ছাত্রলীগকর্মী মিয়াদের দাফন সম্পন্ন
জগন্নাথপুর সংবাদদাতা: সিলেট নগরীর টিলাগড়ে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ওমর আহমদ মিয়াদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বাদ আসর সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বালিশ্রী গ্রামে জানাযার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
গত সোমবার বিকেলে নিজ দলের বিবদমান গ্রুপের কর্মীদের ছুরিকাঘাতে নিহত লিডিং ইউনিভার্সিটির তৃতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্র ওমর আহমদ মিয়াদের লাশ তার গ্রামের বাড়ী জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বালিশ্রী গ্রামে মঙ্গলবার বিকেলে এসে পৌছলে সেখানে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারনা হয়।
এ সময় তার মা-বাবাসহ আত্মীয়-স্বজনের আর্তনাদে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এ সময় তার মা আফরোজা সুলতানা ছেলের লাশ দেখে বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন। জ্ঞান ফিরলেই আমার সোনা বাবা মিয়াদ কই বলে চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন। বাবা আকুল মিয়া ছেলেকে হারিয়ে পাগল প্রায়। তিনি বলেন অনেক কষ্টে বহু স্বপ্ন নিয়ে ছেলেকে ভার্সিটিতে ভর্তি করিয়েছিলাম। স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষে ছেলে অনেক বড় হবে, পরিবারের হাল ধরবে। আমার ছেলেকে খুন করে সন্ত্রাসীরা সব স্বপ্ন ধুলিসাৎ করে দিয়েছে। তিনি বলেন আমি নোংরা রাজনীতিকে ধীক্কার জানাই। তিনি মহান আল্লাহর দরবারে দু’হাত তুলে ছেলে হত্যার বিচার চান। বিকেল পোনে ৫টায় নিজ বাড়ীতে জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা নামাজে ইমামতি করেন নিহত মিয়াদের চাচাত ভাই হাফিজ রুহুল আমিন। জানাজার নামাজে সর্বস্থরের বিপুল সংখ্যক লোক উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে ওমর আহমদ মিয়াদের লাশ পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়। জানাজা নামাজ শেষে উপস্থিত লোকজন মেধাবী ছাত্র ওমর আহমদ মিয়াদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর নিকট মোনাজাত করেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফিজ রুহুল আমীন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মিয়াদ সিলেট সরকরি কলেজ থেকে তার বাসা বালুচরে যাওয়ার পথে নগরীর টিলাগড় এলাকায় তার উপর হামলা চালায় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান চৌধুরীর গ্রুপের কর্মীরা। এ সময় তাদের ছুরিকাঘাতে মাঠিতে লুঠিয়ে পড়েন মিয়াদ। এসময় তার সাথে নাছিম আহমদ (২২) নামের আরেক ছাত্রলীগ কর্মীও আহত হন। তিনি শাহপরান এলাকার ওয়েছ আলী’র পুত্র ও সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিয়াদকে মৃত ঘোষনা করেন। সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত ওমর আহমদ মিয়াদ পরিবারের বড় সন্তান। তারা ৩ ভাই ও ২ বোন ছিলেন। মিয়াদ সিলেট শহরের লিডিং ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র ছিল। দরিদ্র পিতা আকুল মিয়া অনেক কষ্ট করে ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
মিয়াদের জানাযার নামাজে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আকমল হোসেন, জগন্নাথপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন লালন, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরন মাহমুদ নিপুসহ কয়েক শ’ দলীয় নেতাকর্মী।
Related News
সুনামগঞ্জের হাওরে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল আটটার দিকেRead More
শান্তিগঞ্জে ৮ বছর ধরে অকেজো কোটি টাকার সোলার প্যানেল, রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য শান্তিগঞ্জ উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের ছাদে বসানো এক কোটি ৪৭ লাখRead More



Comments are Closed