Main Menu

কোম্পানীগঞ্জে যান্ত্রিকভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধের দাবিতে স্মারকলিপি

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর উত্তোলন ও বহনকারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন (রেজি নং চট্ট ২২৬৩) যান্ত্রিকভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ করার লক্ষ্যে ৩ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি বৃহস্পতিবার (১১ মে) সকাল ১১টায় মিছিল সহকারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে প্রদান করেন।
স্মারকলিপি প্রদানের পূর্বে উপজেলার বাসুখাল এলাকা থেকে মিছিল শুরু করার আগে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য রাখেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর উত্তোলন ও বহনকারী শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন’র সভাপতি আব্দুল বাছির, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ, সংগঠনের দলাইপূর্বপার শাখার নেতা সিরাজুল ইসলাম, শ্রমিক সর্দর সমবায় সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, কোম্পানীগঞ্জ পাথর শ্রমিক সমিতির অর্থ সম্পাদক মোস্তফা মিয়া, শ্রমিকনেতা আব্দুল কাদির বতাই মিয়া, বাবুল মিয়া, ফয়সল আহমদ, মাসুক মিয়া, দিলু মিয়া, রুমান আহমদ, আব্দুল হান্নান, আব্দুর নূর, কুদ্দুছ মিয়া প্রমুখ। বক্তারা অবিলম্বে তাদের ৩ দফা দাবী মেনে নেওয়ার আহবান জানান।
পরে মিছিল সহকারে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের গিয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল লাইছ’র কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপি গ্রহণ করে নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিক বান্ধব, আমি সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে শ্রমিকদের ন্যায দাবী ধাওয়া ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার আশ্বাস প্রদান করেন।
শ্রমিকদের ৩ দফা দাবী হচ্ছে (১) যেখানে একটি নৌকা লোড করতে প্রায় ৩০ জন শ্রমিক লাগে। সেখানে বায়ব্রেটর মেশিন দ্বারা নৌকা লোড করছে। এই বায়ব্রেটার দ্বারা প্রতিদিন ১৫/২০ টি নৌকা লোড করা হচ্ছে এবং বায়ব্রেটারের পানি নিস্কাশনে নদীর পানি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ও ব্রায়ব্রেটারের পাথর ধোয়া বালু পড়ে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে বিধায় পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি সাধন হচ্ছে। বায়ব্রেটারগুলো স্থান লাছুখাল, জাহাজখালী, ফাটাখাল, আমবাড়ীতে বায়ব্রেটার বসানোর চিন্তা ভাবনা চলছে। এতে সকল শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বন্ধ করে মালিক স্বার্থ হাছিল করছে। বর্তমানে লাছুখাল নদী ও জাহাজখারী নদীতে বায়ব্রেটার চলছে। এগুলো অবিলম্বে বন্ধ করার দাবী জানাচ্ছি। অন্যথায় শ্রমিকরা রুজি রোজগারের জন্য আন্দোলনে আসতে পারে। অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যেতে পারে। তাই শ্রমিকদের কর্মসংস্থানটি ধরে রাখার জন্য আপনার নিকট প্রার্থনা।
(২) ক্রাশার মিলের মালিকগণ শ্রমিক দ্বারা গাড়ী লোড করায়। ইদানিং শ্রমিকদের কর্ম বন্ধ করে ফেলোার দ্বারা লোড করাচ্ছে। ফেলোডার দ্বারা গাড়ী লোড করাতে প্রায় হাজার হাজার শ্রমিক বেকারত্ব জীবন যাপন করছে। আমরা মৌখিক ভাবে বাধা আপত্তি করার পরও মিল মালিকগণ আমাদের বাধাকে উপেক্ষা করে ফেলোডার দ্বারা পাথর লোড করছে বিধায় আপনার নিকট ফেলোডার বন্ধের জোর দাবী জানাচ্ছি। শ্রমিকরা বড়ই চিন্তিত অনাহারে, অর্ধহারে জীবন যাপন করছে। ফেলোডার বন্ধ না হলে যে কোন মুহুর্তে শ্রমিকরা আন্দোলনে আসতে পারে।
(৩) কোম্পানীগঞ্জের শ্রমিকরা তাদের একমাত্র কর্মংস্থান ছিল ধলাই নদীর পাথর কোয়ারী। এই পাথর কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলন করে শ্রমিকরা তাদের জীবকা রক্ষা করত। ইদানিং কর্মসংস্থানটি বন্ধ হওয়া শ্রমিকরা তাদের পরিবার পরিজনদেরকে নিয়ে বেকায়দা পদে আছে। পেটে ভাত নাই, পড়নে কাপড় নাই। আমরা শ্রমিক প্রতিনিধিরা দেখতে পাচ্ছি পাহাড়ী ঢলে পাথর জিরো পয়েন্ট থেকে ৫০০ গজের বাহিরে চলে এসেছে। কিন্তু আমরা শ্রমিকদেরকে পাথর উত্তোলন করতে দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের অনুরোধ আর্ন্তজাতিক সীমা রেখা ১৫০ গজের বাহিরে পাথর গুলো উত্তোলন ও বহন করতে দেওয়া হউক। বিজ্ঞপ্তি

Share





Related News

Comments are Closed