জাফলংয়ে মাটি চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু : ২৭ ঘন্টা পর মর্গে লাশ
বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেটে নিরূপায় পাথর শ্রমিক। পেটের তাগিদে মাটি চাপায় অহরহ অকাল মৃত্যু ঘটছে তাদের। আর মনের হরষে টাকা গুনছে পুলিশ। বুক ফুলিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ঘাতক পাথরখেকো সিন্ডিকেট। প্রায় প্রতিদিন ও প্রতি সপ্তাহে হৃদয়বিদারক এ মৃত্যু মিছিল হচ্ছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটে। এই দুই উপজেলায় রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ কয়েকটি পাথর কোয়ারী। কোয়ারীর মালিকদের অবৈধ ও বিপর্যয়কর পাথরকোয়ারী এবং পুলিশের ঘুষখোরীর নিত্যদিনের শিকার হচ্ছে দিনমজুর পাথরশ্রমিক। সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানীগঞ্জের শাহ আরেফিন টিলাসহ গোয়াইনঘাটের পাথর কোয়ারীগুলোতে অহরহ ঘটে চলেছে ট্রাজেডি ও মৃত্যুমিছিল। এ দুই উপজেলায় গত এক-দেড়মাসে মাটি চাপায় মৃত্যু ঘটেছে ১৫ পাথর শ্রমিকের। কিন্তু ঘটনার কোন হোতা আজো ধরা পড়েনি পুলিশের হাতে। সর্বশেষ ৮মার্চ বুধবার গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে আলিম উদ্দিন গংদের পাথরগর্তে মাটি চাপায় মৃত্যু ঘটে ২০ বছর বয়েসী পাথর শ্রমিক মোস্তাকিমের। অকাল মৃত্যুর পর তার লাশের সাথেও করা হয়েছে নির্দয় আচরন। গ্রেফতার করা হয়েছে লাশ উদ্ধারকারী সহকর্মী নিরপরাধ ৩ পাথর শ্রমিককে। মামলা নাটক মঞ্চায়নে পুলিশের সময় লেগেছে ২৭ ঘন্টা। তাই ২৭ ঘন্টা পর বৃহস্পতিবার সকালে লাশটি প্রেরন করা হয়েছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গোয়াইনঘাটের জাফলং কোয়ারীতে রয়েছে আলিম উদ্দিন, সেলিম, ইছুফ, ছোট হবি, মিন্টু, সাদিক গং সমন্বয়ে একটি পাথরখেকো সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট থানা পুলিশেকে ম্যানেজ করে বোমা ও শেলো মেশিন দিয়ে গভীর গর্ত করে পাথর উত্তোলন করে থাকে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় আলিম উদ্দিনদের গর্তে মাটি চাপা পড়ে মারা যায় নিরীহ পাথর শ্রমিক মোস্তাকিম (২০)। নিহত মোস্তাকিম হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার ইছবপুরের বাতির মিয়ার ছেলে। মাটি চাপার পর জানবাজি রেখে তার লাশটি উদ্ধার করে সহকর্মী অপর ৩ পাথরশ্রমিক জারন আলী, জুতিশ দাশ ও লেবু মিয়া । এর পরই হাজির গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ । তারা লাশ উদ্ধারকারী ওই ৩ পাথর শ্রমিককে আটক করে লাশ নিয়ে যায় থানায়। থানায় লাশ ফেলে রেখে শুরু হয় দহরম-মহরম ও মামলা নাটক। দিন-রাত মিলে লাশটি ২৭ ঘন্টা থানায় রেখে পরদিন সকালে লাশ পাঠানো হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ বাড়িতে পৌছাতে সময় লেগেছে ৭০ ঘন্টা। এ ঘটনায় লাশের স্বজন কাউকে বাদী করা হয়নি মামলার। থানার এএসআই আতিক বাদী হয়ে হত্যামামলা (নং-০৪(৩)১৭) রুজু করে আটক ওই তিন পাথর শ্রমিককে গ্রেফতার দেখিয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে আদালতে। কিন্তু গ্রেফতার হয়নি কোয়ারী তথা গর্তের মালিক হেলাল, আলিম, সেলিম, হবি কেউই।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, অবৈধ পাথর উত্তোলনকারী গর্তের মালিক হেলাল,আলিম-সেলিম সিন্ডিকেটের সাথে রয়েছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের গভীর সখ্যতা। তাদের কাছ থেকে নিত্যদিন মোটা অংকের টাকা আদায় করে থাকে থানা পুলিশ । তাই পাথরখেকোদের রেহাই দিতেই মঞ্চায়ন করা হয়েছে মামলা ও গ্রেফতার নাটক। আর এতে করে সময় লেগেছে ২৭ ঘন্টা।
তবে গোয়াইনঘাট থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাহাঙ্গীর আলম সর্দার এ প্রতিবেদককে জানান, গর্তের মালিক হেলাল সাত্তার সেলিম এবং তাৎক্ষনিক ধৃত ৩ শ্র্রমিক সহ ১১জনকে এজাজারভুক্ত করে মামলা হয়েছে। পাথর সিন্ডিকেটের সাথে আব্দুল আলিম জড়িত থাকলে তদন্তকালে তাকেও মামলায় আনা হবে। মেডিকেল কলেজের সাথে যোগাযোগ করে ফরেনসিক বিভাগের সুবিধা মত সময়ে লাশ পাঠাতে দেরী হয়েছে। মামলার এজাহার নামীয় আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
Related News
অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে গোয়াইনঘাটে মানববন্ধন
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নের উত্তর হাতিরপাড়া খাওইউড়াRead More
জৈন্তাপুরে এস্কেভেটরের নিচে চাপা পড়ে চালকের মৃত্যু
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় লরি থেকে পড়ে যাওয়া এস্কেভেটরের নিচেRead More



Comments are Closed