Main Menu

সিলেটের বন্যাকবলিত এলাকায় ছড়াচ্ছে রোগব্যাধি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: টানা এক সপ্তাহ পর সিলেটের প্রধান নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। সিলেটের প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারার চারটি পয়েন্টের মধ্যে মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩টিতে পানি কমেছে। শুধু কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে পানি বেড়েছে।
এদিকে নদ-নদীর পানি ধীরগতিতে কমলেও প্লাবিত হাওর এলাকার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। ফলে পানিবন্দি সিলেটের ছয় উপজেলার সাধারণ মানুষ এখনো দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এস এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি। সেই সাথে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষপত্রের সংকটসহ গো খাদ্যেরও অভাব দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিলেটের কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া জকিগঞ্জের আমলসীদে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার, বিয়ানীবাজারের শেওলায় ৭৩ সেন্টিমিটার ও শেরপুরে ১৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানিবন্দি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন ধরনের পানিবাহিত রোগ। বন্যাকবলিতদের মাঝে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, আমাশয়, ভাইরাস জ্বরসহ নানা ধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পানিবাহিত রোগে আক্রান্তদের দীর্ঘলাইন উপজেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে দেখা গেছে। অনেকে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক, কমিউনিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ডাক্তারদের প্রাইভেট চেম্বার ও ফার্মেসি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
দক্ষিণ সুরমার সীমান্তিক সূর্যের হাসি ক্লিনিকের প্যারামেডিক মৌসুমী দাস জানান, বর্ষায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও ভাইরাসজনিত জ্বরের জীবাণু বেশি সক্রিয় থাকায় খুব সহজেই শিশুরা এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকায় এ সময় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবও লক্ষ্য করা যায়। তাই বছরের অন্য সময়ের তুলনায় বর্ষাকালে শিশুদের ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, বিয়ানীবাজার, ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও জকিগঞ্জে বন্যা দেখা দেয়। বন্যার কারণে এসব উপজেলার ১৯৬টি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার বেশিরভাগ সড়ক পানির নিচে। এসব উপজেলার উপজেলা পরিষদের অফিসেও পানি। বন্যায় ইতোমধ্যে এসব উপজেলার প্রায় আড়াই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার জানান, বন্যা কবলিত এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করে বন্যা কবলিতদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হচ্ছে। এসব এলাকায় ৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ৮৯টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed