Main Menu

গোলাপগঞ্জে কলোনীতে অগ্নিকান্ড, মা ছেলেসহ নিহত ৫

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মনাবন্দ এলাকায় একটি কলোনিতে আগুন লেগে মা ছেলেসহ ৫জন নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন- লয়লু মিয়ার কলোনীর ভাড়াটে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজার থানার খালেরমুখ গ্রামের ফজলু মিয়ার স্ত্রী তাসকিমা বেগম (৩২) ও তাদের ছেলে তাহসিন (২), গোলাপগঞ্জের দক্ষিণ নোয়াই গ্রামের সেবুল (১৮), একই উপজেলার পনাইরচক গ্রামের মছকন্দর আলীর স্ত্রী সেবু বেগম (২২) ও ইয়াজউদ্দিন জিহাদ (২০)। নিহতদের মধ্যে দুই নারীই অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া আগুনে আহত হয়েছেন অন্তত ২জন। এরমধ্যে গুরুতর আহত আচার ব্যবসায়ী ফজলুু মিয়াকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়- শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ পাহাড় লাইনের লক্ষ্মনাবন্দ এলাকায় একটি কলোনিতে আগুন লাগে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রুপ নেয়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় তিন ঘন্টা চেস্টা চালিয়ে রবিবার সকাল ৬টায় আগুন নিয়ন্তনে আনে। তবে, এর আগেই তিন কক্ষের সেমিপাকা ঘরটি আগুনে ভষ্মিভুত হয়ে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লয়লু মিয়ার সেমি সেমিপাকা বাড়ির তিনটি রুমে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই রুমগুলোতে দুটি পরিবারের বসবাস ছিলো। ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিস ৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। আনুমানিক কোটি টাকার মত ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর বিস্তারিত পরে জানা যাবে বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে।
গোলাপগঞ্জ থানার ওসি একেএম ফজলুল হক শিবলী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে বলে নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তেলের পাইপ লাইন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানান ওসি। তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক দিনমনি শর্ম্মা জানান, ‘গ্যাস রাইজারের উপর বজ্রপাত হলে আগুন ধরে যায়। এতে তিন কক্ষের সেমিপাকা ঘরে আগুন লেগে ঘুমন্ত অবস্থায় দগ্ধ হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। নিহতের মধ্যে একজন শিশু, দুইজন কিশোর ও দুইজন নারী রয়েছে।’
এদিকে, রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঘটনাস্থল পরির্দশনে যান সিলেটের জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান। এসময় তিনি মোবাইলে শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সাথে কথা বলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজ নাজমুল ইসলাম, ওসি একেএম ফজলুল হক শিবলীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান বলেন, আহত ফজলু মিয়াকে প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হবে এবং নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Share





Related News

Comments are Closed