Main Menu

জৈন্তাপুরে নজরুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা অফিসের এলসিবিসিই কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান নজরুল ইসলাম বাবুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় ভ’মিখেকো চক্র ও থানা পুলিশের যৌথ ষড়যন্ত্রে তাকে হত্যা করা হয়। অনৈতিক সম্পর্কের এক ভ্রষ্টা নারীকে ব্যবহার করে বিয়ের নাটক সাজিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। গত ১৯ মে ভোররাতে সিলেটের জৈন্তাপুর থানা হাজতে নির্মম এ হত্যাকান্ড ঘটে। এ ঘটনায় দায়ের করা নালিশা মামলা সিলেটের পুলিশ ইনভেষ্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই) তদন্ত করছে। নির্মম এ হত্যাকান্ডের সুবিচার ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভ’মি উদ্ধার দাবিতে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। জৈন্তাপুর উপজেলার কহাইগড় ১ম খন্ডের মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল -এর বাস্তুহারা কন্যা সন্তানরা মঙ্গলবার (৪জুলাই) এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা কন্যা নাজমিন আক্তার জানান, তারা বাবা-মায়ের ঘরে ৩ বোন ও ১ ভাইয়ের মধ্যে একমাত্র উপার্জনক্ষম পুরুষ ছিলেন তাদের ভাই নজরুল ইসলাম বাবু। সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা কার্যালয়ে এলসিবিসিই কর্মকর্তা পদে চাকুরি করতেন নজরুল ইসলাম বাবু । ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া তাদের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল এর চিকিৎসার্থে তারা বাড়ি জমি সবকিছু হারিয়ে বর্তমানে একটি ভাড়া বাসায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদের একমাত্র ভাই নজরুল ইসলাম বাবুর বেতন-ভাতা দিয়ে চলতো তাদের বাসাভাড়া ও সংসার। ভ’মিহীন মুক্তিযোদ্ধা পরিবার হওয়ায় গত বছরের (২০১৬ সালের) ১১ জুলাই সিলেটের জৈন্তাপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে ১৬১১/১৬ নং দলিলে বর্তমান সরকার তাদেরকে একই উপজেলার উমনপুর মৌজায় ২৮ শতক সরকারী খাস জমি প্রদান করেন। যার খতিয়ান নং-০১ এবং দাগ নং-৩৯৫ ও ৩৯৬। সরকারী এই ভ’মি আত্মসাতের জন্য একটি কুচক্রী মহল উঠে পড়ে লাগে। তারা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান সরকারী চাকুরিজীবি নজরুল ইসলাম বাবুকে শেষ করে দিতে দীর্ঘমেয়াদী গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। যড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তারা তাদেরই এক ভ্রষ্টা মেয়ে উমনপুরের আব্দুল হান্নানের মেয়ে নাসরিন ফাতেমাকে নজরুলের প্রতি লেলিয়ে দেয়। একতরফা প্রেমের ফাদে ফেলে নজরুলকে মামলা-হামলা ও চাকরিচ্যুতির ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। নাসািরনকে বিয়ে করতে বাধ্য করে নজরুলকে। অথচ ডিভোর্সেস কন্যা নাসরিন ফাতেমা ছিল একসন্তানেরর জননী। তা গোপন করে নাসরিনকে কুমারী সাজিয়ে নজরুলের সাথে তাকে গত বছরের (২০১৬সালের) ১৬ নভেম্বর বিয়ে করিয়ে দেয় ভ’মিখেকো চক্র। বিয়ের পর কনে তুলে দেয়ার নামে নজরুলের কাছ থেকে কাবিনামার বাইরে আলাদা আরেকটি অঙ্গীকারনামাও সই করিয়ে নেয় তারা। এরপরও তারা নাসরিনকে তুলে দেয়নি স্বাামী নজরুলদের বাসায়। অনেক চেষ্টা করেও নজরুর পরিবার নববধু নাসরিন ফাতেমাকে ঘরে তুলে আনতে পারেনি। নাসরিন ফাতেমা উপজেলার ঘিলাতল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। এর আগে সিলেট এমসি কলেজের অ্যামোষ্টেটর আনোয়ার হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল। অনৈতিক নানা করানে তাকে ডিভোর্স দিতে বাধ্য হন এমসি’র অ্যামোষ্টেটর আনোয়ার। এক কন্যা শিশুকে নিয়ে বাপের বাড়ি গিয়ে স্কুলে চাকরি নেয় নাসরিন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, নাসরিন ফাতেমাকে বিয়ে করার পর তাকে স্বামীর বাড়ি তুলে না দিয়ে তাকে ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে স্থানীয় ভ’মিখেকো চক্র। তারা গোপনে নাসরিনকে দিয়ে জৈন্তাপুর থানায় গত ৭ মে একটি নারী নির্যাতন মামলা {নং–০৩(৫)১৭} করায়। পরে গত ১৯ মে ভোররাত ২টায় মুক্তিযোদ্ধা সন্তান নজরুলকে বাসা থেকে ধরিয়ে নেয় এবং জৈন্তাপুর থানা হাজতে রেখে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। হত্যার পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়ে পরে ভ’মিহীন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বন্দোবস্তীয় সরকারী ভ’মি দখল করে নেয় নাসরিনের স্বজন ও ভ’মিদস্য্রু চক্র। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে থানা পুলিশও এ হত্যাকান্ডে অংশ নেয় এবং তথ্যগোপন সহ নানা ছল-চাতুরীর মাধ্যমে থানা পুলিশ এটাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়।
সংবাদ সম্মেলনে নজরুলের আত্মহত্যার দাবি মিথ্যা বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলা হয়, ময়না তদন্তের পর নজরুলের শরীরে ১১টির বেশী স্থানে জখম ও সেলাই দেখা গেছে। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ইলেক্টুক শর্টসহ গুরুতর ফুলা ও ছেছা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়। সর্বোপরি থানাহাজতে তার গলায় যে রশি বাঁধা ছিল তা বাইর থেকে নেয়া। থানা হাজতে দেয়া কমলের রংয়ের সাথে ওই দড়ির মিল নেই। ঘটনার পর পুলিশের ৩ সদস্যের একটি কমিটি হলেও কমিটির সদস্যরা নজরুল পরিবারের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করেননি। সর্বোপরি থানা ও আদালতে নজরুর পরিবারকে আইনী সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধে প্রশাসনিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অবশেষে সিলেট জেলা আইনজীবি সমিতি নেতৃবৃন্দের সহায়তায় নিহত নজরুলের মা রোকেয়া বেগম গত ১জুন সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৬ নং আমলী আদালতে জৈন্তাপুর সিআর ৫১/২০১৭ নং নালিশা মামলাটি করেন। মামলায় ১১জনকে এজারভুক্ত আসামী করা হয় । তারা হচ্ছেন, নাসরিনের মামলার আরও জৈন্তাপুর মডেল থানার তৎকালীন ওসি শফিউল কবির, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার এসআই সফিকুর রহমান, থানার এএসআই হুমায়ুন, এএসআই জয়নাল ও কনেস্টবল আক্তার, নজরুলের শশুর সিলেটের জৈন্তাপুর থানার উমনপুরের আব্দুল হান্নান, নাসরিনের ভগ্নিপতি গোয়াইনঘাট থানার ফতেহপুর ৬ষ্ট খন্ডের নোমান আহমদ, নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা, নাসরিনের ভাই শাহরিয়ার মাহবুব, উমনপুরের নাজমুল হোসেন ওরফে এমদাদ মোল্লা ও এমদাদ মোল্লার ভাই মইনুল ইসলাম। এছাড়া নিহত নজরুলের রেখে যাওয়া মোবাইলের মেমোরি থেকে পরে নাসরিনের ‘পরকীয়া’ প্রেমিক মেম্বার ফকরুল ও নাসরিনের চাচাতো ভগ্নিপতি খাদিমপাড়া ইউপি মেম্বার নিজাম উদ্দিন ঘটনার নেপথ্যে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হন তারা। ঘটনা ও মামলার পর পুলিশের এসআই সফিক, এএসআই হুমায়ুন, এএসআই জয়নাল ও কনেস্টবল আক্তারকে তাৎক্ষণিক সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং থানার ওসি শফিউল কবিরকে গত ২ জুলাই ক্লোজ করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে প্রেরন করা হয়েছে।
আদালতে নজরুরের মা’র দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই সিরেট-এর ইন্সপেক্টর ইমরান। তদন্তদল ইতোমধ্যে নজরুরের স্বজনদের সাথে দেখা করে তাদের ও সাক্ষীদের বক্তব্য রেকর্ড করেছে। নজরুলের রেখে যাওয়া মোবাইল মেমোরিসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে এবং তথ্য ও আলামত সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে। আদালতের আদেশ মতে আগামী ২৫ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের কথা।
সংবাদ সম্মেলনে মামাতো ভাই ইউপি মেম্বার ফখরুলের সাথে নাসরিনের অবৈধ সম্পর্ক অব্যাহত থাকার অভিযোগ এনে বলা হয় স্থানীয় ভ’মিখেকো চক্র ও মেম্বার ফখরুলের যৌথ প্রযোজনায় বিয়ের নাটক সাজিয়ে মুক্তিযোদ্দা সন্তান নজরুলকে হত্যা করা হয়। এ সংক্রাক্ত বহু ছবি ও প্রামানিক তথ্য প্রদর্শন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নজরুল হত্যার সুবিচার চেয়ে ভ’মিদস্যুদের কবল থেকে বাস্তুহারা মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের বন্দোবস্তীয় ভ’মি উদ্ধারের জোর দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিহত নজরুলের বৃদ্ধা মা রোকেয়া বেগম, নজরুলের বড়বোন মুক্তিযোদ্ধা কন্যা শামছুন্নাহার, ছোটবোন নারগিছ আক্তার সুমি ও ভগ্নিপতি শফিউদ্দিন স্বপন প্রমূখ।

 

Share





Related News

Comments are Closed