Main Menu

ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পরিচালনায় হাইকোর্টের নির্দেশনা

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশের সব ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্লে গ্রুপ থেকে এ লেভেল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, পুনঃভর্তি ফি ও সেশন চার্জ বিষয়ে শিক্ষা বিধিমালা গঠনে জারি করা রুলের রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালত এসব স্কুলের বিষয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, ১৯৬২ সালের বেসরকারী স্কুল নিবন্ধন অধ্যাদেশ আর ২০০৭ সালের এ সংক্রান্ত বিধিমালা অনুসারে প্রতিটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলকে একটি করে ম্যানেজিং কমিটি করতে হবে। স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করতে হবে। এদের মধ্যে অভিভাবকের বক্তব্য প্রাধান্য পাবে। স্কুলের ভর্তি ফি ও টিউশন ফি এই ম্যানেজিং কমিটির দ্বারা নির্ধারণ করা হবে।

আদালত আরো বলেন, স্কুলগুলো ভর্তি ফি আর টিউশন ফি ছাড়া আর কোনো চার্জ (ফি) আদায় করতে পারবেনা। তবে কোনো কারণে কোনো ফি আরোপ করে তা নিজ নিজ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। এমনকি স্কুলের অডিট রিপোর্টও এই সাইটে প্রকাশ করতে হবে।

দেশের সকল জাতীয় দিবস পালনের পাশাপাশি দেশি সংস্কৃতির সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদানসমূহ তুলে ধরতে হবে। এমনকি স্বাধীনতার পেছনে বঙ্গবন্ধুর অবদানসহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান তুলে ধরতে পৃথক একটি দিবস (নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে) পালন করতেও নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত।

আদালত আরো বলেছেন, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রথম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত যেন বাংলা বলতে, লিখতে ও পড়তে পারে সেদিকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিতে হবে। এসব স্কুলে শিক্ষক ও স্টাফ নিয়োগে তাদের যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করতে হবে এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার মাধ্যমে তাদের নিয়োগ দিতে হবে। সেক্ষেত্রে স্কুল মালিকদের কোন সম্পৃক্ততা থাকতে পারবে না বলে জানিয়েছেন আদালত।

আদালত তার নির্দেশনায় বলেছেন, স্কুলগুলোর সকল সেশন ফি বাতিল করা হলো। এখন থেকে সেশন ফি নামে কোনো ফি আদায় করা যাবে না। এছাড়া প্লে, নার্সারি, কেজি ওয়ান, কেজি টু’তে চার বছর সময়ক্ষেপণের বিষয়টি ম্যানেজিং কমিটি যা ভালো মনে করেন বলে সিদ্ধান্ত করবেন।

আদালত তার রায়ে ঘোষণা করা উপরোক্ত নির্দেশনাগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সার্কুলার জারির মাধ্যমে রেজিস্টার্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে সার্কুলারের বিষয়টি আগামী ৩ মাসের মধ্যে হাইকোর্টকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। এছাড়াও হাইকোর্টের আদেশ স্কুলগুলো মেনে চলছে কিনা তা প্রতি ৩ মাস পরপর হাইকোর্টকে জানাতেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক্ষেত্রে সরকারের খসড়া নীতিমালা কার্যকর হবেনা বলেও আদালত উল্লেখ করেছেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিকার চাকমা ও সূচীরা হোসাইন। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক।

এর আগে গত ৫ এপ্রিল এ বিষয়ে জারি করা রুলের শুনানি শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষামাণ রাখা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জাভেদ ফারুক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, পুনঃভর্তি ফি ও সেশন চার্জ বিষয়ে শিক্ষা বিধিমালা গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

রিটে শিক্ষা সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা অধিপ্তরের মহাপরিচালক ও দেশের সকল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়।

এই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত একই বছরের ২৩ এপ্রিল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্লে গ্রুপ থেকে ‘এ’ লেভেল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, পুনঃভর্তি ফি ও সেশন চার্জ বিষয়ে কেন শিক্ষা বিধিমালা গঠন করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, পুনঃভর্তি ফি ও সেশন চার্জ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিবাদীদের মনিটরিং সেল গঠনের কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়।

Share





Related News

Comments are Closed