কালাই উপজেলা মুক্ত দিবস আজ
মোঃ অালী হাসান, জয়পুরহাট প্রতিনিধি: আজ ১৪ ডিসেম্বর জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদারদের বিতারিত করে অকোতভয় মুক্তিযোদ্ধারা এ উপজেলাকে শত্রুমুক্ত করেন। কালাই উপজেলাবাসী গর্বভরে শ্রদ্ধার সাথে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিনটি স্মরণ করেন।
প্রথমে কালাই পুরানো খাদ্যগুদামের পিছনে পাকদোসরা টর্চার সেল স্থাপন করে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষদের ধরে।এনে নির্মম নির্যাতন চালাতে থাকে। এ ছাড়া কালাই উপজেলার বাখড়া ব্রীজ এলাকায় পাকসেনারা বাঙ্কার স্থাপন করে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে স্থানীয় রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্যদের সহযোগীতায় অত্যাচার ও নীপিড়ন শুরু করলে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে মুক্তিযোদ্ধারা।
মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপ কমান্ডার শেখ সালেকের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় বাখড়া এলাকায়। প্রচন্ড প্রতিরোধের মুখে পাকসেনারা পিছু হটে বগুড়ার দিকে পালিয়ে যায়। অপরদিকে
মিত্রবাহিনীর আক্রমণে টিকতে না পেরে আরেকদল পাকসেনা বগুড়ার দিকে পালানোর সময় মুক্তিযোদ্ধারা কানমনা-হারাবতি খাড়ির বাঘপাড়া অংশে কাঠের নির্মিত ব্রিজটি পুড়ে দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অবশেষে ১৪ ডিসেম্বর বিকেলে কয়েকটি ট্যাঙ্ক জয়পুরহাট থেকে কালাই হয়ে মুলগ্রাম এলাকায় পৌঁছুলে পাকসেনাদের ট্যাঙ্ক ভেবে অকতোভয় মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক সাহিত্যিক আলাউদ্দিন স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়। প্রকৃতপক্ষে ওই ট্যাঙ্কগুলো ছিল মিত্রবাহিনীর। তারা সেখানে পৌঁছে আলাউদ্দিনের সাহসের প্রশংসা করে তাকে জড়িয়ে ধরে উল্লাস করতে থাকে। এরপর ওইদিনই কালাই ময়েন উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা কাজী হাবিবুল হাসান হেনা মাস্টারের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কালাই উপজেলাকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা হয়। সে সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগ্রাম কমিটির আহবায় সাহিত্যিক আলাউদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা মনীশ চৌধুরী, মরহুম আবদুল লতিফ তালুকদার, মহির উদ্দীন, খিরাজ আকন্দ। এবার তার সহযোগীদের বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর দাবি তুলেছে বিশিষ্টজনরা। এ দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে কালাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় মুক্তদিবসের কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা সভা। এতে সংগ্রাম কমিটির আহবায় সাহিত্যিক আলাউদ্দিন এর সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রেজাউল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা বাবু মনিশ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলী, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়াহেদ, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মজিদ, কালাই প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম, সহ-সভাপতি অফির উদ্দিন, আতাউর রহমান ও এটিএম সেলিম সরোয়ার প্রমুখ।
Related News
চলন্ত অটোরিকশা থেকে থুতু ফেলতে যাওয়া তরুণীর মাথা থেতলে দিলো ট্রাক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পাবনার সাঁথিয়ায় চলন্ত অটোরিকশা থেকে মাথা বের করে থুতু ফেলতে গিয়ে ট্রাকেরRead More
পাবনায় মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে ৩ শিশুর মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পাবনা সদর উপজেলায় বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে গোসল করতেRead More



Comments are Closed