবাইল নাম্বারে ১৫ হাজার টাকার একটি লটারি লাগছে এমনকি আমি এই ব্যালেন্স থেকে কথাও বলতে পারব আমি তা ব্যাবহার করেও দেখেছি তাদের কথাবার্তা ঠিক আছে। পরে ০১৮৬৩ ৩৫৭ ৯৫০ এই নাম্বার থেকে ফোন করে বলে আমি রবি কোম্পানি থেকে বলছি, আপনি ভাগ্যবান, আপনার নামে রবি কোম্পানির লটারিতে ৩২ লক্ষ টাকার একটি মার্সিটিজ পাজেরো গাড়ি লেগেছে। আপনি গাড়িটি পেতে হলে আমাদের কোম্পানির ভ্যাট ১% আর ৬৪ জেলার জন্য আপনাকে ৬৪ হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হবে।’

তারা বলে- ‘আপনি সকাল সকাল আমাদের বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠাতে হবে এমন কি এ বিষয়ে কারও সাথে কথা বলবেন না।’

ওই শিক্ষিকার মোবাইল নাম্বারে কোন দিন কত টাকা রিচার্জ করা হয়েছে এবং বর্তমান ব্যালেন্সে কত আছে, ইন্টানেটের ব্যালেন্স কত এমভি আছে সব কিছু বলে দেয়ার পর তিনি তাদের কথা বিশ্বাস করেন এবং লটারির গাড়ি পাওয়ার আশায় টাকা পাঠান।

এ ব্যাপারে দোয়ারাবাজার থানার ওসি সুষীল রঞ্জন দাস বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমরা বারবার জনগণকে সতর্ক করছি, এমনকি অপরিচিত কোন মোবাইল নাম্বারে লোভ লালসা দেখালে এসব প্রতারকদের থেকে দূরে থাকার জন্য অনুরোধ করি। এরপরও যদি একজন শিক্ষিত মহিলা প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে তাদের কথামত এতগুলো টাকা পাঠিয়েছেন। এখন আমরা সেই সব নাম্বারের খোঁজখবর নিয়ে প্রতারক চক্রকে সনাক্ত করার চেষ্টা করব।’

Share





Related News

Comments are Closed