Main Menu

সিলেটে চা শ্রমিকদের প্রতিবাদ সভা

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: চা শ্রমিকদের ৫ দফা দাবি চুক্তি বাস্তবায়নে মালিক পক্ষের কালক্ষেপনের প্রতিবাদে, চা শ্রমিকদের মজুরী বৃদ্ধি ও চুক্তি বাস্তবায়নসহ চা শ্রমিকদের যাবতীয় দাবী দাওয়া মেনে নিতে এবং শ্রমিকদের উপর নির্যাতন বন্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালি কার্যকরী পরিষদের ২২টি চা বাগানের শ্রমিকবৃন্দ প্রতিবাদ র‌্যালী, সভা ও ২ ঘন্টা কর্মবিরতী পালন করেছে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সিলেট ভ্যালি কার্যকরী পরিষদের সভাপতি রাজু গোয়ালার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন লাক্কাতুরা চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সিতু লুহার লুটন গোয়ালা, গুবেসলোহার, বিপত গোয়ালা, সুহেল লায়েক, নিরেন গোয়ালা, অমিরন গোয়ালা, মালনীচড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি জিতেন সরব, রতিলাল কালুরার, দিলিপ বাউরী, কলকালুয়ার, সনজয় বাউরী, হিলুয়াছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মদন গনজু, সাধারণ সম্পাদক রনজিত বাউরী, দিলিপ পুরমি প্রমুখ।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৪ মাসে চা শ্রমিকের মজুরি চুক্তি সম্পাদিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, মালিক পক্ষ চুক্তি সম্পাদনে চরম গড়িমসি করছে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে চা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি দাওয়া মেনে না নিলে শ্রমিকরা কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে এবং এর দায়দায়িত্ব মালিক পক্ষকে বহন করতে হবে। সভায় অবিলম্বে ৫ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের বেতন ৮৫টা থেকে ২৩০ টাকায় উন্নতিকরণ করার জোর দাবি জানানো হয়।

এদিকে একই দাবিতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ও নুরজাহান চা বাগানে চা শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে ২ ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করেছে। পরে চা শ্রমিকরা প্রতিবাদ করে দুটি চা বাগান ব্যবস্থাপকের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ফুলবাড়ি চা বাগানে ও সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২ পর্যন্ত নুরজাহান চা বাগান কারখানার ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনসহ কর্মবিরতি পালন করে চা শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ফুলবাড়ি চা বাগানের কারখানার প্রধান ফটকের সামনে এ বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি রবি বাউরীর সভাপতিত্বে এক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলাই ভ্যালির (অঞ্চলের) সহ-সভাপতি গায়েত্রী রানী রাজভর, মনু ধলই ভেলীর সাধারন সম্পাদক নির্মল দাস পাইনকা, মাসিক চা মজদুর পত্রিকার সম্পাদক সীতারাম বীন ও চা ছাত্র যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সজল কৈরী। একই সাথে নুরজাহান চা বাগানেও সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২ পর্যন্ত একই কর্মসূচী পালন করা হয়। বেলা সাড়ে ১২টায় নুরজাহান চা বাগান কারখানার সামনে এ বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি তরনী ফুলমালির সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন পঞ্চায়েত কমিটির সাধারন সম্পাদক বিক্রম কানুসহ চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
আন্দোলনকারী চা শ্রমিকরা জানান, প্রতি দু’বছর অন্তর বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে চা বাগান মালিক পক্ষের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদের সাথে নতুন চুক্তি করে মজুরী বৃদ্ধি করা হয়। ২০১৭ সনের জানুয়ারী মাসে চা শ্রমিকদের মজুরি চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্র্ণ হওয়ার পর আর নতুন চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়ায় চা শ্রমিকরা এখনও দৈনিক ৮৫ টাকা মজুরিতে শ্রমিক পরিবার সদস্যরা দুঃখ-কষ্টে সংসার চালাতে হচ্ছে। ফুলবাড়ি ও নরুজাহান চা বাগানে বিক্ষোভ প্রদর্শণ করে কর্মবিরতি পালন করে প্রতিবাদ সভা শেষে নতুন মজুরি চুক্তি করে অবিলম্বে তা বাস্তবায়নের দাবিতে পৃথক পৃথকভাবে এ দুটি চা বাগান ব্য্যবস্থাপকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান কওে চা শ্রমিকরা।
উর্দ্ধতন কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ফুলবাড়ি ও নুরজাহান চা বাগান ব্যবস্থাপকরা সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলতে রাজি হননি। বাংলাদেশ চা শ্রমকি ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক রাম ভজন কৈরী বলেন, চা শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন যৌক্তিক। চা শ্রমিক ইউনিয়নও দাবি করে অবিলম্বে চা বাগান মালিকরা নতুন চুক্তি করে মজুরি বৃদ্ধি করে তা বাস্বতবায়ন করতে হবে।

Share





Related News

Comments are Closed