Main Menu

জকিগঞ্জে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ইমাম আটক

জকিগঞ্জ সংবাদদাতা: সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার হাজারিচক গ্রামে ৮ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে হাফিজ হাসান আহমদ উরফে আলী হোসেন (২৫) নামে এক মসজিদের ইমামকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে গ্রামবাসী।

রোববার (১৫ জুলাই) রাতে মসজিদের হুজরা থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন তিনি।

গ্রেফতারকৃত ইমাম হাফিজ হাসান আহমদ উরফে আলী হোসেন জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের কুতুব আলীর ছেলে। তিনি হাজারীচক পশ্চিম জামে মসজিদে ইমামতি করেন ও বিয়ানীবাজার আকাখাজনা মাদ্রাসার দাখিল জামাতের শিক্ষার্থী।

এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা জুবের আহমদ বাদী হয়ে ইমামের বিরুদ্ধে জকিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

ধর্ষণের শিকার শিশুর বাবা হাজারীচক গ্রামের জুবের আহমদ জানান, তার মেয়ে স্থানীয় কলাকুটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। প্রতিদিনের ন্যায় রোববার সকালে মেয়েটি স্কুলে যায়। ছুটির পর সকল ছাত্র-ছাত্রী বাড়িতে ফিরলেও তার মেয়ে বাড়িতে ফিরেনি। এরপর আত্মীয় স্বজনসহ তিনি এলাকায় খোঁজাখুজি শুরু করেন। খোজাখুজির এক পর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে তারা হাজারীচক পশ্চিম জামে মসজিদে আশ্রয় নেন। এ সময় মসজিদের ইমামকে ডাক দিয়ে তার কক্ষে প্রবেশ করলে ইমাম লাইটের আলো নিভিয়ে লোকানোর চেষ্ঠা করলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তখন তারা টর্চ লাইট দিয়ে নিখোঁজ ওই শিশুর জুতা ও স্কুল ব্যাগ ইমামের কক্ষে দেখতে পান। তাদের সন্দেহ বাড়তে থাকলে মসজিদের হুজরা তল্লাশী শুরু করেন। খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে ইমামের খাটের নীচে শিশুটিকে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে এলাকার লোকজন ইমামকে আটক করলে তিনি অকপটে সবার নিকট ওই শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে ধর্ষণের কথা শিকার করেন। এ সময় শিশুটির কাপড়ে ধর্ষণের বেশ কিছু আলামত পাওয়া যায়। পরে এলাকাবাসী তাকে কিছু উত্তম মাধ্যম দিয়ে স্থানীয় মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসলে জকিগঞ্জ থানা পুলিশ সেখান থেকে তাকে আটক করে নিয়ে আসেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার (১৫ জুলাই) বিকালে বিদ্যালয় ছুটির পর স্কুল ছাত্রীকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে মসজিদের বারান্দায় হুজরাতে নিয়ে যায় মসজিদের ইমাম। এক পর্যায়ে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে ধর্ষণ করে অচেতন অবস্থায় মেয়েটিকে খাটের নীচে লুকিয়ে রাখে। স্কুলছাত্রী বাড়ীতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রাতে মসজিদের বারান্দায় হুজরা থেকে অচেতন অবস্থায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা মসজিদের ইমাম হাসান আহমদ ওরফে আলী হোসেনকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশ সোপর্দ করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জকিগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মুমিনুল ইসলাম জানান, সোমবার হাসান আহমদকে জকিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। পরে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

Share





Related News

Comments are Closed