Main Menu

‘চাকরী রক্ষায় আমরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো’

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিস সহকারী কল্যাণ সমিতির (বাস্বাবিঅসকস) কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান এম গৌছ আহমদ চৌধুরী বলেছেন, স্বাস্থ্য বিভাগে প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি ২০১৭ কার্যকর হলে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীওে মনে চরম হতাশা নেমে আসবে এবং এর ফলে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম ব্যাহতহবে। দেশের স্বার্থে, কর্মচারীদের স্বার্থে প্রস্তাবিত নিয়োগবিধি ২০১৭ বাতিল করে পুন:নিয়োগবিধি প্রণয়ন করতে হবে।অন্যথায় নিজেদের চাকরী রক্ষা, পরিবার পরিজনের বাঁচার স্বার্থে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।
স্বাস্থ্য বিভাগে প্রস্তাবিত নতুন নিয়োগবিধি ২০১৭ বাতিলপূর্বক দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের ১০হাজার ৪র্থ শ্রেণী এবং প্রায় ২হাজার ৩য় ও ২য় শ্রেণীর বিদ্যমান পদ পদবী সুরক্ষা করে নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ আলোচনা সাপেক্ষে নতুন নিয়োগবিধি পূনঃপ্রণয়ন এবং প্রায় ১২ হাজার পদ পদবী বিলুপ্তির প্রস্তাব করে কর্মচারী ছাটাইয়ের আতংক সৃষ্টি কওে কর্মচারীসহ জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টির অপচেষ্টায় নিয়োজিত ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তির দাবীতে সিলেট বিভাগের স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মচারী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শুক্রবার সকালে সিলেটের সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রাংগনে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিস সহকারী কল্যাণ সমিতি সিলেট বিভাগ আঞ্চলিক পরিষদের সহসভাপতি মো. আবদুল বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাস্বাবিঅসকস-এর কেন্দ্রীয় মহাসচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। সমিতির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রণেন্দু কুমার দাস ও স্টোর কিপার কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলী বাবলুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. ডহমাংশু লাল রায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, জনগণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে যাতে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয় এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নজর রাখতে হবে।
সভার শুরুতে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিস সহকারী কল্যাণ সমিতি আঞ্চলিক পরিষদ সিলেট বিভাগ-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুল হক,পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ফরিদ উদ্দিন পলাশ,পবিত্র গীতা থেকে উদ্বৃতি পাঠ করেন অরুন চৌধুরী।
সিলেটে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্মরণকালের বৃহত্তম এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমিতির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মোঃ রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সমাজ কল্যাণ সচিব মোঃ আতিকুল ইসলাম,বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিস সহকারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় পরিষদের নির্বাহী সম্পাদক মাতুব্বর আবুল কালাম আজাদ, মোঃ মানিকুজ্জামান, বাংলাদেশ হেলথ এ্যাসিসটেন্ট এ্যাসোসিয়েশন-এর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল্লাহ আল আনসারী, স্যানিটারী ইন্সপেক্টর এসোসিয়েশনের বিভাগীয় সভাপতি মোঃ ফারুক আহমদ, সিএইচসিপি কল্যাণ সমিতির সভাপতি আকরামুল হক চৌধুরী, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) সিলেট-এর সভাপতি ইসমাইল আলী, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিস সহকারী কল্যাণ সমিতি হবিগঞ্জ জেলা ইউনিটের সভাপতি শাহেদ আলী, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিস সহকারী কল্যাণ সমিতি, মৌলভীবাজার জেলা ইউনিটের সভাপতি মোহাদ্দেছ বখত চৌধুরী, উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার সমিতির সাধারণসম্পাদক প্রদীপ কুমার দাস, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিস সহকারী কল্যাণ সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা ইউনিটের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিস সহকারী কল্যাণ সমিতি মৌলভীবাজার জেলা ইউনিটের প্রচার সম্পাদক সুয়েব আহমদ, ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মৌলভীবাজার-এর হিসাব রক্ষক ফয়েজ আহমদ সুমন, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিস সহকারী কল্যাণ সমিতি আঞ্চলিক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সিরাজুল আলম, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় স্টোর কিপার কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলী বাবলু, ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট এসোসিয়েশনের পক্ষে পার্থ সারথী দাস, বাংলাদেশ হেলথ এ্যাসিসটেন্ট এ্যাসোসিয়েশন মৌলভীবাজার জেলার সভাপতি অমলেস পুরকায়স্থ, স্বাস্থ্য বিভাগীয় মাঠ কর্মচারী এসোসিয়েশনের সাবেক অতিরিক্ত মহা-সচিব আতিকুর রহমান, সিলেট জেলা স্বাস্থ্য বিভাগীয় ৪র্থ শ্রেণী কল্যাণ সমিতি সিলেট জেলার সভাপতি সেলিম মুন্সি, গাড়ি চালক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক, সিলেটের শামীম আহমদ প্রমুখ।
প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাস্বাবিঅসকস-এর কেন্দ্রীয় মহাসচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, নতুন নিয়োগবিধি অনুমোদনের পর তা কার্যকর হলে নিয়োগবিধিতে পদেও উল্লেখ না থাকায় এবং পদ সংখ্যা কম থাকায় হিসাবরক্ষণ কার্যালয় কর্মচারীদের বেতন-ভাতার বিল পাশ করবে না, ফলে তাদের বেতন ভাতা প্রদানে সংকটের সৃষ্টি হবে। একইভাবে নিয়োগবিধিতে বর্তমান কাঠামোর চেয়ে কর্মচারীর সংখ্যা কম থাকায় উদ্বৃত্ত কর্মচারীদেরকে ছাটাই করার আশংকা রয়েছে।
উল্লেখ্য প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য বিভাগীয় নন মেডিকেল কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগবিধি ২০১৭ প্রত্যাখ্যান কওে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য বিভাগীয় অফিস সহকারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় পরিষদের আহবানে গত ১০ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে সমিতি অধিভুক্ত সদস্যরা বুকে কালো ব্যাজ ধারন করে দায়িত্ব পালন, প্রত্যেক জেলা/বিভাগে কর্মচারী সমাবেশ, স্বাস্থ্য বিভাগে বিভিন্ন শ্রেণী/পেশার নেতৃবৃন্দের সাথে সাংগঠনিক মতবিনিময় করছেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ কর্মসূচী চলবে।
স্বাস্থ্য বিভাগে প্রস্তাবিত নিয়োগবিধিকে কেন্দ্র করে নন-মেডিকেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ছাটাই আতংক শুরু হয়েছে এবং সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভের। এ নিয়োগবিধিতে স্বাস্থ্য বিভাগের তৃতীয় ও চতূর্থ শ্রেণীর মোট নয় হাজার নয়শত আটানব্বইটি পদ বিলুপ্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান কাঠামোতে অফিস সহকারীর ১৯২৫টি পদ থাকলেও নতুন বিধিতে ৯৯৩টি পদ উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে প্রস্তাবিত নিয়োগবিধিতে কর্মচারীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেয়ায় নতুন করে কোন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান চালু করা হলে সেখানেও নতুন কর্মচারী নিয়োগ করা সম্ভব হবে না।

Share





Related News

Comments are Closed