সিলেটে চারদিনে বজ্রপাতে ১৪ জনের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট বিভাগে গত চার দিনে বজ্রপাতে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। যার অধিকাংশই হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান।
এর মধ্যে গত পহেলা মে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা গেছেন ৪ জন। এছাড়া বজ্রপাতে আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। মঙ্গলবার (১ মে) দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর ও জামালগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।জামালগঞ্জ উপজেলার খুজারগাঁও গ্রামে কমলা কান্ত তালুকদার (৬০) হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান, এসময় আহত হয়েছেন তার দুই ছেলেসহ ৩ জন।
এদিন দুপুর ১২টায় জামালগঞ্জের খুঁজারগাঁও গ্রামের বাড়ির সামনের হাওরে কাজ করছিলেন তিনি। বজ্রপাতের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন কমলাকান্ত।একই দিন, জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের কলকতখাঁ গ্রামে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন মৃত মুক্তার আলীর ছেলে হিরন মিয়া (৩০)। একই সময়ে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের হাওরে কৃষক আব্দুর রশিদ (৪৫) বজ্রপাতে নিহত হন।
একইদিন জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়ও মারা গেছেন একজন। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরে বোরো ধান কাটতে গিয়েছিলেন আলম মিয়া (৫০)। কালবৈশাখি ঝড় শুরু হওয়ায় হাওর থেকে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় তাঁর।
একই দিন সিলেটের কানাইঘাটে বজ্রপাতে নিহত হয় দুই কিশোর। দুপুরে উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের উপরবড়াই গ্রামের পাশের হারাতৈল দক্ষিণ হাওরে কর্মরত বাবার খাবার পৌঁছাতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে তারা, সেসময় আকষ্মিক বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়। নিহত দুজন হলেন- উপরবড়াই গ্রামের করিম আলী বতাইয়ের ছেলে তুফায়েল আহমদ তামিম ও ফখরুল ইসলামের ছেলে সালমান আহমদ।
গত সোমবার (৩০ এপ্রিল) মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের লাখাইছড়া চা বাগানে বজ্রপাতে নিহত হন অজয় নামের এক চা শ্রমিক। অজয় লাখাইছড়া চা বাগানের বাসিন্দা চা শ্রমিক দীপক গোয়ালার ছেলে। এ সময় আহত হয়েছেন আরো ৪ জন। এছাড়া একই দিনে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুরে তমিজ উদ্দিন (৩৫) নামে এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়। এসময় তার সঙ্গে থাকা ৩টি গরুও ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
একইদিন সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় মো. ইয়াহিয়া আহমদ (৪২) নামে এক ধান কাটা শ্রমিক বজ্রপাতে মারা যান। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরেক শ্রমিক।
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার দক্ষিণ তেলকুমার হাওরে বজ্রপাতে মারা যায় একজন। হাওরে ধানকাটার সময় বজ্রপাতে শামসুল হক (৪০) নামের এ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। নিহত শামসুল হক উপজেলার জাতুকর্ণপাড়ার গাজী আবদুর রহমানের ছেলে।
গত রোববার (২৯ এপ্রিল) সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে লিটন মিয়া (৩০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। কৃষক লিটন সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মিয়ার ছেলে।
এদিকে ২ মে বুধবার হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে জেলার নবীগঞ্জে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন আরেক কৃষক।
বানিয়াচং উপজেলার মকার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে আজিম উদ্দিন (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। একই দিন উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়নের রোকনদিয়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিহত হন শাহিন মিয়া (২৫) নামের আরেক কৃষক। অপরদিকে, নবীগঞ্জ উপজেলার রোকনপুর হাওরে গরু চড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল জব্বার (৫৫) নামে আরেক কৃষকেরও মৃত্যু হয়েছে। সকালে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া দেখেই হাওরে গিয়েছিলেন এরা। কিন্তু আকষ্মিক বজ্রপাতে প্রাণ হারাণ।
বজ্রপাতের ঘটনায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সিলেটের আবহাওয়াবিধ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, এই মুহূর্তে যে তুলনায় বৃষ্টি হওয়ার কথা সে তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাও আপাতত নেই। কালবৈশাখির আশংকা কম থাকলেও বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রপাত এড়াতে সবাইকে সাবধানে চলাফেরা করতে এবং বজ্রপাতের সময় ঘরে বা নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
Related News
সিলেটে ৬০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জকিগঞ্জে ডিবি পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।Read More
কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচা নিয়ে টর্চ জ্বালিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ৪০
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে গাছ কেনাবেচার দেনাপাওনা নিয়ে টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেRead More



Comments are Closed