Main Menu

ফকির দরবেশরা জঙ্গলে আশ্রয় নিয়ে ইবাদত বন্দেগীতে মগ্ন থাকতেন

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: বিশিষ্ট লোক সংগীত ও নাগরী লিপি বিষয় গবেষক এবং বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান কবি ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেছেন, ফকির দরবেশরা জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে ইবাদত বন্দেগীতে মগ্ন থাকতেন। কিন্তু আল্লাহর লিলা সেই স্থানগুলো আজ মানুষের প্রাণ কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়েছে। গড়ে উঠেছে মসজিদ, মাদ্রাসা ও মাজার। লক্ষ-হাজারো মানুষ তাদের প্রেমে ছুঠে আসে ওলী-আওলীয়াদের মাজার জিয়ারতে। তিনি আরকুশ শাহ (রহ.)কে স্মরণ করে বলেন, মরমী সূফী সাধক আরকুম শাহ’র তথ্য সংগ্রহের জন্য এক সময় আমাকে অত্র অঞ্চলে ভিক্ষা করতে হয়েছে। তখন আমি ছিলাম ওএসডি। আজ পিএসসির চেয়ারম্যান হিসেবে একই সাধকের পবিত্র ওরস মোবারকে হাজির হয়ে আমি আবিস্কার করলাম এমন এক সমৃদ্ধ আরকুম শাহ’র, যার জীবন আলেখ্য প্রকারান্তরে বাঙ্গালীর হাজার বছরের শেকঁড়কে সমৃদ্ধ করেছে অনায়াসে। ড. সাদিক এই অনুষ্টানে আসতে পেরে নিজের আত্মতৃপ্তির অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আজ এই মরমী সাধককে নিয়ে লেখিকা সৈয়দা আখিঁ হকের গ্রন্থ একটি মাইলফলক হয়ে দাড়ালো, যেখান থেকে সংগৃহীত তথ্য এই মরমী সাধকের আরো অজানা অধ্যায়কে তুলে ধরবে অনায়াসে। তিনি অনূষ্টানে উথ্বাপিত তেলীবাজার-সুনামগঞ্জ বাইপাস চত্বর আরকুম শাহ’র নামে নামকরনে নিজের সমর্থন জানিয়ে আরকুম শাহ চত্বর নামকরনে উর্দ্ধতন কর্র্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
রোববার (১৯ মার্চ) রাতে হযরত শাহ আরকুম শাহ’র ৭৫তম পবিত্র ওরস মোবারক উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিব অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উক্ত কথাগুলো বলেন।
আরকুম শাহ (রহঃ) মাজার কমিটির সভাপতি হাজী আব্দুস সালাম মর্তুর সভাপতিত্বে ও মাজার পরিচালনা কমিটির সহ সভাপতি কামাল উদ্দিন রাসেল ও আব্দুল আহাদের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্টানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক সৈয়দ মাহবুব ই জামিল, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আবু সাফায়াত মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম, বাংলা একাডেমীর উপ পরিচালক ড. তপন বাগচী, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফা, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাবেক রেজিষ্ট্রার ও নিঃস্ব সহায়ক সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জামিল আহমদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, পল্লিগীতির সুধাকন্ঠি জাতীয় শিল্পী অণিমা মুক্তি গমেজ, সুফি সাধক শাহ আরকুম আলী (রহঃ) এর জীবন ও সংগীত বিষয়ক গবেষক সৈয়দা আঁখি হক, ড. কাজী কামাল, জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য আলহাজ্ব মঈনুল ইসলাম, মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মখন মিয়া, চেয়ারম্যান হাবীব হোসেন, তেতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান উসমান আলী। অনুষ্টানে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাজারের মোতাওয়াল্লী মুহিব আলী, গোলাম মোস্তফা কামাল, হাজী হারুনুর রশিদ, খলিলুর রহমান, আব্দুল খালিক, হাজী জয়নাল আহমদ, আহমদ হোসেন রেজা, ছুরুক আহমদ চৌধুরী প্রমূখ।
আরকুম শাহ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক সৈয়দ মাহবুব ই জামিল বলেন, ওলী-আউলিয়াদের জীবনা আর্দশন থেকে আমাদের ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে শিক্ষা অর্জন করতে হবে।
অনুষ্টানের বিশেষ অতিথি বাংলা একাডেমীর উপ পরিচালক ড. তপন বাগচী বলেন, কলকাতায় কবি সাহিত্যিকদের আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে আরকুম শাহ’র জীবন আদর্শ উপস্থাপন করা হবে। যাতে আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত অর্জন ও সফলতা বয়ে আনা যায়।
অনুষ্টানের প্রধান অতিথি কবি ড. মোহাম্মদ সাদিক সুফি সাধক শাহ আরকুম আলী (রহঃ) এর জীবন ও সংগীত বিষয়ক গবেষক সৈয়দা আঁখি হক সম্পাদিত দুটি বই আরকুম শাহ জীবন দর্শন ও গীতি বিশ্ব এবং পল্লিগীতির সুধাকন্ঠ রুপালী সুরের আল্পনা বইয়ের মোড়ক উন্মুচন করেন। আলোচনা সভা শেষে শুরু হওয়া ভক্তিমূলক গানের অনুষ্টান। এতে প্রধান অতিথির উপস্থিতিতে মনমুগ্ধকর কয়েকটি ভক্তিমূলকগাণ পরিবেশন করেন বাংলাদেশের জাতীয় শিল্পী পল্লিগীতির সুধাকন্ঠ অণিমা মুক্তি গমেজ। পরে ক্রমান্নয়ে গাণ পরিবেশন করেন শিল্পী সাজ্জাদ নূর, সিরাজ উদ্দিন, লাভলী লস্কর, মিনারা বেগম, আমির মোহাম্মদ, লাল মিয়াসহ আরকুম শাহ শিল্পী গোষ্টির শিল্পীবৃন্দ। সোমবার বাদ ফজর আখেরী মোনাজাত ও তাবারুক বিতরনের মধ্য দিয়ে ওরস মোবারকের কার্যক্রম শেষ হয়।

Share





Related News

Comments are Closed