Main Menu

সুদিনের অপেক্ষায় ঝালকাঠির শীতল পাটির কারিগররা

Manual3 Ad Code

মোঃ আল-আমিন, ঝালকাঠি থেকে: ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প শীতল পাটির কারিগররা (পাটিকর) সুদিনের অপেক্ষা করছেন। তারা পাটি তৈরির ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু এর সুবিধা ভোগ করছেন পাইকার ব্যবসায়ীরা। সরকারের মাধ্যমে এই শীতল পাটি বিদেশে রফতানি হলে আবার ফিরে আসবে পাটিকরদের সুদিন। এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
জেলার হাইচলাকাঠি, সাংগর, চিরাপাড়া, সড়ৈ গ্রামসমূহে এখন চলছে পাটি তৈরির ধুম। কখন সকাল গড়িয়ে দুপুর। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে সন্ধ্যা নামে। সে বিষয়ে কারো কোন খেয়াল নেই। আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা সবাই পাটি তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। যুগযুগ ধরে বংশ পরম্পরায় রং বেরংয়ের পাটি তৈরি করছে তারা। পাটির এই মৌসুমে সহজ শর্তে ঋণ পেলে সুদের জাল থেকে বেড়িয়ে আসার কথাও জানিয়েছে তারা। ঝালকাঠি বিসিক কর্তৃপক্ষ শিল্পটিকে বাঁচাতে সহজ শর্তে ঋণ দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
হাইলাকাঠি গ্রামে প্রবেশ করতেই দেখা হয় ঝান্টু পাটিকরের সাথে। কোথায় যাচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১১টি পাটি বিক্রি করতে ঝালকাঠি নিয়ে যাচ্ছি। ৬ হাজার টাকা দাম পাব। আমি সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করলে এর দাম পেতাম ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা।
ওই গ্রামে পাটিকরদের বাড়িতে প্রবেশ করতেই দেখা যায়, শীতের সকালে বাড়ির উঠানে ছোট-বড় সবাই পাটি তৈরির কাজে বসে গেছে। সেখানে কথা হয় শুক্লা দেও বকুলী রানীর সাথে। পাটি তৈরির কাজে শ্রম দিয়ে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে প্রতিক্রিয়ায় তারা বলেন, শ্রম দিয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে আমরা পাটি বুনিয়ে সামান্য দাম পাই। কিন্তু বিক্রেতা ও পাইকাররা কষ্ট না করে পাটির দাম নিয়ে যায়। সাংগর গ্রামের তাপষ চন্দ্র, পুষ্প রানী দাস বলেন, শীতল পাটি ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ায় বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এখন আমরা আমাদের সুদিনের অপেক্ষায় তাকিয়ে আছি। আশাকরি সরকার আমাদের পাটি সরাসরি ন্যায্য মূল্যে ক্রয় করে বিদেশে রপ্তানি করলে আমরা উপকৃত হবো।

Manual2 Ad Code

স্থানীয় শীতল পাটি উন্নয়নমূলক সমবায় সমিতির সভাপতি বলাই চন্দ্র এ বিষয়ে বলেন, বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় শীতল পাটি বিশ্ব স্বীকৃতি পাওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের কাছ থেকে সরাসরি ক্রয় করে বিদেশে শীতল পাটি পাঠানোর ব্যবস্থা হলে আমরা লাভবান হবো। পাইকারদের হাত থেকে রেহাই এবং ন্যায্য মূল্য পাব। পাশাপাশি পাটির মৌসুমে বিনা সুদে বা সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়ায় ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছি। কারণ-চড়া সুদে টাকা এনে তৈরি পাটি বিক্রি করে সুদ পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। তাই এই সুদের জাল থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের এই পাটির মৌসুমে অর্থনৈতিক সহযোগিতা চাই।

এ বিষয়ে ঝালকাঠির বিসিক উপ-ব্যবস্থাপক জালিস মাহমুদ বলেন, ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ঝালকাঠির এই কুটির শিল্পটি যাতে আরো ভাল করতে এবং এর সাথে জড়িতরা তাদের জীবন মান উন্নয়ন করতে পারে তাদের সহযোগিতায় বিসিক পাশে থাকবে। তাদেরকে স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে সহায়তা করা সম্ভব যদি তারা এগিয়ে আসে।

Manual4 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code