সিলেটে মা-ছেলে হত্যার দায় স্বীকার তানিয়া-মামুনের
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট নগরীর মিরাবাজারে মা-ছেলের খুনের ঘটনায় আটক তানিয়া ও মামুন হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন। সোমবার (৯ এপ্রিল) রাতে বিচারক হরিদাশ কুমার এর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন দুজনেই। সিলেট মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক আবুল হাশেম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ৯ এপ্রিল রাতে তাদের দুজনের জবানবন্দী নেয়া হয়। এরপর আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) রোকেয়া বেগম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিলেও তদন্তের স্বার্থে অন্যকিছু বলতে রাজী হননি।
নগরীর মিরাবাজারের জোড়া খুনের মামলায় মুল সন্দেহভাজন তানিয়া আক্তারকে সোমবার ভোরে কুমিল্লার তিতাস থানাধীন ঘোষকান্দি গ্রামের নিজবাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই। এর আগে, গত রবিবার বিকেলে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার থেকে তার স্বামী ইউসূফ মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে তানিয়াকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর সিলেটের উপশহরস্থ পিবিআই’র কার্যালয়ে তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এতে মিরাবাজারের জোড়াখুনের ঘটনায় তারা সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানান পিবিআই সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুপার রজাইল করিম মল্লিক।
রেজাউল করিম মল্লিক বলেন- রোকেয়া ও তার ছেলে রোকনকে নিজ হাতে হত্যার কথা স্বীকার করেছে তানিয়া ও তার স্বামী। তারা বলেছে- রোকেয়ার সাথে তানিয়ার পরিচয় বছর দুয়েক আগে। সিলেটে মাজারে আসলে সেখানে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার তানিয়ার সাথে পরিচয় হয় রোকেয়ার। পরে নিজের বাসায় তানিয়াকে আশ্রয় দেয় রোকেয়া। সেখান থেকেই রোকেয়ার মাধ্যমে তানিয়া মাদক ও দেহ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পরে।
বছর খানেক আগে মামুনের সাথে তানিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রায়ই তানিয়া রোকেয়ার বাসায় আসত। এর পেছনে কারণ ছিল তার দেহ ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ততা। মাস খানেক আগে মামুনকে না বলেই রোকেয়া এবং আরো কয়েকজনের সাথে কক্সবাজার ঘুরতে যায় তানিয়া। বিষয়টি বুঝতে পেরে তানিয়ার কাছে জানতে চাইলে মামুনকে সবকিছু খুলে বলে তানিয়া। তানিয়ার দাবী রোকেয়াই তাকে এসবের সাথে সম্পৃক্ত করেছে। এরপর থেকেই রোকেয়ার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে মামুন ও তানিয়া। এর কিছুদিন পরই রোকেয়া ও তার পরিবারকে হত্যার পরিকল্পনা করে তারা।
রেজাউল করিম জানান- পূর্ব পরিকল্পনা থেকেই ঘটনার দিন শুক্রবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যার দিকেই তানিয়া ও মামুন রোকেয়া বেগমের বাসায় যায়। এদিন রাতে তারা রোকেয়া এবং তার ছেলে-মেয়েকে খাবারের সাথে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে অচেতন করে। রাত আনুমানিক ২টার দিকে মামুন ছুরি দিয়ে রোকেয়ার গলায় আঘাত করে এবং পরবর্তীতে মৃত্যু নিশ্চিত করতে রোকেয়ার শরীরে শতাধিক ছুরিকাঘাত করে। এরপর তারা রোকেয়ার ছেলে রোকনকেও হত্যা করে। জীবিত উদ্ধার হওয়া রোকেয়া বেগমের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে রাইসাকেও তারা হত্যার চেষ্টা করে, রাইসা মারা গেছে ভেবে তাকে ফেলে রেখে যায়।
রেজাউল করিম জানান, জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের রাতেই আদালতে হাজির করে জবানবন্দী নেয়া হয়। আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল দুপুরে নগরীর মিরাবাজার খাঁরপাড়ার মিতালী আবাসিক এলাকার একটি ভবনের নিচতলা থেকে রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রূকনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় রোকেয়ার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে রাইসা বেগমকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই বাসায় তানিয়া থাকলেও হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সে উধাও ছিল। ঘটনার দিন রাতেই নিহত রোকেয়া বেগমের ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জনকে আসামী করে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন।
Related News
মৌলভীবাজারে হত্যা মামলায় ২ ভাইয়ের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের যাবজ্জীবন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের মুনিয়ারপাড় গ্রামের মো. আজিজুল মিয়া হত্যা মামলারRead More
সিলেটের জাফলংয়ে নিয়ে তরুণীকে খুন, স্বামী-বন্ধুর মৃত্যুদণ্ড
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জাফলংয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে গার্মেন্ট কর্মী রুনা আক্তার সাথী (১৯)Read More



Comments are Closed