Main Menu

অাক্কেলপুরে ১৪টি দোকান ঘর সিলগালা করলেন ইউএনও

মোঃ অালী হাসান, জয়পুরহাট প্রতিনিধি: জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর উত্তর বাজারে সরকারি হাটের সেড দখল করে ১৪টি নির্মিত দোকানঘরে সিলগালা করে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালাহ্উদ্দিন আহমেদ। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক একাধিকবার নোটিশ দেয়া সত্ত্বেও অবৈধ দখলকৃত জায়গা ছেড়ে না দেয়ায় ওই ১৪টি দোকান ঘর সিলগালা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইউএনও সালাহ্উদ্দিন আহমেদ। গত মঙ্গলবার দুপুরে ওই সব দোকানঘর সিলগালা করা হয়।
দোকান মালিকেরা বলছেন ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ জোয়ারদার প্রতিটি দোকান মালিকের কাছ থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছিলেন।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, গত দু’বছর আগে গোপীনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ জোয়ারদার গোপীনাথপুর উত্তর বাজারের সরকারি সেডে সরকারি অর্থায়নে দোকান নির্মাণ করেন। পরে সেগুলো মোটা অংকের টাকা নিয়ে এলাকার ১৪ জনকে দিয়ে দেয়। এবং তাদেরকে কোন কাগজপত্রও করে দেয়নি। এরপর থেকে দোকানের মালিকেরা শুধু মাত্র হাট ইজারাদারকে টোল দিয়ে চলে আসছেন। হঠাৎ করেই গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালাহ্উদ্দিন আহমেদ হাটের সরকারি সেডে অবৈধ দোকান ঘর গুলো সিলগালা করে দেন। এর আগে হাটের সরকারি সেডে অবৈধ ভাবে দখলকৃত স্থপনা অপসারণ করার জন্য জয়পুরহাট জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইশরাত ফারজানার গত ১৪ নভেম্বর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ওই হাটের ১৪জন দোকানের মালিককে দেওয়া হয়।
চিঠি পাওয়ার পরে ইউপি চেয়ারম্যানের কথায় দোকান মালিকেরা তাদের স্থাপনা বা জিনিসপত্র অপসারণ করেননি। এরপর গত ১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহ্উদ্দিন আহমেদ গোপীনাথপুর উত্তর বাজারের আবু হান্নান, জলিল সেনার, নাজমুল ইসলাম প্রামানিক, আব্দুস সালাম প্রামানিক, নজিবর রহমান, বকুল মন্ডল, বিদ্যুৎ সমজদার, আসিদুল প্রামানিক, আব্দুল মান্নান, বেলাল প্রামানিক, ফজল খাঁ, আয়ুব ফকির, দিলীপ, নূরুনন্নবীর দোকান ঘরের মালামাল সহ সিলগালা করে দেন।
গোপীনাথপুর উত্তর বাজারে সরকারি সেডে দোকানের মালিক বিদ্যুৎ হোসেন বলেন, আমি দোকান ঘর নেওয়ার জন্য ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ জোয়ারদারকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়েছি দোকান ঘরের জন্য। তিনি আমাকে কোন কাগজপত্র করে দেয়নি। টাকা দিয়ে ঘর নিয়ে ব্যবসা করছি প্রায় দু’বছর হলো কোন সমস্যা হয়নি। হঠাৎ গত মঙ্গলবার ইউএনও আমার সহ হাটের সেডের জায়গায় ১৪ জনের ঘরে মালামালসহ সিলগালা করে দেন। শুক্রবার পর্যন্ত আমাদের দোকান ঘরে সিলগালা অবস্থায় রয়েছে।
হাটের সেডে দোকান মালিক নজীবর রহমান বলেন দোকান ঘরের জন্য আমি চেয়ারম্যানকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। তিনি আমাকে কোন কাগজপত্র করে দেননি। তিনি বলেছিলেন কোন সমস্যা হবে না।
গোপীনাথপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাঈদ জোয়ারদার বলেন, খুব দ্রুত দোকান ঘরগুলো খুলে দেওয়া হবে। দোকান ঘর বরাদ্দের নামে আমাকে কেউ কোন টাকা দেয়নি। এবং তাদের সাথে কোন কাগজপত্র দেওয়ার কথাও নেই।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিনা রহমান বলেন, গোপীনাথপুর উত্তর বাজারের সরকারি হাটের সেডে ১৪টি অবৈধ দোকান ঘরে যেহেতু ইউএনও সার সিলগালা করেছেন এবিষয়ে তিনি ভাল বলতে পারবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালাহ্উদ্দিন আহমেদ বলেন, গোপীনাথপুরে হাটের সেডে ১৪টি দোকান ঘরে সিলগালা কবে খুলে দেওয়া হবে এবিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত
নেওয়া হয়নি।

Share





Related News

Comments are Closed