Main Menu

‘খুনের ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে’

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের শ্রীধরপাশা গ্রামের নূর আলী হত্যাকাণ্ডের আসামী সন্ত্রাসী জাবেদ পলাতক থেকে সাংবাদিকদের প্রভাবিত করে মিথ্যা তথ্যে ভরা সংবাদ প্রকাশ করাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নূর আলীর বিধবা স্ত্রী লিলু বেগম।

শনিবার (২৫ নভেম্বর) সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিলু বেগম বলেন, স্বামী হারিয়ে ৩টি শিশু সন্তান নিয়ে আমি আজ দিশেহারা। আমার স্বামী নূর আলী হত্যাকান্ডের প্রধান আসামী জাবেদ এখনও পলাতক। সে পলাতক অবস্থায় সিলেট থেকে প্রকাশিত মৌলবাদীদের মুখপাত্র হিসাবে পরিচিত একটি পত্রিকার সাংবাদিকদের প্রভাবিত করে হত্যাকাণ্ডটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা শুরু করেছে। এ লক্ষে গত ২২ নভেম্বর ঐ পত্রিকায় মিথ্যা তথ্যে ভরপুর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। আমি ঐ পত্রিকায় প্রমাণসহ প্রতিবাদ প্রকাশের জন্য গেলে তারা তা ছাপতেও অস্বীকার করে।

তিনি বলেন- গত ১৬ সেপ্টেম্বর শ্রীধরপাশা গ্রামের সন্ত্রাসী জাবেদ ও তার বাহিনীর বন্দুক হামলায় আমার স্বামীসহ গ্রামের মোট ৪৩ জন মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর ১১দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার স্বামী মৃত্যুবরণ করেন।

১৬ সেপ্টেম্বর হামলার পর ১৭ সেপ্টেম্বর আমার চাচা আবুল খয়ের বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় একটি মামলা (নং ১০/১৪৮) দায়ের করেন। এরপর আসামী জাবেদ ও তার বাহিনী আমাকে নানাভাবে নানা প্রলোভন দেখাতে শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। এখনও সে পলাতক থেকে আমাকে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন- আমাকে টলাতে না পেরে সিলেট থেকে প্রকাশিত মৌলবাদীদের মুখপাত্র হিসাবে পরিচিত একটি পত্রিকার সাংবাদিকদেরকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করাচ্ছে।

গত ২২ নভেম্বর তেমন একটি প্রতিবেদনে আমার স্বামীর খুনি হিসাবে যে ফয়সলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সে আমাদের আত্মীয়। এই হত্যাকান্ডের সাথে তার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, শ্রীধর পাশা কওমী মাদ্রাসার জমি নিলামকে কেন্দ্রকরে সৃষ্ট ঘটনাকে বন্দুক যুদ্ধ বলা হলেও সেদিন জাবেদ ও তার বাহিনী একতরফা হামলা এবং গুলি চালিয়ে ঐ গ্রামের ৪৩ জনকে আহত করে। এলাকায় এ ঘটনার বহু প্রত্যক্ষদর্শী আছেন। ঘটনার ভিডিও ফুটেজও আমাদের কাছে আছে। তারা ঐ পত্রিকার প্রতিবেদনে আমি ‘এলাকা ছাড়া’, ‘দুদিন পর আমার স্বামী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন’ ‘গুলি নূর আলীর হাতে লেগেছিলো’ এ তিনটি তথ্যও সম্পূর্ণ মিথ্যা-বানোয়াট। প্রকৃত সত্য হলো, আমি আমার বাড়িতেই আছি, তিনি চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১১দিন পর মৃত্যুবরণ করেন, আমার স্বামীর সমস্ত শরীর গুলিবিদ্ধ হয়েছিলো, যা মেডিকেল রিপোর্টেও উল্লেখ আছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন- তার স্বামী একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আর জাবেদের দাদা এলাকায় ‘শান্তি কমিটির’ নেতা হিসাবে পরিচিত।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত লিলু বেগমের মামা, চাচা এবং আত্মীয় স্বজনও দাবি করেন, সন্ত্রাসী জাবেদ ও তার পরিবারবর্গ আত্মীয় স্বজন জামাত-শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত। তার অনেকগুলো বৈধ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আছে।
একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নূর আলী হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্ত্রাসী জাবেদ ও তার বাহিনীর মিথ্যা তথ্যে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তারা সাংবাদিকসহ সকল মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি হত্যাকান্ডের প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে লিলু বেগমের পক্ষে লিখত বক্তব্য পাঠ করেন তার মামাতো ভাই মতিউর রহমান। উপস্থিত ছিলেন তার মামা আব্দুল মালিক, আব্দুল হান্নান, এখলাছুর রহমান, আব্দুল হামিদ, ভাই শাহান আহমদ, মকবুল মিয়া, শাশুড়ি নিহত নূর আলীর মা মমতা বেগম প্রমুখ।

Share





Related News

Comments are Closed