বিপদসীমার উপরে তিন নদীর পানি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : উজানের ঢলে তিস্তা, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বন্যা, পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।
শনিবার (১ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের ‘বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর অবস্থা সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এতে বলা হয়, শনিবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অপরদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি জকিগঞ্জের অমলশীদ পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার, বিয়ানীবাজারের শেওলা পয়েন্টে ৭২ সেন্টিমিটার এবং শেরপুর ও সিলেটে ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গঙ্গা-পদ্মা ও সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কমছে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানির বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তা আগামী ৪৮ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে।
এছাড়া আগামী ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা নদীর পানি কমছে, তবে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। অপরদিকে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় কমতে পারে।
তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের সবগুলো (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চলতি বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ প্রথম বিপদসীমা অতিক্রম করল। তবে উজান হতে যে ঢল আসছে তা কাঁদামাটি মেশানো ঘোলা পানি।
এদিকে তিস্তার বন্যায় জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ২৫টি চর ও গ্রামের ১০ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা, কালিগঞ্জ উপজেলার নদী বেষ্টিত চর ও গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে।
পাউবো’র ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তফিজুর রহমান ও ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, তিস্তা অববাহিকার উজানের ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীতে বন্যা দেখা দিয়েছে। সকাল ৬টায় বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে নদীর পানি প্রবাহিত হলেও সকাল ৯টায় তা ৫ সেন্টিমিটার কমে এসেছে।
নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ‘ফরেস্টের চরের ১৫টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হয়েছে।’
একই উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, ঝাড়সিংশ্বর এলাকার বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। তিস্তাবেষ্টিত চর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করেছে।
অপরদিকে জলঢাকার ডাউয়াবাড়ি, হলদিবাড়ি, গোপালঝাড়-আলসিয়াপাড়া এলাকায় বন্যার পানির স্রোতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলেও এখন পানি কমে আসছে। আমরা সর্তক অবস্থায় রয়েছি। পাশাপাশি তিস্তার চর ও গ্রামগুলোর খোঁজ খবর রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
Related News
নরসিংদীর আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে যুবকের বস্তাবন্ধি লাশ উদ্ধার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার ডৌকারচর ইউনিয়নের তেলিপাড়া বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে অবস্থিত আড়িয়াল খাঁRead More
আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে আহত ৫০, ২৬ কারখানায় ছুটি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আশুলিয়ায় ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভRead More



Comments are Closed