Main Menu

আবারো বন্ধ হলো তাহিরপুরের ৩টি শুল্কস্টেশন

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা সীমান্তের ব্যস্ততম ৩টি শুল্ক বন্দর বড়ছড়া, চারাগাঁও, বাগলী আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থনৈতিক জোন খ্যাত দেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের মেঘালয় পাহাড়ের পাশে অবস্থিত এই বন্দর গুলো বুধবার (৩১মে) থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারনে কর্মহীন হয়ে বিরান ভুমিতে পরিনত হয়েছে। আর সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমান রাজস্ব।

আশা-নিরাশার ধুম্রজালে সময় পার করছেন ৩টি শুল্ক বন্দরে ৫ শতাধিক আমদানী কারক, ৩ শতাধিক স্থানীয় ছোট বড় শাড়ী কাপড় ও বিভিন্ন প্রশাধনী ব্যবসায়ী ও ৩৫ হাজারের অধিক শ্রমিক। এবারও বোরো ধান সর্ম্পূন পানিতে ডুবে যাওয়ায় এখানে অনেকেই কাজ করে কোন রকমে জীবন পার করছিল। বন্দর গুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এলাকা ছেড়ে তারা এখন শহর মুখি হচ্ছে।

জানা যায়,গত বছরের ২৩ নভেম্বর থেকে কয়লা আমাদী শুরু হলেও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের কারনে বন্দর গুলো আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম কোন রকমে চলছিল। এই বছরের ৫ জানুয়ারী থেকে আবারও পুরোদমে চলে কার্যক্রম। ৬ মাস চালুর পর বুধবার (৩১শে মে) থেকে সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৫ শতাধিক আমদানী কারক তাদের কর্মচারী ও কর্মরত শ্রমিকগন হতাশায় ভুগছে। আরো জানা যায়, ভারতের মেঘায়ের পরিবেশবাদী সংগঠন ডিমাহাসাও জেলা ছাত্র ইউনিয়নের আবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ সালে ১৭ এপ্রিল ভারতীয় আদালতে একটি মামলা দায়ের করলে ন্যাশনাল গ্রীন ট্রাইবুনাল (এনটিজি) মেঘালয় সরকারের অবৈধ কয়লা খনন ও পরিবহন বন্ধের নির্দেশ দেয়।

২০১৪ সালে ১৩মে থেকে মেঘালয় সীমান্ত জেলা গুলোয় ১৪৪ দ্বারা জারি করার পর কয়লা পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বন্ধ থাকার কারনে সরকারের রাজস্ব আদায়ে ধস নেমেছিল তিনটি শুল্ক বন্দরের কার্যক্রমে। এর পর কয়েক দফা কয়লা আমদানী কার্যক্রম চালু হলেও গত বছরের ১৬মে আবারও বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বন্দর সংশ্লিষ্ট ৫ শতাধিক আমদানিকারক নতুন কোন এলসি খোলে কয়লা-চুনাপাথর আমদানি করতে না পারায় মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আর বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাবে সরকার।
কয়লা আমদানী কারক সমিতির নেতৃবৃন্ধ ও বিভিন্ন কয়লা আমদানী কারক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধীকারীগন জানান- শুল্ক বন্দর আবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসহায় হয়ে পরেছি। আমদানি চালু হবে কবে নাগাদ তা কেউই সঠিক ভাবে বলতে পারছে না। যার ফলে এর সাথে জড়িত শ্রমিকরা এলাকা ছেড়ে শহর মুখী হচ্ছে কাজের সন্ধানে। তবে ভারতীয় কয়লা রপ্তানী কারকগন আইনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ন ৩টি শুল্ক বন্দরের আমদানী কার্যক্রম চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সহ বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে তাহিরপুর উপজেলাবাসী।

Share





Related News

Comments are Closed