Main Menu

কোম্পানীগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে ধূম্রজাল

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের দলইরগাঁওয়ে রোবেনা আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত ১ জুন বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। রোবেনা দক্ষিণ রনিখাই ইউনিয়নের পশ্চিম বর্নি গ্রামের আতাউর রহমানের মেয়ে ও মফিজুর রহমানের স্ত্রী।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, রোবেনা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে, কি কারণে আত্মহত্যা করেছেন এ বিষয়টি নিশ্চিত নন কেউ। রোবেনার সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক রফিক।
তিনি জানান, সুরতহাল রিপোর্টে খুনের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। দলইরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ও তেলিখাল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমিরুল হক জানান, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পারিবারিক দ্বদ্ব ছিল। এ কারণে রোমানা আত্মহত্যা করতে পারে। ঘটনার দিন পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ডের খেলা দেখছিল মফিজ। খেলা শেষে রাত সোয়া ১১টার দিকে বাড়িতে গিয়ে দেখে রোমানা ঘরের জানালার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে। পরে দরজা ভেঙ্গে রোমানাকে উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, নিহতের স্বজনদের অভিযোগ হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ছোট ভাই আজিজের স্ত্রী জোসনার সাথে মফিজের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। এর জের ধরেই রোবেনা খুন হতে পারে বলে তাদের ধারণা।
রোবেনার বাবা আতাউর রহমান অভিযোগ করেন, মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যার পর ওড়না দিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করছেন রোবেনার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তিনি জানান, মফিজ আমাদেরকে রাত ১টার দিকে মুঠোফোনে রোবেনা অসুস্থ বলে জানায়। এরপর আমরা গিয়ে তাকে মৃত দেখতে পাই। এসময় জানালার গ্রিলে রোবেনা ঝুলানো থাকলেও পা মাটিতেই লাগানো ছিল। শরীরে মারধরের চিহ্নও রয়েছে বলে জানান আতাউর রহমান।
রোবেনার চাচা ডাক্তার মুহিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, পাঁচ বছর আগে রোবেনা ও মফিজের মধ্যে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। মফিজ বিভিন্ন সময় রোবেনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়েছে। গত ২ রমজানের রাতেও রোবেনা কে মারধর করেছে মফিজ। ওইদিনও রাত ১টার দিকে সে আমাদেরকে মোবাইল ফোনে রোবেনা অসুস্থ বলে জানায়। সেহরি খেয়ে আমরা তার বাড়িতে যাই। পরে জানতে পারি, সৌদি প্রবাসী ছোট ভাই আজিজের স্ত্রী জোসনা বেগমের সাথে মফিজের অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করলে রোবেনাকে মারধর করা হয়। পরে আমাদের মেয়েকে নিয়ে আসতে চাইলে মফিজের চাচাত ভাই আব্দুল আহাদ ও জোসনার বাবা নুর ইসলাম বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেন। তখন মফিজ আর এসব করবে না বলে স্বীকারোক্তি দেয়।
মুহিবুর রহমান জানান, সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে মফিজ রোবেনাকে মারধর করে। এরপর রাত ১টার দিকে মফিজ মুঠোফোনে রোবেনা অসুস্থ বলে তাদের জানান। কিন্তু গিয়ে তারা রোবেনাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। নিহতের ভাই আরাফাত তাঞ্জিল আনোয়ার জানান, আমার বোনের তিনটা মেয়ে সন্তান রয়েছে। পুত্র সন্তান না হওয়ার কারণেও মফিজ প্রায়ই রোবেনাকে মারধর করত। বৃহস্পতিবার রাতেও রোবেনাকে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আলতাফ হোসেন বলেন, গৃহবধূ রোবেনার মৃত্যু ‘হত্যা’ না ‘আত্মহত্যা’- তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর স্পষ্ট হবে।

Share





Related News

Comments are Closed