অভাবের তাড়নায় গায়ে আগুন দিয়ে কিশোরির আত্মহনন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: অভাবের বিষাক্ত ছুবল সইতে না পেরে নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহনন করেছে কিশোরী রোকসানা বেগম। সে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের সুরিকোণা গ্রামের দিনমজুর আবদুস শহীদের মেয়ে।
১৭ জুলাই সোমবার দুপুরে বাবা মায়ের অনুপস্থিতিতে ঘরের দরজা বন্ধ করে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় সে। মুহুর্তে জলসে যায় তার সর্বাঙ্গ। মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে তার দাপন সম্পন্ন হয়েছে।
জানা যায়, রোকসানার বাবা আবদুস শহীদ একজন দিনমজুর। অসুস্থতা নিয়েই মাটি কাটার কাজ করেই সংসার চালান তিনি। ছেলে মেয়ে নিয়ে ৪জনের সংসার তাদের। রোকসানা পরিবারের বড় মেয়ে। দীর্ঘদিন ধরে সাদীপুরসহ আশপাশের একাধিক ইউনিয়ন বন্যা কবলিত রয়েছে। যার কারণে প্রায় দুই মাস ধরে কোন কাজকর্ম নেই আবদুস শহীদের। কাজ না থাকার কারণে রীতিমত তাদের খাবার জুটছে না।
রোকসানা কিছু দিন ধরে মাথায় তীব্র ব্যাথা অনুভব করে আসছে। কিন্তু গরীব বাবার পক্ষে তাকে চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে গত সোমবার বাবা কাজের খোঁজে এবং মা স্থানীয় বাজার থেকে চাল ক্রয় করতে গেলে ঘরের দরজা বন্ধ করে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় সে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে নৌকাযোগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে সোমবার রাতেই ওসমানীনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসময় মুঠোফোনে সিলেটের পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান ঐ পরিবারের অভাবের বিবরণ শোনে নিজের পক্ষ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।
এদিকে গ্রামের সর্বত্র বন্যার পানি থাকায় রোকসানার লাশ দাফন নিয়ে বেকায়দায় পড়েন তার পরিবার। প্রথমে মামার বাড়িতে এবং পরে পার্শ্ববর্তী গ্রামের আরো এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাফনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সুরিকোণা উত্তরপাড়া জামে মসজিদের পাশের একটি উচু জায়গায় মঙ্গলবার দুপুরে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় নাসির উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্যা কবলিত এই পরিবারটি অনাহার অর্ধাহারে জীবন যাপন করছে। মেয়েটির মাথায় সমস্যা থাকলেও টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না অভাবী বাবা। অভাব সইতে না পেরে মেয়েটি গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে শুনেছি। বন্যার সময় দুই ধাপে সামান্য চিড়া ও চাল পেয়েছিল বলে মেয়ের বাবার কাছ থেকে জেনেছি।
ওসমানীনগর থানার ওসি (তদন্ত) আনোয়ারুল হক জানান, মেয়ের বাবার কাছ থেকে মুঠো ফোনে অভাবের কথা জেনে এসপি মহোদয় নগদ ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগীতা প্রদান করেছেন। শুনেছি মেয়েটির মাথায় কিছু সমস্যা ছিল। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
Related News
জকিগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্র জিবান আহমদ নিখোঁজ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জকিগঞ্জে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে মো. জিবান আহমদ (১২) নামেরRead More
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অধিগ্রহণের টাকা পেতে ভূমিমালিকদের মানববন্ধন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: স্বপ্নের ছয় লেন মহাসড়ক নির্মাণের জন্য জমি দিয়েছেন। সরকারের আশ্বাসে মালিকানাধীন ভূমিRead More



Comments are Closed