পশ্চিমে যৌনতা হারিয়ে যাচ্ছে!
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: খোলামেলা যৌনতার জন্য পশ্চিমের দেশগুলোর নাম সামনে আসলেও গবেষণা বলছে, আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে তা লোপ পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক সম্প্রতি জানিয়েছেন, পরিবেশ ও সামাজিক কারণে পশ্চিমের দেশগুলোর তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যৌন ক্রিয়ার আগ্রহ ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, আগের প্রজন্ম তরুণ বয়সে যে পরিমাণ যৌন ক্রিয়ায় অংশ নিতেন বর্তমানে তা অন্তত ৪০ ভাগ লোপ পেয়েছে। এই ধারা চলতে থাকলে আগামী এক যুগের মধ্যে তা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
তাদের আশঙ্কা, মানব সভ্যতা টিকিয়ে রাখার এই মাধ্যমটি হ্রাস পেলে পশ্চিমে তরুণ প্রজন্ম তো হারিয়ে যাবেই, জন্ম হারেও মন্দা দেখা দেবে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদলের প্রধান ডেভিড স্পেইগেল্থার জানান, ‘জাপানে যৌনতার প্রতি তরুণ-তরুণীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার কারণে দেশটিতে জন্মহার আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। এর কারণ হচ্ছে সেখানে উপার্জনের জন্য প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়। ফলে সংসার কিংবা যৌনতার চিন্তা করার সুযোগ তাদের আর হয়ে ওঠে না। তাছাড়া সেখানকার আবহাওয়াও অন্যতম কারণ।’
তার দাবি, যুক্তরাজ্য, সুইডেন এবং ইতালি’তেও যৌনতার প্রতি অনাগ্রহ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাত্র ২০ বছর আগে দেশটিতে যৌনতার পরিমাণ যা ছিল বর্তমানে তা অর্ধেক কমে গেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকও একই দাবি করেছেন। তারা বেশ ক’জন তরুণ-তরুণীর উপর জড়িপ চালিয়ে দেখেছেন, যৌনতার চাইতে এদের অধিকাংশই পোকেমন গেম কিংবা ফ্যান্টাসি নির্ভর বিষয়ের প্রতি বেশি আগ্রহী। অনেকে যৌনতাকে নোংরা ব্যাপার বলেও মনে করেন।
তবে ইতালিতে যৌনতার অনাগ্রহের বিষয়টিতে ধর্মীয় কারণও যোগ হয়েছে। গত বছর ইতালিতে ভয়াবহ ভূমিকম্প হওয়ার পর অধিকাংশ মানুষের মধ্যে পাপবোধের জন্ম দিয়েছে। দেশটিতে যেভাবে অবাধ যৌনাচার চলতো, অনেকের বিশ্বাস সেই কারণেই ইশ্বরের শাস্তির শিকার হয়েছেন তারা।
ফলে যৌনতাকে এক প্রকার আতঙ্কের কারণেই ত্যাগ করেছেন সেখানকার অধিকাংশ তরুণ-তরুণী। গবেষণায় দেখা গেছে বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ককে ধর্মীয় কারণে অনাচার মনে করায় স্পেনেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গবেষকদের আশঙ্কা, যৌনতা সম্পর্কে সমাজে এই পাপবোধ যদি দীর্ঘদিন বজায় থাকে তবে তা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে।
যৌনতায় অনাগ্রহের কারণ হিসেবে গবেষক দল আরও একটি ব্যাপারকে দায়ি করছেন, আর তা হচ্ছে কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের অত্যধিক ব্যবহার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ভার্চুয়াল জগতকে পশ্চিমের অধিকাংশ মানুষ প্রাধান্য দেওয়ায় বাস্তব সম্পর্ককে তারা ত্যাগ করছেন।
পশ্চিমের নারীরাও যৌন চাহিদা মেটানোর জন্য এখন আর পুরুষ সঙ্গী খোঁজেন না। বিয়ের মতো সামাজিক সম্পর্কে তাদের আগ্রহ ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। বাস্তবের সত্যিকার সঙ্গীকে খুঁজে পাওয়ার বদলে তারা সেক্স ডল কিংবা ভার্চুয়াল পথ বেছে নিচ্ছেন। ফলে মানব শিশু জন্মের পথ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
Related News
দেশের মোটরসাইকেল প্রেমীদের জন্য বড় সুখবর
লাইফস্টাইল ডেস্ক: দেশে ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত ইঞ্জিনক্ষমতার মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ দিয়েছে সরকার। নতুন আমদানিনীতিতে সম্পূর্ণRead More
যে ৮ টুথপেস্টে পাওয়া যায়নি মাইক্রোপ্লাস্টিক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া প্রচলিত টুথপেস্টের বড় একটি অংশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্তRead More



Comments are Closed