Main Menu

কালাইয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে জুয়ার আসর

মোঃ অালী হাসান, জয়পুরহাট প্রতিনিধি: প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসছে জুয়ার আসর, এ জুয়ার খপ্পরে সর্বশান্ত হচ্ছে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের শত শত পরিবার। এই সর্বনাশা খেলায় সর্বশান্ত হয়ে অনেক পরিবারের বিবাহ বিচ্ছেদসহ আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার সীমান্তবর্তী এবং দুপঁচাচিয়া উপজেলার চামরুলের ইউনিয়ন এলাকায় নির্জন স্থানে প্রকাশ্যে শামিয়ানা টাংঙ্গিয়ে প্রতিদিন চলে বাঁকাদও জুয়ার আসর। কালাই উপজেলা, পৌরসভাসহ ১৪টি পয়েন্টে বাঁকাদও জুয়ার বোর্ড কর্তৃক ১৩টি সিএনজি এবং ৭টি ব্যাটারি চালিত অটোভ্যান জুয়াড়িদের বহনের জন্য রিজার্ভ করে রাখা হয়। জুয়ার আকর্ষনীয় প্রলোভন দিয়ে অন্তত ১৪টি পয়েন্টে এই ভ্রাম্যমান সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোভ্যানগুলি যথক্রমে উপজেলার পুনট বাজার ও চাকলমুয়া মোড়, পাঁচগ্রাম রহমতের বাজার, মোলামগাড়িহাট, মহেশপুর মোড়, করিমপুর ত্রি-মহনি, মোসলিমঞ্জ বাজার, নুনুজ বাজার, বৈরাগীরহাট, মাত্রাই বাজার, বানদিঘী মোড়, নান্দাইল দিঘী এলাকা, পৌরসভার কালাই বাসস্ট্যান্ড ও পাঁচশিরা বাজারে জুয়াড়িদের বহনে ভাড়া করা সিএনজি ও অটোভ্যানগুলো এই সব পয়েন্টে জুয়াড়িদের জন্য অপেক্ষা করে এবং মোবাইল ফোনে তারা একত্র হলে সিএনজিগুলি সরাসরি বাঁকাদও জুয়ার বোর্ডে নিয়ে যায়। এসব সিএনজিগুলোর ভাড়া জুয়ার আয়োজকরাই বহন করে বলে জানা গেছে। ঢাকঢোল পিটিয়ে শামিয়ানা টাংঙ্গিয়ে বাঁকাদও জুয়ার আসর চললেও প্রশাসনের কোন মাথা ব্যথা নেই। এ জুয়াকে কেন্দ্র করে ওই স্থানে প্রতিদিন বসে হোটেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান। জুয়াড়িদের উপস্থিতি প্রতিদিন মেলায় পরিনত হয় জুয়ার আসর। জুয়ার নেশায় একেক জন কৃষক আমন ফসলের সমূদ্বয় ধান ও হালের গরু বিক্রি করে ওই জুয়ার আসরে গিয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে। এতে অনেক জুয়াড়িদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বসহ বিবাহ বিচ্ছেদ এমনিক আত্নহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। এতে সর্বশান্ত হচ্ছে কালাইয়ের শত শত পরিবার।
বাঁকাদও জুয়া বোর্ডের ডিলার আজিম ও ধলুর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তারা কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।
এ ব্যাপারে দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি দুপচাঁচিয়া থানায় যোগদানের পর জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা দিয়েছিলেন। উপজেলার বিভিন্ন স্থানের মতো বাঁকাদও জুয়ার আসরেও অভিযান চালিয়েছেন। বাঁকাদও জুয়ার আসরের সামিয়ানা সহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি আগুনে ভষ্মিভূত করে দিয়েছেন। এরপরও যদি জুয়ার আসর বসে তা যে কোন মূল্যে বন্ধ করা হবে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আফাজ উদ্দিন বলেন, উপজেলার পার্শ্ববর্তী বাঁকাদও জুয়ার আসরের কথা জানলাম। জনস্বার্থে বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ এবং দুপচাঁচিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করবেন বলে জানান।

Share





Related News

Comments are Closed