কাজ শেষ হওয়ার এক বছরেও চালু হয়নি সিলেট চিড়িয়াখানা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নির্মান কাজ শেষ হওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি সিলেট বণ্য সংরক্ষন কেন্দ্র (সিলেট চিড়িয়াখানা)। ২০১৬ সালের জুন মাসে তিন বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়। কিন্তু সঠিক সময়ে নির্মান কাজ সম্পন্ন হলেও এখন পর্যন্ত সেটি চালু হয়নি। তবে চলতি বছরেই জনবল সংকট কাটিয়ে চিড়িয়াখানাটি উদ্বোধন হবে বলে আশাবাদী সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আরএসএম মুনিরুল ইসলাম। তবে সিলেটের সুশীল সমাজ আগামী কোরবানীর ঈদের আগেই বহুল প্রতিক্ষিত এই চিড়িয়াখানা উদ্বোধনের দাবি জানান।
মুনিরুল ইসলাম জানান, চিড়িয়াখানার সকল কাজ শেষ হয়েছে। প্রশিক্ষিত জনবল ও বন্যপ্রাণীদের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারসহ মোট ২৭ জন স্টাফ সংকটের কারণে প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও সেটি উদ্বোধন করা যাচ্ছেনা। ২৭ জন স্টাফ নিয়োগের একটি আবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিগরিই তা অনুমোদন হয়ে আসবে।
২০১২ সালের ৩ অক্টোবর মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সভায় সিলেটে তৃতীয় সরকারী বৃহত্তম চিড়িয়াখানা নির্মানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তিন বছর মেয়াদী এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্ধ দেওয়া হয় ৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। চিড়িয়াখানাটি নির্মানের জন্য বেছে নেওয়া হয় নগরীর টিলাগড়ের ইকোপার্ক। একশ ১২ একর জায়গা নিয়ে বিস্তৃত এই চিড়িয়াখানাটি। তবে প্রকল্পের জন্য বরাদ্ধকৃত প্রায় ১০ কোটি টাকার মধ্যে ৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়। মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে প্রকল্পের বাকি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত দেয়া হয়েছে বলে বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়। এমনকি প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে চিড়িয়াখানার জন্য বন্যপ্রাণীও কেনা হয়েছে যা এখন গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে রাখা হয়েছে। কিন্তু এইসব প্রাণীর ভরনপোষণের জন্য যাবতীয় ব্যয়ভার দিতে হচ্ছে সিলেট চিড়িয়াখানাকে।
সরেজমিনে টিলাগড় ইকোপার্ক এলাকা ঘুরে দেখা যায়, চিড়িয়াখানার জন্য সকল কাজ শেষ হয়েছে। প্রাণীদের জন্য সকল শেড তৈরী করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ময়ুর শেড, হরিণের শেড, হাতির শেড, পাখির শেড, গন্ডার শেডসহ ছোট বড় মোট ১১টি শেড। এসবে থাকা ও উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীদের জন্য পুনর্বাসনকেন্দ্র ও হাসপাতাল তৈরী করা হয়েছে।
এছাড়াও তৈরি করা হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য ৫টি আরসিসি বেঞ্চ, ৪টি সেন্ট্রি পোস্ট, ৫টি বক্র কালভার্ট, পানি সরবহরাহের শ্যালো টিউবওয়েল, স্টাফ ব্যারাক, সাইড ড্রেন, টিকেট কাউন্টার,
পুকুর পুনঃখনন, ফিড এন্ড ফুড প্রিজারভেশন, অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ সংযোগ ও দর্শনার্থীদের জন্য গেস্ট হাউস।
তবে, এসব শেড থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার কারণে অনেকগুলো শেডের আশপাশ ঝোপঝাড়ে পরিণত হয়েছে। কিছু কিছু শেডের রেলিংও ভেঙে পড়ে গেছে।
এসব রেলিং ভাঙার পিছনে নেশাখোররাই দায়ী এমনটা অভিযোগ করছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আর এস এম মুনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, নেশাখোররা লোভে পড়ে রাতে এসব রেলিং ভেঙে চুরি করে নিয়ে যায়।
টিলাগড় ইকোপার্ক এলাকার বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন বলেন, সিলেটে বিনোদনের জন্য অল্পসংখ্যক জায়গা রয়েছে। ইকোপার্কে এমনিতে ঘুরার জন্য অনেক দর্শনার্থী আসেন। চিড়িয়াখানাটি চালু হয়ে গেলে আরও দর্শনার্থী আসবেন। এতে এই এলাকা আরও উন্নত হবে।
ওই এলাকার আরেক বাসিন্দা মাসুক মিয়া বলেন, এখানে চিড়িয়াখানা হবে অনেকদিন ধরেই আমরা জানি। তবে কেন তা হচ্ছেনা এটা নিয়ে কেউ তেমন কথাবার্তা বলেন না।
টিলাগড় ইকোপার্কের বিট কর্মকর্তা চয়ন ব্রত চৌধুরী স্টাফ সংকটের কারনে চিড়িয়াখানাটি উদ্বোধন হচ্ছেনা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাণীদের জন্য কিউরেটর দরকার। হাসপাতালও হয়েছে। খাবার দাবার দেওয়ার জন্য দক্ষ কেউ না থাকলে তো সে প্রাণীদের খাবার দিতে পারবেনা। কখন কি পরিমাণ কিভাবে খাবার দিতে হবে সেটা একমাত্র সেই বলতে পারবে। এদিক থেকে দক্ষ জনবলের সংকটের কারণে বিলম্ব হচ্ছে। কিছু কিছু শেডের রেলিং ভেঙ্গে গেছে তার জন্য ১০০ ফুটের রেলিং চেয়ে একটি রিপোর্ট করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চিড়িয়াখানাটি দ্রুত চালু হওয়া দরকার। পুরো এলাকাজুড়ে একটা বাউন্ডারী ওয়াল থাকা প্রয়োজন।
সিলেটে বিনোদনের জন্য তেমন কোন স্থান নেই। এই চিড়িয়াখানাটি চালু হলে সিলেটের পর্যটন শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে পাশাপাশি সিলেটের মানুষও উপকৃত হবে বলে মনে করছে সুশীল সমাজ।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সভাপতি ফারুক মাহমুদ বলেন, সিলেট একটি আধ্যাত্মিক শহর। এখানে শাহজালাল, শাহপরান (র.) মাজার দেখার জন্য যেভাবে মানুষ আসেন সেভাবে বিনোদনকেন্দ্র গুলোও দেখার জন্য বাইরের শহরগুলো থেকে মানুষ আসেন। এই চিড়িয়াখানাটি যত দ্রুত সম্ভব উদ্বোধন হওয়া দরকার। আমার জোর দাবি যেহেতু নির্মান কাজ শেষ হয়েছে সেহেতু দ্রুত এটি চালু করা দরকার। সম্ভব হলে আগামী কোরবানী ঈদের আগে এটি চালু করা হোক।
সিলেট জেলা বারের সাবেক সভাপতি এএফএফ রুহুল আনাম চৌধুরী বলেন, সিলেট নগরীর সাধারণ মানুষ হিসাবে আমি মনে করি চিড়িয়াখানাটি উদ্বোধন হলে সিলেটের পর্যটন ব্যবসা বৃদ্ধি পাবে এবং নগরীর মানুষরও উপকৃত হবে। বাইরের মানুষও যারা এখানে বেড়াতে আসে তাদের বিনোদনের জন্যও নতুন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হবে। আর এই পরিবেশটাকে ধরে রাখতে হলেও সিলেটের সকল শ্রেণীর মানুষদের সহযোগীতা করতে হবে। যাতে বাইরের কোন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। এটি ভাল একটি উদ্যোগ আমি এই চিড়িয়াখানা প্রকল্পের প্রশংসা করি। সকল সংকট কাটিয়ে এই চিড়িয়াখানাটি দ্রুত চালু হওয়ার দাবি জানাই।
Related News
এক ভিসায় যাওয়া যাবে মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশে!
পর্যটন ডেস্ক: উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ভুক্ত ছয়টি দেশে ভ্রমণের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত একক পর্যটনRead More
বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা যাত্রা সহজ করতে মালয়েশিয়ার নতুন উদ্যোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশি রোগীদের মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও রোগীবান্ধব করতে উদ্যোগRead More



Comments are Closed