নামে হাজিরহাট হলেও এখন যেন শুধুই নদী
মোঃ মামুন তানভীর, দশমিনা (পটুয়াখালী) সংবাদাতা: নদী ভাঙনের এই ছবিটি এখন শুধুই স্মৃতি! নামে হাজিরহাট হলেও এখন যেন শুধুই নদী । দশমিনা উপজেলার হাজিরহাট বাজার থেকে ছবিটি চলতি বছরের আগষ্ট মাসে তোলা হয়েছিল। ছবিটি এখন শুধুই স্মৃতি। নদী ভাঙন নিয়ে স্থানীয়সহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল বহুবার। কিন্তু যারা উদ্যোগ নিবেন তারা যেন ঘুমিয়ে আছেন। নদী ভাঙনে বিলীন হতে বাকি আছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজার মসজিদসহ কয়েকটি দোকান মাত্র। স্থানীয় বাসিন্দারা এখনও যেন আশায় বুকবেধে আছেন নদী ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্যেগের অপেক্ষায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদী ভাঙনে হুমকির মুখে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাজির হাট লঞ্চঘাট বাজার প্রায় ৭০ ভাগ বিলীন হয়ে গেছে। তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারন করেছে। সম্প্রতি শীত মৌসূম হলেও অব্যাহত রয়েছে হাজিরহাট বাজার এলাকার নদীর ভাঙন। তীরবর্তী বসতঘর,বেড়িবাঁধ,লঞ্চঘাট,ফসলি জমি ও বিস্তীর্ণ এলাকা ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
জানা যায়, হাজিরহাট লঞ্চঘাট ও বাজার এলাকা ২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া অব্যাহত ভাঙনে প্রায় ৫ কিলোমিটার নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে উপজেলার একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ একটি নদী বন্দর হাজিরহাট এখন হুমকির মুখে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পাওয়া যায়, হাজিরহাট এলাকার আশপাশের বিভিন্ন কৃষি নির্ভর গ্রাম, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। শীত মৌসূম হলেও নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে মাঠঘাটসহ ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে হাজিরহাট বাজার এলাকার ৭০ শতাংশ এলাকা নদীর ভাঙনে চিরতরে হারিয়ে গেছে। ফলে হাজিরহাট বাজার এলাকার শত শত সাধরন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় হয়ে পড়েছে। এখন বাকি আছে শুধু মসজিদসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠন। নদী ভাঙন কবলিত ক্ষতিগ্রস্তদের ভাগ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কোন সাহায্য সহযোগিতা জুটেনি। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা ভয়ে তাদের বসতঘর অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। নদী ভাঙন কবলিত এলাকার শত শত পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার সরকারি খাস জমিতে অস্থায়ীভাবে বসতঘর তৈরি করে বসবাস করছে। নদী ভাঙনের আতস্কে নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা রাতে ঘুমাতে পারেনা। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডেও কর্তৃপক্ষের যথাযথ দায়িত্ব পালন না করা ও ভাঙন রোধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় ভূক্তভোগীরা নদী ভাঙন রোধের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাছে আবেদন নিবেদন করেও কোন সুফল পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ।
নদী ভাঙন রোধকল্পের বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন শওকত বলেন, দশমিনার মানচিত্র ছোট হয়ে আসছে। আমি ব্যক্তিগত উদ্যেগে পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল হক মাহমুদকে নদী ভাঙন রোধের জন্য একটি লিখিত আবেদন করেছি, কিন্তু মন্ত্রী আশ^াস দিলেও আজ পর্যন্ত তা আশার আলোরমুখ দেখেনি। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রি বলেছিলেন এমপির ডিউ লেটারের প্রয়োজন আছে সে কারনে সম্ভবত কাজ সামনে আগাচ্ছে না।
Related News
বরিশালে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দৈনিক সমকালের বরিশালের সাবেক ব্যুরো প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্তRead More
বরিশালে পুলিশ হেফাজতে নারীর মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ স্বামীর
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বরিশালের বাকেরগঞ্জে পুলিশ হেফাজতে নাদিরা বেগম (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।Read More



Comments are Closed