হবিগঞ্জে পুলিশের সংবাদ বর্জনের ঘোষণা সাংবাদিকদের
হবিগঞ্জ সংবাদদাতা: হবিগঞ্জে ‘মিথ্যা অভিযোগে’ ধরে এনে পুলিশের অমানবিক নির্যাতনের শিকার ইউকে ভিত্তিক চ্যানেল এস এর সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম জীবন এখনও অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধী আছেন। জীবনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শীঘ্রই ঢাকায় প্রেরণ করা হবে। তার চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে সহায়তার পাশাপাশি সকল সাংবাদিকরা সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছেন। সাংবাদিকদের পাশাপাশি হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছ তাকে হাসপাতালে দেখতে যান এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
এদিকে পুলিশ কর্তৃক সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে হবিগঞ্জের সাংবাদিকরা ৪ দফা দাবিতে পুলিশের সকল অনুষ্ঠান এবং সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (০৪ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে জেলা শহরের কর্মরত সাংবাদিকরা এক সভায় এই ঘোষণা দেন।
৪ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে এই ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদেরকে প্রত্যাহারসহ শাস্তি, সাংবাদিক জীবনের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, তার ক্ষতিপুরণ প্রদান এবং পুলিশ সুপার কর্তৃক সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। সোমবার পুলিশ লাইনে অনুষ্ঠিত জেলা পুলিশ প্রশাসনের ইফতার মাহফিল বর্জনের মধ্য দিয়ে এই ঘোষণা বাস্তবায়ন শুরু হয়।
হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেনে সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তৃতা করেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শামীম আহসান, সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান, সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ চৌধুরী, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নাহিজ, সাবেক সভাপতি শুয়েব চৌধুরী, সাবেক সভাপতি গোলাম মোস্তফা রফিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শাহ ফখরুজ্জামান, ক্লাব সদস্য ফরহাদ চৌধুরী, শরীফ চৌধুরী, সায়েদুজ্জামান জাহির, এম এ হালিম, এম এ মজিদ, প্রদীপ দাশ সাগর, শাকিল চৌধুরী, পাবেল খান চৌধুরী, এমদাদুর রহমান সোহেল, নুরুল হক কবির ও বদরুল আলম প্রমুখ।
এর আগে গত ৩১ মে বৃহস্পতিবার রাতে মিথ্যা অভিযোগে ইউকে ভিত্তিক গণমাধ্যম চ্যানেল এস এর সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম জীবনকে ধরে এনে থানায় রাতভর বেধড়ক মারপিট করে পুলিশ। এমনকি তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে করা হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। দেয়া হয় মোমবাতির ছ্যাকা। পরে তার বিরুদ্ধে পুলিশ এসল্ট এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে মামলা দিয়ে কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ। ওইদিন সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সদর থানার সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে হবিগঞ্জে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদিকরা।
এ ঘটনায় শনিবার (২ জুন) দুপুরে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলামকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করেন জেলা পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। এছাড়াও তদন্ত কমিটি ৩ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। ৩ জুন রবিবার জীবন হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
Related News
হবিগঞ্জে আইফোন ছিনিয়ে নিতে বন্ধুকে হত্যার অভিযোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় আইফোন মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার লোভে বন্ধুকে গলা কেটে হত্যারRead More
হবিগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: হবিগঞ্জ শহরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।Read More



Comments are Closed