সিলেটে নাগরিক সংলাপে নির্যাতনের কাহিনী তুলে ধরলেন দুই অভিবাসী
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটে অভিবাসন চ্যালেঞ্জ বিষয়ক নাগরিক সংলাপে বিদেশে নির্যাতিত হওয়ার কাহিনী তুলে ধরলেন দুই অভিবাসী। দালালদের মাধ্যমে নির্যাতিত হওয়ার করুণ কাহিনী তুলে ধরেন তারা। তারা হলেন- দুবাই প্রবাসী জৈন্তাপুর উপজেলার ফাতেমা বেগম এবং মরিশাস প্রবাসী গোলাপগঞ্জ উপজেলার আরেক যুবক। এরপর তাদের নির্যাতনের বিষয়টি অতিথিদের বক্তব্যেও ঘুরে ফিরে আসে।
নগরীর রোজভিউ হোটেলে ৬ মে রোববার বিকেলে “বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডার আলোকে অভিবাসন চ্যালেঞ্জঃ প্রসঙ্গ বাংলাদেশ” শীর্ষক এ নাগরিক সংলাপের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন-অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ ও ব্রাক-এর যৌথ আয়োজনে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
নগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য ও ব্র্যাকের ভাইস চেয়ারপার্সন ড. আহমেদ মুশতাক রাজা চৌধুরী সংলাপে সভাপতিত্ব ও মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কে এম আব্দুস সালাম। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সংলাপে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন।
অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বর্তমান সরকার এরই মধ্যে এমডিজি’র গোল অর্জন করেছে। এখন এসডিজি বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে স্থিতিশীল শাসনে যে অর্জনটা সরকার করেছে, তা বিশাল। আমাদের এখন খেটে খাওয়ার সময়, কাজ করার সময়। আমরা যাতে না উঠতে পারি সেই ষড়যন্ত্র চলছে। আসুন সবাই মিলে আমাদের এই দেশটাকে গড়ি। দেশের জন্য কাজ করি। নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এর সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সংলাপের মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
বিদেশে গিয়ে নির্যাতনের শিকার সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের ফাতেমা বেগম জানান মাসিক ১৩ হাজার টাকা বেতনে গৃহকর্মী হিসেবে চার বছর আগে কুয়েত গিয়েছিলেন। সেখানে তিনবছর থেকেও প্রাপ্য বেতন পাননি তিনি। উল্টো নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে তাকে।
তিনি বলেন, সে দেশে যাওয়ার পরই আমার মোবাইল ফোন ও পাসপোর্ট নিয়ে যাওয়া হয়। বাসায় সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করতে হতো। কিন্তু কোনো টাকা দিতো না। আরও নানা মানসিক নির্যাতন করতো। বাংলাদেশে আসতে চাইলে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখাত।
দেশে আমার পরিবার ও সন্তানরা টাকা পাঠানোর কথা বলতো। কিন্তু আমি টাকা পাঠাতে পারতাম না। এ ব্যাপারে কফিলের সাথে যোগাযোগ করলে কফিল হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছে বলে জানায়। কিন্তু দেশে আমার পরিবারের কাছে কোনো টাকা এসে পৌঁছায়নি। তিন বছর পর কেঁদেকেটে দেশে ফিরে আসি। দেশে আসার সময় আমারে নগদ ৬০ হাজার টাকা ও বিমান টিকিট বাবদ ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বিদেশ গিয়ে তিন বছরে এই এক লাখ টাকাই আয় করেছি আমি।
তিনি বলেন, ‘বিদেশ গিয়ে আমার মতো আর কেউ যেন নির্যাতিত না হয় এ জন্য সরকারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’
এছাড়াও সংলাপে বক্তারা প্রবাসে জনশক্তি রফতানির ক্ষেত্রে হয়রানি নিরসন, দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ, বিদেশে শ্রমিক নির্যাতন বন্ধে হাইকমিশনের জোরালো পদক্ষেপ ও দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির উপর গুরুত্বারোপ করেন।
Related News
সিলেট জেলা ও মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ১১ দলীয় ঐক্য সিলেট মহানগরের প্রধান সমন্বয়ক, জামায়াতের কেন্দ্রীয়Read More
‘গুপ্ত মামলা’ ও হয়রানির মাধ্যমে সিলেটে প্রবাসীর বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরের উত্তর বালুচরের বাসিন্দা ও স্পেন প্রবাসী ছালেহাRead More



Comments are Closed