Main Menu

ক্যাবল কাটায় সিলেটে দুদিন ধরে ইন্টারনেট বিঘ্নিত

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট নগরীতে বিভিন্ন সেবামূলক কোম্পানির ক্যাবল কেটে ফেলায় গত দুদিন ধরে গ্রাহকরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে। এতে টেলিভিশন চ্যানেল, ইন্টারনেট, টেলিফোন ও অনলাইন ব্যাংকিং বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প পন্থায় অনলাইন ব্যাংকিং চালু রাখার চেষ্টা করছে কয়েকটি ব্যাংক। তারা খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগেও চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। সোমবার রাতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সেবামূলক ক্যাবল কেটে ফেলায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, নগরীর ব্যস্ততম এলাকায় ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল থেকে মুক্ত করার কাজ শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে জিন্দাবাজার পয়েন্টের বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ঝুলন্ত তার কেটে নামানো হয়। এর ফলে রাত থেকেই নগরীর বেশীর ভাগ এলাকায় ক্যাবল মাধ্যমে সংযুক্ত ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যে কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে ইন্টারনেট না থাকায় অনলাইনে ব্যাংকিং পরিচালনা করতে পারছে না অনেক ব্যাংক।
সিলেট ক্যাবল সিস্টেম্স প্রাইভেট লিমিটেড (এসএসসি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুনেল আহমদ জানান, জিন্দাবাজার পয়েন্টে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে টাঙ্গানে এসসিএস-এর মূল ক্যাবল লাইন (ফাইভার অপটিক ক্যাবল) কেটে ফেলা হয়েছে। এ সময় ঐ বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলোতে থাকা ইন্টারনেটের ক্যাবল, যেগুলো বান্ডেল করে বাঁধা ছিল সেগুলোও কেটে ফেলা হয় বলে তিনি জানান।
এর ফলে পুরো নগরীতেই ক্যাবল মাধ্যমে সংযুক্ত ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ কারণে জিন্দাবাজারসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাংকগুলোর অনলাইন কার্যক্রমেও প্রতিবন্ধনতার সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবিব বলেন, ২০১৪ সাল থেকে ক্যাবল অপসারণে নগরীর স্যাটেলাইট সেবা প্রদানকারী ক্যাবল অপারেটর ও ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বার বার নোটিশ দেওয়া হয়। গত মাসে চুড়ান্ত নোটিশ দিলেও তারা লাইনগুলো সরায়নি। এসব তারের জঞ্জালে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। তা সামাল দিতে হয় সিসিককে। তবে ইন্টারনেট সেবা শীঘ্রই সচল করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আমাকে না জানিয়েই এ ধরনের উদ্যোগ কেন নেয়া হলো? এর পেছনের রহস্য-উদ্দেশ্য কি দ্রুত খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বংাক আল ফালাহ সিলেট শাখার ম্যানেজার কামরান আহমদ বলেন, সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা। এখানে অনলাইন ব্যাংকিং বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার ব্যাংক কর্মকর্তা-গ্রাহক সকলেই। এজন্য আগাম নোটিশ করা হলে এমন দুর্ভোগের শিকার হতে হতো না।
জানা গেছে, সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীবের নেতৃত্বে সোমবার রাতে এ অভিযান পরিচালনা করে সিলেট সিটি করপোরেশন। সিসিকের কনজারভেন্সি অফিসার হানিফুর রহমান জানান, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ তারগুলো সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সেগুলো অপসারণ করেনি। তাই বাধ্য হয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নগরবাসীর সাময়িক অসুবিধার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

Share





Related News

Comments are Closed